ঢাকা , সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo ভোটের আগে চাঙা রেমিট্যান্স, ১৮ দিনে এলো দুই বিলিয়ন ডলার Logo পাকিস্তানে ভূমিকম্পের আঘাত, কাঁপল চীন-আফগানিস্তান-তাজিকিস্তানও Logo পবিত্র শবে বরাত ৩ ফেব্রুয়ারি Logo চট্টগ্রামে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান, র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত Logo অধিকাংশ কেন্দ্র জানুয়ারির মধ্যে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে: প্রধান উপদেষ্টা Logo গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিন : প্রধান উপদেষ্টা Logo আমির হামজার সমর্থনে বক্তব্য দেয়ার সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন কুষ্টিয়া জেলা আমির Logo সংস্কারের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে : আসিফ নজরুল Logo এনসিপিকে চট্টগ্রাম-৮ আসন ছেড়ে দেওয়ার খবরে জামায়াতের ক্ষোভ Logo নির্বাচনে ময়মনসিংহ সেক্টরে দায়িত্বে থাকবে ১২৬ প্লাটুন বিজিবি ফোর্স

কালজানি নদীর বুকে গাছ ভাসার রহস্য

  • ডেসটিনি ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৪০:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৮৭ বার পড়া হয়েছে

সম্প্রতি বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে কালজানি নদীতে প্রচুর গাছ, কাঠ ও বনজ সামগ্রী ভেসে আসতে দেখা যাচ্ছে। এ দৃশ্য যেমন একদিকে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে, তেমনি প্রশ্নও উঠেছে-এত বিপুল পরিমাণ গাছপালা কোথা থেকে আসছে এবং কীভাবে এই নদীপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে?

কালজানি নদী একটি আন্তঃদেশীয় নদী। এটি ভুটানের জয়গা সীমান্ত দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার হাসিমারা হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় প্রবেশ করেছে। এই নদীর উৎস ভুটানের পাহাড়ি অঞ্চল, বিশেষ করে সিপচু ও গোমটু এলাকা। ভুটানের ফুলসিং ও আশপাশের পার্বত্য অঞ্চল দিয়ে কালজানি নদী বয়ে চলেছে। নদীটি তোরসা, জলঢাকা ও মুর্তি নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।

সম্প্রতি ভুটান এবং ভারতের পার্বত্য ও বনাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল সৃষ্টি হয়, যা পাহাড়ের মাটি দুর্বল করে ভূমিধ্বসের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। ফলে অনেক গাছ উপড়ে গিয়ে নদীতে পড়ে যায় এবং স্রোতের টানে এক দেশ থেকে আরেক দেশে প্রবাহিত হয়।

বিশেষ করে ভুটানের ঘন পাহাড়ি বনাঞ্চল এবং ভারতের আলিপুরদুয়ার, কুচবিহার, নাগরাকাটা, মালবাজার অঞ্চলের গরুমারা, জলদাপাড়া ও চিলাপাতা ফরেস্ট এলাকার গাছপালা এই বন্যার কারণে নদীপথে ভেসে আসে।

এই বনাঞ্চলগুলো দিয়ে কালজানি, তোরসা, মুর্তি ও জলঢাকা নদী প্রবাহিত হওয়ায় বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে অনেক গাছ, বাঁশ, শিকড়সহ বড় বড় কাঠ নদীতে এসে পড়ে। ভুটান ও ভারতের বনবিভাগ থেকে সাইস করা (অর্থাৎ চিহ্নিত ও রেজিস্ট্রারভুক্ত) গাছপালাও এতে রয়েছে বলে জানা গেছে। শুধু গাছপালা নয়, অনেক ক্ষেত্রে পাহাড়ি বন্যপ্রাণীরও স্রোতে ভেসে আসার খবর পাওয়া গেছে। গণ্ডার, হরিণসহ কিছু প্রাণীকে ভেসে যেতে দেখা গেছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে।

বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর এসব ভেসে আসা গাছপালা স্থানীয় জনগণের কাছে একপ্রকার আকর্ষণীয় সম্পদে পরিণত হয়েছে। অনেকে এগুলো সংগ্রহ করে কাঠ হিসেবে ব্যবহার করছেন বা বিক্রিও করছেন। তবে এটি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে এক ধরনের বিপদের ইঙ্গিত দেয়। কারণ, এর পেছনে রয়েছে মারাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্ভাবনা, যেমন ভূমিধ্বস, বন ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলের ক্ষতি।

