ঢাকা , রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo শহিদুল ইসলাম সভাপতি ও খুরশীদ আলম সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত Logo ২০২৬ বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা করল ফিফা Logo দেশীয় চিনির মজুত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদেশ থেকে আমদানি বন্ধ: শিল্প উপদেষ্টা Logo খালেদা জিয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসার অনুমতি চাইল মঙ্গলবার Logo গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এখনও অর্জিত হয়নি: কাতারের প্রধানমন্ত্রী Logo পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ৪০ হাজার মানুষের জন্য রান্না হচ্ছে বিরিয়ানি Logo আগামী নির্বাচনী ইশতেহার হবে মানুষের মুক্তির সনদ Logo পীরগঞ্জের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo লালমনিরহাট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিলের দাবিতে হরিজন সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ Logo ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ রাজৈরের যুবক ছামির শেখ, পরিবারে মাতম

শীতকালে ভ্রমণের জনপ্রিয় কয়েকটি স্থান

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৪:১৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ১১২ বার পড়া হয়েছে

সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। ছোটবেলা থেকেই আমরা দেশের এই অপরূপ সৌন্দর্যের কথা শুনে বড় হয়েছি। বালুময় মরুভূমি আর বরফ ছাড়া প্রকৃতির প্রায় সব রূপ নিয়ে সবুজের ঘাগরা গায়ে আমাদের দেশ ভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন সাজে সেজে ওঠে। সেই সৌন্দর্যের টানে অগ্রাহ্য করা কঠিন। বিশেষ করে শীতের ছুটির মৌসুমে ঘরের উষ্ণতা ছেড়ে পরিবার-বন্ধুদের নিয়ে দেশের পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখার আনন্দই আলাদা। তাই চলুন, শীতকালে ঘোরার জন্য দেশের দশটি জনপ্রিয় জায়গা সম্পর্কে জেনে নিই।

১. কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত
বাংলাদেশের বিশ্ব দরবারে পরিচয়ের এক অন্যতম পরিবাহক হলো পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। শীতকালে সমুদ্রের পাড়ে বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় দেখা যায়। এখানে সামুদ্রিক আবহাওয়ার জন্য ঠান্ডার প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকে। আর সাগরের ঢেউয়ের বিশালতায় হারিয়ে যেতে চাইলে শীতকালে কক্সবাজার বেড়াতে আসার জুড়ি নেই। এছাড়া মেরিন ড্রাইভের সুবিশাল রাস্তা কক্সবাজারে যোগ করেছে ভ্রমনের বাড়তি আকর্ষণ। লাবনী ও সুগন্ধা সমুদ্র সৈকত ছাড়াও মেরিন ড্রাইভের রাস্তা ধরে টেকনাফের দিকে আগালে দেখা পাওয়া যাবে হিমছড়ি, ইনানি, পাটুয়ারটেক, শামলাপুর, সাবরাং এর মত জায়গা।

২. সেন্টমার্টিন দ্বীপ
দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন শীতকালে ভ্রমণের জন্য একটি আদর্শ জায়গা। স্থানীয়ভাবে নারিকেল জিঞ্জিরা নামে পরিচিত এই দ্বীপ। শুধুমাত্র শীতকালেই সাগর পাড়ি দিয়ে এই দ্বীপে যাওয়ার পরিবহন ব্যবস্থা অনুকূলে থাকে। মাত্র ১৬ বর্গ কিলোমিটারের দ্বীপটিতে যেন নীল রঙের নতুন এক সংজ্ঞা জানা যায়। সৈকতের কোল ঘেঁষে সারি সারি নারিকেলের গাছ, নীল আকাশের দিগন্তে নীল জলরাশির মিশেল আর প্রবাল পাথরের অপরূপ দৃশ্য বাংলাদেশের অন্য কোথাও দেখতে পাওয়া যায়না। পুরো দ্বীপটি বৈচিত্র্যতার খনি। জেলেপাড়া, শুটকিপাড়া ও এলাকার নানা দিনযাপনের কাজ পর্যবেক্ষণ ভ্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করে। এছাড়া সাগরের কূল ঘেষে রিসোর্টে থাকার অভিজ্ঞতা ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের।

