জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সর্বশেষ ১৯৮৭-৮৮ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল। প্রায় চার দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই নির্বাচনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন থেকে শুরু করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা ও স্বপ্ন তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনী রোডম্যাপ:
জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের নানা আন্দোলন ও দাবির মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অবশেষে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দেয়। রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী ২৭ নভেম্বর, ২০২৫ ভোট গ্রহণের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে জকসুর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা:
জকসু নির্বাচন নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের উচ্ছ্বাস ও প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন:
বিপ্লব হাসান আশিক (ইতিহাস বিভাগ): দীর্ঘ ৩৮ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে তিনি ছাত্রজীবনের প্রথম ছাত্রসংসদ নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি আশা করেন, এই নির্বাচন শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, গণতান্ত্রিক সচেতনতা ও নৈতিক দায়িত্ববোধ বাড়াবে।
ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হয়েও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে বৈষম্যের শিকার, নির্বাচিত ছাত্র সংসদ সেই বৈষম্য দূর করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। তাঁর মূল প্রত্যাশা—একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, যেখানে শিক্ষার্থীরা নির্দ্বিধায় পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে।
জোয়ায়েত ইসলাম জিহাদ (দর্শন বিভাগ, ২০ ব্যাচ): তিনি বলেন, জবি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান হলেও শিক্ষার্থীদের বাস্তবতায় স্থায়ী ক্যাম্পাসের অভাব, আবাসন ও হল সংকট, পরিবহনের ঘাটতি, অতিরিক্ত ফি, মানসম্মত ক্যাফেটেরিয়ার অভাব, গবেষণা কার্যক্রমে পশ্চাৎপদতা সহ অসংখ্য সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একটি কার্যকরী ও প্রাণবন্ত জকসু গঠিত হলে এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবে।
সুমিয়া আক্তার (ইসলামিক হিস্ট্রি ও কালচার বিভাগ, ২০ ব্যাচ): একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি যোগ্য, সৎ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব প্রত্যাশা করেন। তাঁর মতে, জকসুতে যেন কাজের মাধ্যমে প্রমাণ দেওয়া নেতৃত্ব আসুক, যারা শুধু নাম বা জনপ্রিয়তার পিছনে ছুটবে না। তিনি বলেন, ভোট যেন ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব পালনের প্রতীক হয় এবং কর্মক্ষমতার ওপর ভিত্তি করেই ভোট দেওয়া উচিত, রাজনৈতিক প্রভাবে নয়।
সাদিয়া আক্তার (দর্শন বিভাগ, ২০ ব্যাচ): জকসুর রোডম্যাপ ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা আনন্দিত। তাঁর আশা, জকসুর মাধ্যমেই প্রিয় ক্যাম্পাসের সকল সমস্যা, বিশেষ করে আবাসনের অসুবিধা দূর হবে।
শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, জকসু নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নত করতে এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এএস/

শহিদুল ইসলাম সভাপতি ও খুরশীদ আলম সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত
জবি প্রতিনিধি 





