এই ঘটনাগুলো আমাদের জন্য এক ধরনের সতর্কবার্তা। পার্বত্য অঞ্চলগুলোর বন রক্ষা, ভূমিক্ষয় প্রতিরোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট চরম আবহাওয়ার বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার এখনই সময়। আন্তঃদেশীয় সহযোগিতার মাধ্যমে এসব নদী ও বনাঞ্চল রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

 

ফরিদুল ইসলাম ফরিদ

কলামিষ্ঠ, নদী ও পরিবেশ সংগঠক

——-

আর

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটের আগে চাঙা রেমিট্যান্স, ১৮ দিনে এলো দুই বিলিয়ন ডলার

কালজানি নদীর বুকে গাছ ভাসার রহস্য

আপডেট সময় ০৪:৪০:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫

সম্প্রতি বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে কালজানি নদীতে প্রচুর গাছ, কাঠ ও বনজ সামগ্রী ভেসে আসতে দেখা যাচ্ছে। এ দৃশ্য যেমন একদিকে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে, তেমনি প্রশ্নও উঠেছে-এত বিপুল পরিমাণ গাছপালা কোথা থেকে আসছে এবং কীভাবে এই নদীপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে?

কালজানি নদী একটি আন্তঃদেশীয় নদী। এটি ভুটানের জয়গা সীমান্ত দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলার হাসিমারা হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় প্রবেশ করেছে। এই নদীর উৎস ভুটানের পাহাড়ি অঞ্চল, বিশেষ করে সিপচু ও গোমটু এলাকা। ভুটানের ফুলসিং ও আশপাশের পার্বত্য অঞ্চল দিয়ে কালজানি নদী বয়ে চলেছে। নদীটি তোরসা, জলঢাকা ও মুর্তি নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।

সম্প্রতি ভুটান এবং ভারতের পার্বত্য ও বনাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল সৃষ্টি হয়, যা পাহাড়ের মাটি দুর্বল করে ভূমিধ্বসের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। ফলে অনেক গাছ উপড়ে গিয়ে নদীতে পড়ে যায় এবং স্রোতের টানে এক দেশ থেকে আরেক দেশে প্রবাহিত হয়।

বিশেষ করে ভুটানের ঘন পাহাড়ি বনাঞ্চল এবং ভারতের আলিপুরদুয়ার, কুচবিহার, নাগরাকাটা, মালবাজার অঞ্চলের গরুমারা, জলদাপাড়া ও চিলাপাতা ফরেস্ট এলাকার গাছপালা এই বন্যার কারণে নদীপথে ভেসে আসে।

এই বনাঞ্চলগুলো দিয়ে কালজানি, তোরসা, মুর্তি ও জলঢাকা নদী প্রবাহিত হওয়ায় বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে অনেক গাছ, বাঁশ, শিকড়সহ বড় বড় কাঠ নদীতে এসে পড়ে। ভুটান ও ভারতের বনবিভাগ থেকে সাইস করা (অর্থাৎ চিহ্নিত ও রেজিস্ট্রারভুক্ত) গাছপালাও এতে রয়েছে বলে জানা গেছে। শুধু গাছপালা নয়, অনেক ক্ষেত্রে পাহাড়ি বন্যপ্রাণীরও স্রোতে ভেসে আসার খবর পাওয়া গেছে। গণ্ডার, হরিণসহ কিছু প্রাণীকে ভেসে যেতে দেখা গেছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে।

বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর এসব ভেসে আসা গাছপালা স্থানীয় জনগণের কাছে একপ্রকার আকর্ষণীয় সম্পদে পরিণত হয়েছে। অনেকে এগুলো সংগ্রহ করে কাঠ হিসেবে ব্যবহার করছেন বা বিক্রিও করছেন। তবে এটি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে এক ধরনের বিপদের ইঙ্গিত দেয়। কারণ, এর পেছনে রয়েছে মারাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্ভাবনা, যেমন ভূমিধ্বস, বন ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলের ক্ষতি।

এই ঘটনাগুলো আমাদের জন্য এক ধরনের সতর্কবার্তা। পার্বত্য অঞ্চলগুলোর বন রক্ষা, ভূমিক্ষয় প্রতিরোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট চরম আবহাওয়ার বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার এখনই সময়। আন্তঃদেশীয় সহযোগিতার মাধ্যমে এসব নদী ও বনাঞ্চল রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

 

ফরিদুল ইসলাম ফরিদ

কলামিষ্ঠ, নদী ও পরিবেশ সংগঠক

——-

আর