৩. সুন্দরবন
শুধু পাহাড় কিংবা সমুদ্র নয়, শীতকালে ঘুরবার জন্য বনভূমিও আলাদাভাবে সৌন্দর্যপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। ইউনেস্কো কতৃক বিশ্ব ঐতিহ্যে জায়গা করে নেওয়া প্রায় ৬ হাজার বর্গ কিলোমিটারের এই সুবিশাল ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলটি ওয়াইল্ড লাইফ প্রেমীদের কাছে যেন এক স্বর্গের নাম। সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, কুমির, বানর সহ নানা বৈচিত্র্যময় প্রানীকুলের দেখা মিলে। ৩৩০ প্রজাতির ছোট বড় গাছের সাম্রাজ্য এই সুন্দরবনে কটকা, কচিখালী, হিরনপয়েন্ট, কোকিলমণি, দুবলার চর, পুটনি দ্বীপ ও মান্দার বাড়িয়াসহ নানান দর্শনীয় জায়গা রয়েছে। জাহাজে করে করে গহীন বনে ভ্রমণ, গা ছমছমে এলাকায় বাঘের খোঁজে ভয়ে ভয়ে মাটিতে পা রাখা নিশ্চিতভাবে আপনার ভ্রমণে বাড়তি অ্যাডভেঞ্চারের যোগান দিবে।

৪. সাজেক ভ্যালি
বর্তমানে রাঙ্গামাটি জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থানের নাম সাজেক ভ্যালি। রাঙ্গামাটির ছাদ খ্যাত সাজেক ভ্যালি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। সাজেকের অবস্থান রাঙামাটি জেলায় হলেও ভৌগলিক কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাজেক যাতায়াত অনেক সহজ। চারপাশে মনোরম পাহাড় সারি, সাদা তুলোর মত মেঘের ভ্যালি আপনাকে মুগ্ধ করবেই। সাজেক এমনই আশ্চর্য্যজনক জায়গা যেখানে একই দিনে প্রকৃতির তিন রকম রূপের সান্নিধ্যে আপনি হতে পারেন চমৎকৃত। কখনো বা খুব গরম অনুভূত হবে তারপর হয়তো হটাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাবেন কিংবা চোখের পলকেই মেঘের ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাবে আপনার চারপাশ। প্রাকৃতিক নিসর্গ আর তুলোর মত মেঘের পাহাড় থেকে পাহাড়ে উড়াউড়ির খেলা দেখতে সাজেক আদর্শ জায়গা।

৫. কুয়াকাটা
পাহাড়, বন ঘুরে যদি মন সাগরের পানে ছুটে যেতে চায় তবে সাগরকন্যা কুয়াকাটা আছে আপনার অপেক্ষায়। কুয়াকাটা এমন এক বিশেষ স্থান যার একই জায়গা হতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উভয়ই দেখা যায়। এছাড়া শুটকি পল্লী, ফাতরার বন, গঙ্গামতির জংগল ও লাল কাঁকড়ার দ্বীপ কুয়াকাটার অন্যতম আকর্ষণ। পরিচ্ছন্ন বেলাভূমি, অনিন্দ্য সুন্দর সমুদ্র সৈকত, দিগন্তজোড়া সুনীল আকাশ এবং ম্যানগ্রুভ বন কুয়াকাটাকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। পদ্মা সেতু হবার কারণে ঢাকা ও আশপাশ থেকে কুয়াকাটায় বাসে ভ্রমণ এখন অনেক সহজ।

৬. শ্রীমঙ্গল
চায়ের শহর শ্রীমঙ্গল কিন্তু শীতকালে ভ্রমণের জন্য দারুণ এক জায়গা। চা বাগানের বাংলোতে বসে চা গাছে ঘিরে থাকা পরিবেশে শীতের হিম হাওয়া মেখে গরম চায়ের পেয়ালা হাতে বসে থাকা অদ্ভুত রোমাঞ্চের জন্ম দেয়। বনপ্রেমিদেরও হতাশ হওয়ার কারণ নেই। বাইক্কা বিলের পাখির অভয়াশ্রম কিংবা লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে জীববৈচিত্র দেখতে দেখতে কখন যে ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যাবে বুঝতেই পারবেন না। কোনে এক ছুটির দিনে পরিবার বা বন্ধুবান্ধব মিলে শ্রীমঙ্গলের ইকো রিসোর্ট গুলোতে বেড়াতে গেলে ভালো লাগবে অবশ্যই।

