তুরাগ থানা ছাত্র শিবিরের সাবেক নেতা ও বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের বর্তমান সদস্য সচিব মোস্তফা জামান ও তারই ভাগিনা আফাজের বিরুদ্ধে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে ৫ পৃষ্ঠার একটি বিশদ অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে উত্তরা ও গাজীপুরের প্রায় শতাধিক আলীগারকে শেল্টার দিয়ে প্রতিমাসে ৩৫ লক্ষ টাকা চাদাবাজি করছেন। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এর মাধ্যমে এই অভিযোগটি তারেক রহমানের কাছে পাঠানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ঢাকা উত্তর বিএনপির সদ্য নিযুক্ত সদস্য সচিব হাজী মোস্তফা জামান একজন সাবেক শিবির নেতা, তিনি একসময় তুরাগ থানা ছাত্র শিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার পরিবারের বাবা এবং মায়ের দিকে আত্মীয়-স্বজন প্রায় সকলেই জামাত ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।
পরিবারের মধ্যে তিনিই একমাত্র সদস্য যিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত এবং মহানগর উত্তর বিএনপির একজন বড় নেতা। হাজী মোস্তাফা জামানের পরিবারটি একান্নবর্তী পরিবার। চার ভাই তিন বোনের মধ্যে মোস্তফা সবার বড়। মোস্তফার এক ভাই ফিরোজ জামান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত, ফিরোজামানের স্ত্রী উত্তরা ৫১ নং ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগের সভাপতি এবং বৈষম্য বিরোধী হত্যার ৩টি মামলার আসামি।
ফিরোজের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা থাকলেও তিনি এখন মোস্তফার সেল্টারে আছেন এবং ৫ আগষ্টের পর উত্তরা ১১ নং সেক্টর কল্যাণ সমিতির সভাপতি পদ দখল করেছেন। মোস্তফার অপর দুই ভাই সুরুজ্জামান ও খালিদুজ্জামান জামাত ইসলামের পদধারী নেতা। সুরুজ্জামান ৫৩ নং ওয়ার্ডের জামাত মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী।
মোস্তফার একজন বোন জামাই হাজী আরব আলী তুরাগ থানা জামাতের নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপর বোনের একমাত্র ছেলেও জামাতের রাজনীতিতে জড়িত। এছাড়া মোস্তফার বাবার দিকের সকল আত্মীয়-স্বজন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং বিভিন্ন ইউনিটের পদধারী নেতা। মোস্তফার পরিবারটি জামাতের সাথে এতটাই ঘনিষ্ঠ যে, নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে ২০০১ সালের পর তিন বিঘা জমি ইসলামী ছাত্র শিবিরের কাছে নাম মাত্র মুল্যে বিক্রি করে।
তুরাগ এলাকাটি আওয়ামী অধ্যষিত হওয়ায় খুব সহজেই তুরাগ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হয়ে যান মোস্তফা । বিএনপির অনেকের মতে শুধুমাত্র সম্পত্তি রক্ষা ও হাতিয়ে নেওয়ার জন্য মোস্তফা বিএনপির সাথে যুক্ত হয়। এটা পরিবারিক সিদ্ধান্ত নিয়েই করেছেন বলে জনশ্রুতি আছে।
মহানগরীর সদস্য সচিব হওয়ার পর দলের জন্য কিছু করতে না পারলেও নিজের সমস্যা যুক্ত জায়গা জমিগুলোর কাগজপত্র ঠিকঠাক করার কাজটি সঠিক ভাবেই শেষ করেছেন তিনি। ইতিমধ্যে রুপায়ন সিটিতে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে প্রায় ৬০ কাটা জমিতে মালিকানা দাবি করছেন মোস্তফা। এটি নিয়ে কোম্পানির সাথে দলীয় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন তিনি।
অভিযোগে জানাগেছে, গত সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচন করে ৪০ হাজার ভোটের মধ্যে মাত্র ২৩ শ ভোট পায় মোস্তফা যা আওয়ামী লীগের পরাজিত বিদ্রোহী প্রার্থী থেকে ১২ শ ভোট কম।
স্বভাবে চরিত্রে মোস্তফা সততার লেবাস ধরে চললেও সে বিশেষ দূর্ত প্রকৃতির খারাপ লোক। এলাকায় ভুমি খেকু হিসেবে পরিচিত মোস্তফার বিশেষ দক্ষতা হলো যে কোন বিষয়ে কোট কাচারি করে অসহায় মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি লিখে নেওয়া। মামলাবাজ মোস্তফার জমি কেনার জন্য টার্গেটে রাখতেন বংশের মেয়েদের সম্পত্তি ও গরীব লোকের জায়গা জমি।
