* হাসপাতালটিতে সরকার নির্ধারিত ৩৯৬টি পদের মধ্যে ২৫৪টিই পদ শূন্য রয়েছে
* মাত্র ১৪২ জন কর্মী নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে, চিকিৎসা না পেয়ে সিলেটে ছুটছেন রোগীরা
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে জনবল সংকটে চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। হাসপাতালটিতে সরকার নির্ধারিত ৩৯৬টি পদের মধ্যে ২৫৪টিই শূন্য রয়েছে, যা মোট জনবলের প্রায় ৬৫ শতাংশ। মাত্র ১৪২ জন কর্মী নিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে জেলার প্রধান এই চিকিৎসাকেন্দ্রটি। ফলে হাওর অধ্যুষিত এই জেলার সাধারণ মানুষ ‘কাঙ্ক্ষিত সেবা’ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট সবচেয়ে প্রকট। সিনিয়র কনসালটেন্টের ১১টি পদের মধ্যে ৭টি এবং জুনিয়র কনসালটেন্টের ১২টির মধ্যে ৬টিই শূন্য। এছাড়া ১৭ জন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে ১৩ জনই নেই।
সেবাখাতেও একই চিত্র-২২৬ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সের মধ্যে ১৪১টি পদ ফাঁকা। ১১ জন ওয়ার্ডবয়ের সবার পদই শূন্য, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ১৯ জনের মধ্যে নেই ১৬ জন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় হৃদরোগ, দুর্ঘটনা বা মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের মতো একটু জটিল রোগী এলেই চিকিৎসকরা ঝুঁকি না নিয়ে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিরুল হক ও রওনক বখত অভিযোগ করে বলেন, “ডাক্তাররা রোগী ধরেন না, সোজা সিলেটে পাঠিয়ে দেন। এতে পথেই অনেক রোগীর মৃত্যু হয় এবং দরিদ্রদের চিকিৎসা ব্যয় বাড়ে।” ভর্তি রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে এসেও ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়, মিলছে না জরুরি প্যাথলজিক্যাল সেবাও।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, “এটি প্রত্যন্ত হাওর এলাকা হওয়ায় বাইরের চিকিৎসকরা এখানে পোস্টিং পেলেও বেশিদিন থাকতে চান না। আমরা প্রতি মাসেই জনবল চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিচ্ছি, কিন্তু সংকট কাটছে না।” আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, জনবল সংকটের মধ্যেও তারা সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এএস/

শহিদুল ইসলাম সভাপতি ও খুরশীদ আলম সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 