৭. বান্দরবান
মেঘ ছোঁয়ার কথা মনে আসতেই যে স্থানটির কথা মাথায় আসে তা হলো বান্দরবান। শীতকালে পার্বত্য জেলা বান্দরবান ঘুরবার অন্যরকম আবেদন দেখা যায়। সাঙ্গু নদীর পাশে গড়ে ওঠা পাহাড়ের সারি নিয়ে বান্দরবান মেঘকে মাথায় নিয়ে পর্যটকদের হাতছানি দেয়। আদিবাসী বোমাং রাজার বাড়ি থেকে শুরু করে স্বর্ণ মন্দির, নীলাচল, নীলগিরি, মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স, চিম্বুক পাহাড়, শৈল প্রপাত, আদিবাসীদ গ্রাম, ভ্রাম্যমাণ বাজার ইত্যাদি সমস্ত কিছু বান্দরবানকে ভ্রমণের দিক থেকে যেমন সমৃদ্ধ করেছে তেমনি বাংলাদেশের সকল স্থান থেকে করেছে অনন্য।

৮. রাঙ্গামাটি
‘রাঙ্গামাটির পথে লো, মাদল বাজে – বাজে বাঁশের বাঁশি’। মাদল আর বাঁশির সুরে ঘেরা রাঙামাটি বাংলাদেশের উপজাতিদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের জানান দিতে নিজ বুকে দাঁড় করিয়েছে উপজাতীয় জাদুঘর। জাদুঘরের কাছেই আছে চাকমা রাজার বাড়ি ও বৌদ্ধদের তীর্থস্থান রাজবন বিহার। তবে রাঙ্গামাটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে ঝুলন্ত সেতু। সিম্বল অফ রাঙ্গামাটি খ্যাত ঝুলন্ত সেতু দেখবার জন্য অসংখ্য মানুষ এখানে প্রতি বছর বেড়াতে আসেন। নৌকায় করে কাপ্তাই লেক ভ্রমণ ও শুভলং ঝর্ণায় যাবার পথ মুগ্ধ করবেই শীতকালে এই ঝর্ণা মনোরম পর্যায়ে না থাকলেও যাত্রা পথে পাহাড়ি আদিবাসী খাবারের স্বাদ নেবার জন্য নামকরা কিছু রেস্তোরা পাবেন।

৯. বাগেরহাট
সুন্দরবন দেখতে গেলে বাগেরহাট জেলাকে ভ্রমণ পরিকল্পনায় যুক্ত করে নেয়া যায়। বাগেরহাটে অবস্থিত প্রাচীন মসজিদের মধ্যে আছে ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ, নয় গম্বুজ মসজিদ, জিন্দাপীর মসজিদ, সিংরা মসজিদ, রণবিজয়পুর মসজিদ, চুনাখোলা মসজিদ এবং হজরত খান জাহান আলীর সমাধিসৌধ। প্রাচীন ইতিহাসের পাশাপাশি এসব মসজিদের নির্মাণশৈলী মনকে অভিভূত করে।

১০. সোনাদিয়া দ্বীপ
শীতকালে ক্যাম্পিং করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। আর এই জন্যে বেচে নিতে পারেন বাংলাদেশের উপকূলের কোন নির্জন দ্বীপ। কক্সবাজারের মহেশখালি উপজেলার ৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের সোনাদিয়া দ্বীপ (Sonadia Island) ক্যাম্পিং করার জন্য আদর্শ জায়গা। এ দ্বীপের ৩ দিক থেকে আছে সমুদ্র সৈকত, আছে জীব বৈচিত্রের পরিপূর্ণ জলাবন, ছোট বড় খালের সমন্বয়ে প্যারাবন, সাগর লতায় ঢাকা বালিয়াড়ি এবং বিচিত্র প্রজাতির জলচর পাখি।

শীতে বেড়ানোর আরও কিছু জায়গা
উপরের জায়গা গুলো ছাড়াও শীতকালে বেড়ানোর উপযুক্ত জায়গা গুলোর মধ্যে আছে বিভিন্ন চর ও দ্বীপ অঞ্চল যেমন; মনপুরা দ্বীপ ও নিঝুম দ্বীপ। শীতকালেই অতিথি পাখির আগমন ঘটে এই দেশে তাই শীতকালে যেতে পারেন হাওর অঞ্চলে যেমন; টাঙ্গুয়ার হাওর, অষ্টগ্রাম ও মিঠামইন হাওর, হাকালুকি হাওর ইত্যাদি। এছাড়া শীতের আমেজ পেতে প্রকৃতির খুব কাছ থেকে পেতে বেড়িয়ে আসতে পারেন মৌলভীবাজার বা গাজীপুরের মত জায়গার ইকো রিসোর্ট গুলো থেকে।