বৃহত্তর উত্তরায় মোস্তফার নামে বেনামে প্রায় ৭ শ শতাংশ জমি এবং বিশটির মতো রাজউক প্লট আছে। তৈরীকৃত বাড়ী আছে আরো ১০/১২টি। রাজধানীর গুলশান বনানী ও উত্তরাতে নামে বেনামে ফ্ল্যাট আছে ১০ টিরও বেশী। এসব সম্পত্তির বেশীর ভাগই এলাকার গরীব মানুষের এবং নিজ বংশের মেয়েদের সম্পত্তি নাম মাত্র মুল্যে কেনা।
শোনা যায়, পৈত্রিক সম্পত্তির বাদে প্রায় ৫০০ শতাংশ জমি ঠকবাজি করেই হাতিয়ে নেয় সে। শুধু নামমাত্র মুল্যে দিয়ে মোস্তফা একশতক জায়গাও খরিদ করেননি বলে দাবি করেন তার এক আত্মীয়।
দলের মহানগর উত্তর কমিটির সদস্য সচিব পদ পাওয়ার পর থেকেই আরো সম্পদের নেশা পেয়ে বসেছে মোস্তফা মেম্বারের। পদ পাওয়ার পরই রাজউকে প্রভাব খাটিয়ে সোনারগা জনপদ রোডে ১০ কাঠার একটি প্লট বাগিয়ে নেয় সে। রাজউকের মামলা যুক্ত প্লটটি দীর্ঘ দিন দখলে রাখার পর নিজের নামে নিতে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। জমিটি নিজের নামে নিয়েই খান্ত হননি, আইন লঙ্ঘন করে লোহা লক্কর দিয়ে অবৈধ ভবন করে কাচাবাজার গড়ে তুলেছেন মোস্তফা। সেই সাথে রুপায়নের সাথে ঝামেলা যুক্ত প্রায় ৬০ কাঠা জমির ভুয়া কাগজ পত্র শুদ্ধ করে নিয়েছেন পদ পদবির জোরে।
রুপায়ন সূত্র জানায়, মোস্তফা ২০০১ সালে রুপায়নের জন্য জায়গা কেনার দালাল হিসেবে কাজ শুরু করেন। মানুষের কাজ থেকে জমি কেনার জন্য রুপায়ন থেকে টাকা নিলেও ভয়াবহ প্ররতারনার আশ্রয় নেয় মোস্তফা। রুপায়নের টাকা দিয়ে প্রথমে জমি গুলো নিজ নামে বায়না দলিল করে রেজিষ্ট্রেশন করে নেন। পরে জমি ওয়ালাকে ভুল বুঝিয়ে বেশী টাকার লোভ দেখিয়ে একই জমি রুপায়নকে আবার লিখে দিতেন। তবে নিজ নামে সম্পাদিত দলিল বা বায়নার তথ্যটি গোপন রাখতো সে।
এছাড়া নিজের ভাই আত্মীয়দের বিক্রি করা অনেক জমি তিনি আগে কিনেছেন দাবি করে টুনকো মিথ্যা মামলা দায়ের করে অনেক জমি দখলের অভিযোগ আছে মোস্তফার বিরুদ্ধে। নিস্কন্টক জমিতে ভুয়া মালিকানা দাবি করে অনেক জমি নিজের করার রেকর্ডও আছে তার বিরুদ্ধে। ঝামেলা বাধিয়ে প্রকৃত মুল্যের মাত্র ১০-২০ শতাংশ টাকা দিয়েই জমি নিজের করে নিতেন। নগরি সদস্য সচিব পদ পাওয়া পর উত্তরা ১০ নং সেক্টরে এক মহিলা নাম মাত্র মুল্যে দিয়ে কেনা দুই বিঘা জমির উপর ১০ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে তার।
মোস্তফার ভাগিনা আফাজ উদ্দিন বিএনপি করলেও তাকে নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট বিতর্ক। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফাজ উদ্দিন ও ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভাপতি রুনা লায়লা সম্প্রতি একটি বেসরকারি হাসপাতালের কেবিনে অপকর্ম করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়েছে। তার বিরুদ্ধে দলীয় স্বজনপ্রতীতি এবং সেচ্ছাচারিতার অভিযোগ বেশ জোরালো।
স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম এবং চাদাবাজির বিষয়গুলোতে দলের পক্ষে জিরো টলারেন্স এর কথা বলা হলেও মোস্তফার পক্ষে থাকা সব চাঁদাবাজ, দখলবাজ ও মাদক কারবারিরা নিরাপদেই দখল বাণিজ্য করে যাচ্ছেন।
এছাড়া আওয়ামী লীগারদের সেল্টার দেওয়ার ক্ষেত্রে মোস্তফার মতো এত বড় আশ্রয়স্থল উত্তরায় আর একটিও নাই। তার ভাই ভাতিজা ও বন্ধু আওয়ামী লীগার লোকগুলো এখন রীতিমতো মোস্তফার সেন্টারে আছে। তাদের সহায় সম্পতি দেখবালের দায়িত্বও কাঁধে নিয়েছেন তিনি।
এরকম সেন্টার দেওয়া লোকজনের তালিকা প্রায় শতাধিকের বেশী। এসব আলীগারদের সহায় সম্পতি সেল্টার দিয়ে প্রতিমাসে প্রায় ৩০/৩৫ লক্ষ টাকা চাদাবাজি করছে। এছাড়া সদস্য সচিব হিসেবে নানা তদবির বাণিজ্য করছেন তারই ভাগিনা আফাজ।
ঢাকা -১৮ এর জনগন মোস্তফা ও আফাজ উদ্দিনের অত্যাচার থেকে রেহায় চান ঢাকা-১৮ আসনবাসী।
এএস/

আগামীকাল লন্ডনে বিদায় সংবর্ধনা তারেক রহমানের
নিজস্ব প্রতিবেদক 