এই শীতে কোন জায়গায় আপনি ভ্রমণে যেতে চান? আপনার পছন্দের গন্তব্যে যাওয়ার বিস্তারিত সকল তথ্য রয়েছে ভ্রমণ গাইডের তথ্য ভাণ্ডারে। সেই সাথে আপনার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। আপনার ভ্রমণের জন্য রইলো নিরন্তর শুভ কামনা।

 

তথ্যসূত্রঃ ভ্রমণ গাইড

আর

শহিদুল ইসলাম সভাপতি ও খুরশীদ আলম সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত

শীতকালে ভ্রমণের জনপ্রিয় কয়েকটি স্থান

আপডেট সময় ০৪:১৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। ছোটবেলা থেকেই আমরা দেশের এই অপরূপ সৌন্দর্যের কথা শুনে বড় হয়েছি। বালুময় মরুভূমি আর বরফ ছাড়া প্রকৃতির প্রায় সব রূপ নিয়ে সবুজের ঘাগরা গায়ে আমাদের দেশ ভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন সাজে সেজে ওঠে। সেই সৌন্দর্যের টানে অগ্রাহ্য করা কঠিন। বিশেষ করে শীতের ছুটির মৌসুমে ঘরের উষ্ণতা ছেড়ে পরিবার-বন্ধুদের নিয়ে দেশের পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখার আনন্দই আলাদা। তাই চলুন, শীতকালে ঘোরার জন্য দেশের দশটি জনপ্রিয় জায়গা সম্পর্কে জেনে নিই।

১. কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত
বাংলাদেশের বিশ্ব দরবারে পরিচয়ের এক অন্যতম পরিবাহক হলো পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। শীতকালে সমুদ্রের পাড়ে বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় দেখা যায়। এখানে সামুদ্রিক আবহাওয়ার জন্য ঠান্ডার প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকে। আর সাগরের ঢেউয়ের বিশালতায় হারিয়ে যেতে চাইলে শীতকালে কক্সবাজার বেড়াতে আসার জুড়ি নেই। এছাড়া মেরিন ড্রাইভের সুবিশাল রাস্তা কক্সবাজারে যোগ করেছে ভ্রমনের বাড়তি আকর্ষণ। লাবনী ও সুগন্ধা সমুদ্র সৈকত ছাড়াও মেরিন ড্রাইভের রাস্তা ধরে টেকনাফের দিকে আগালে দেখা পাওয়া যাবে হিমছড়ি, ইনানি, পাটুয়ারটেক, শামলাপুর, সাবরাং এর মত জায়গা।

২. সেন্টমার্টিন দ্বীপ
দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন শীতকালে ভ্রমণের জন্য একটি আদর্শ জায়গা। স্থানীয়ভাবে নারিকেল জিঞ্জিরা নামে পরিচিত এই দ্বীপ। শুধুমাত্র শীতকালেই সাগর পাড়ি দিয়ে এই দ্বীপে যাওয়ার পরিবহন ব্যবস্থা অনুকূলে থাকে। মাত্র ১৬ বর্গ কিলোমিটারের দ্বীপটিতে যেন নীল রঙের নতুন এক সংজ্ঞা জানা যায়। সৈকতের কোল ঘেঁষে সারি সারি নারিকেলের গাছ, নীল আকাশের দিগন্তে নীল জলরাশির মিশেল আর প্রবাল পাথরের অপরূপ দৃশ্য বাংলাদেশের অন্য কোথাও দেখতে পাওয়া যায়না। পুরো দ্বীপটি বৈচিত্র্যতার খনি। জেলেপাড়া, শুটকিপাড়া ও এলাকার নানা দিনযাপনের কাজ পর্যবেক্ষণ ভ্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করে। এছাড়া সাগরের কূল ঘেষে রিসোর্টে থাকার অভিজ্ঞতা ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের।

৩. সুন্দরবন
শুধু পাহাড় কিংবা সমুদ্র নয়, শীতকালে ঘুরবার জন্য বনভূমিও আলাদাভাবে সৌন্দর্যপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। ইউনেস্কো কতৃক বিশ্ব ঐতিহ্যে জায়গা করে নেওয়া প্রায় ৬ হাজার বর্গ কিলোমিটারের এই সুবিশাল ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলটি ওয়াইল্ড লাইফ প্রেমীদের কাছে যেন এক স্বর্গের নাম। সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, কুমির, বানর সহ নানা বৈচিত্র্যময় প্রানীকুলের দেখা মিলে। ৩৩০ প্রজাতির ছোট বড় গাছের সাম্রাজ্য এই সুন্দরবনে কটকা, কচিখালী, হিরনপয়েন্ট, কোকিলমণি, দুবলার চর, পুটনি দ্বীপ ও মান্দার বাড়িয়াসহ নানান দর্শনীয় জায়গা রয়েছে। জাহাজে করে করে গহীন বনে ভ্রমণ, গা ছমছমে এলাকায় বাঘের খোঁজে ভয়ে ভয়ে মাটিতে পা রাখা নিশ্চিতভাবে আপনার ভ্রমণে বাড়তি অ্যাডভেঞ্চারের যোগান দিবে।

৪. সাজেক ভ্যালি
বর্তমানে রাঙ্গামাটি জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থানের নাম সাজেক ভ্যালি। রাঙ্গামাটির ছাদ খ্যাত সাজেক ভ্যালি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। সাজেকের অবস্থান রাঙামাটি জেলায় হলেও ভৌগলিক কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাজেক যাতায়াত অনেক সহজ। চারপাশে মনোরম পাহাড় সারি, সাদা তুলোর মত মেঘের ভ্যালি আপনাকে মুগ্ধ করবেই। সাজেক এমনই আশ্চর্য্যজনক জায়গা যেখানে একই দিনে প্রকৃতির তিন রকম রূপের সান্নিধ্যে আপনি হতে পারেন চমৎকৃত। কখনো বা খুব গরম অনুভূত হবে তারপর হয়তো হটাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাবেন কিংবা চোখের পলকেই মেঘের ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাবে আপনার চারপাশ। প্রাকৃতিক নিসর্গ আর তুলোর মত মেঘের পাহাড় থেকে পাহাড়ে উড়াউড়ির খেলা দেখতে সাজেক আদর্শ জায়গা।

৫. কুয়াকাটা
পাহাড়, বন ঘুরে যদি মন সাগরের পানে ছুটে যেতে চায় তবে সাগরকন্যা কুয়াকাটা আছে আপনার অপেক্ষায়। কুয়াকাটা এমন এক বিশেষ স্থান যার একই জায়গা হতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উভয়ই দেখা যায়। এছাড়া শুটকি পল্লী, ফাতরার বন, গঙ্গামতির জংগল ও লাল কাঁকড়ার দ্বীপ কুয়াকাটার অন্যতম আকর্ষণ। পরিচ্ছন্ন বেলাভূমি, অনিন্দ্য সুন্দর সমুদ্র সৈকত, দিগন্তজোড়া সুনীল আকাশ এবং ম্যানগ্রুভ বন কুয়াকাটাকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। পদ্মা সেতু হবার কারণে ঢাকা ও আশপাশ থেকে কুয়াকাটায় বাসে ভ্রমণ এখন অনেক সহজ।

৬. শ্রীমঙ্গল
চায়ের শহর শ্রীমঙ্গল কিন্তু শীতকালে ভ্রমণের জন্য দারুণ এক জায়গা। চা বাগানের বাংলোতে বসে চা গাছে ঘিরে থাকা পরিবেশে শীতের হিম হাওয়া মেখে গরম চায়ের পেয়ালা হাতে বসে থাকা অদ্ভুত রোমাঞ্চের জন্ম দেয়। বনপ্রেমিদেরও হতাশ হওয়ার কারণ নেই। বাইক্কা বিলের পাখির অভয়াশ্রম কিংবা লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে জীববৈচিত্র দেখতে দেখতে কখন যে ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যাবে বুঝতেই পারবেন না। কোনে এক ছুটির দিনে পরিবার বা বন্ধুবান্ধব মিলে শ্রীমঙ্গলের ইকো রিসোর্ট গুলোতে বেড়াতে গেলে ভালো লাগবে অবশ্যই।

৭. বান্দরবান
মেঘ ছোঁয়ার কথা মনে আসতেই যে স্থানটির কথা মাথায় আসে তা হলো বান্দরবান। শীতকালে পার্বত্য জেলা বান্দরবান ঘুরবার অন্যরকম আবেদন দেখা যায়। সাঙ্গু নদীর পাশে গড়ে ওঠা পাহাড়ের সারি নিয়ে বান্দরবান মেঘকে মাথায় নিয়ে পর্যটকদের হাতছানি দেয়। আদিবাসী বোমাং রাজার বাড়ি থেকে শুরু করে স্বর্ণ মন্দির, নীলাচল, নীলগিরি, মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স, চিম্বুক পাহাড়, শৈল প্রপাত, আদিবাসীদ গ্রাম, ভ্রাম্যমাণ বাজার ইত্যাদি সমস্ত কিছু বান্দরবানকে ভ্রমণের দিক থেকে যেমন সমৃদ্ধ করেছে তেমনি বাংলাদেশের সকল স্থান থেকে করেছে অনন্য।

৮. রাঙ্গামাটি
‘রাঙ্গামাটির পথে লো, মাদল বাজে – বাজে বাঁশের বাঁশি’। মাদল আর বাঁশির সুরে ঘেরা রাঙামাটি বাংলাদেশের উপজাতিদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের জানান দিতে নিজ বুকে দাঁড় করিয়েছে উপজাতীয় জাদুঘর। জাদুঘরের কাছেই আছে চাকমা রাজার বাড়ি ও বৌদ্ধদের তীর্থস্থান রাজবন বিহার। তবে রাঙ্গামাটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে ঝুলন্ত সেতু। সিম্বল অফ রাঙ্গামাটি খ্যাত ঝুলন্ত সেতু দেখবার জন্য অসংখ্য মানুষ এখানে প্রতি বছর বেড়াতে আসেন। নৌকায় করে কাপ্তাই লেক ভ্রমণ ও শুভলং ঝর্ণায় যাবার পথ মুগ্ধ করবেই শীতকালে এই ঝর্ণা মনোরম পর্যায়ে না থাকলেও যাত্রা পথে পাহাড়ি আদিবাসী খাবারের স্বাদ নেবার জন্য নামকরা কিছু রেস্তোরা পাবেন।

৯. বাগেরহাট
সুন্দরবন দেখতে গেলে বাগেরহাট জেলাকে ভ্রমণ পরিকল্পনায় যুক্ত করে নেয়া যায়। বাগেরহাটে অবস্থিত প্রাচীন মসজিদের মধ্যে আছে ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ, নয় গম্বুজ মসজিদ, জিন্দাপীর মসজিদ, সিংরা মসজিদ, রণবিজয়পুর মসজিদ, চুনাখোলা মসজিদ এবং হজরত খান জাহান আলীর সমাধিসৌধ। প্রাচীন ইতিহাসের পাশাপাশি এসব মসজিদের নির্মাণশৈলী মনকে অভিভূত করে।

১০. সোনাদিয়া দ্বীপ
শীতকালে ক্যাম্পিং করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। আর এই জন্যে বেচে নিতে পারেন বাংলাদেশের উপকূলের কোন নির্জন দ্বীপ। কক্সবাজারের মহেশখালি উপজেলার ৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের সোনাদিয়া দ্বীপ (Sonadia Island) ক্যাম্পিং করার জন্য আদর্শ জায়গা। এ দ্বীপের ৩ দিক থেকে আছে সমুদ্র সৈকত, আছে জীব বৈচিত্রের পরিপূর্ণ জলাবন, ছোট বড় খালের সমন্বয়ে প্যারাবন, সাগর লতায় ঢাকা বালিয়াড়ি এবং বিচিত্র প্রজাতির জলচর পাখি।

শীতে বেড়ানোর আরও কিছু জায়গা
উপরের জায়গা গুলো ছাড়াও শীতকালে বেড়ানোর উপযুক্ত জায়গা গুলোর মধ্যে আছে বিভিন্ন চর ও দ্বীপ অঞ্চল যেমন; মনপুরা দ্বীপ ও নিঝুম দ্বীপ। শীতকালেই অতিথি পাখির আগমন ঘটে এই দেশে তাই শীতকালে যেতে পারেন হাওর অঞ্চলে যেমন; টাঙ্গুয়ার হাওর, অষ্টগ্রাম ও মিঠামইন হাওর, হাকালুকি হাওর ইত্যাদি। এছাড়া শীতের আমেজ পেতে প্রকৃতির খুব কাছ থেকে পেতে বেড়িয়ে আসতে পারেন মৌলভীবাজার বা গাজীপুরের মত জায়গার ইকো রিসোর্ট গুলো থেকে।

এই শীতে কোন জায়গায় আপনি ভ্রমণে যেতে চান? আপনার পছন্দের গন্তব্যে যাওয়ার বিস্তারিত সকল তথ্য রয়েছে ভ্রমণ গাইডের তথ্য ভাণ্ডারে। সেই সাথে আপনার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। আপনার ভ্রমণের জন্য রইলো নিরন্তর শুভ কামনা।

 

তথ্যসূত্রঃ ভ্রমণ গাইড

আর