ঢাকা , রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo শহিদুল ইসলাম সভাপতি ও খুরশীদ আলম সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত Logo ২০২৬ বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা করল ফিফা Logo দেশীয় চিনির মজুত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদেশ থেকে আমদানি বন্ধ: শিল্প উপদেষ্টা Logo খালেদা জিয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসার অনুমতি চাইল মঙ্গলবার Logo গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এখনও অর্জিত হয়নি: কাতারের প্রধানমন্ত্রী Logo পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ৪০ হাজার মানুষের জন্য রান্না হচ্ছে বিরিয়ানি Logo আগামী নির্বাচনী ইশতেহার হবে মানুষের মুক্তির সনদ Logo পীরগঞ্জের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo লালমনিরহাট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিলের দাবিতে হরিজন সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ Logo ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ রাজৈরের যুবক ছামির শেখ, পরিবারে মাতম

অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ: ডিলারদের ফাঁদে আলুচাষিরা

জয়পুরহাটে সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ডিলারদের বিরুদ্ধে। আলু রোপণের ভরা মৌসুমে জেলার বিভিন্ন বাজারে ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ও ডাইঅ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার প্রতি বস্তায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, তাও আবার রসিদ ছাড়াই। ন্যায্য মূল্যে সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিচ্ছেন অসহায় কৃষকরা।

অতিরিক্ত দাম ও বাধ্যতামূলক ক্রয়: 
কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরেও ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এই নৈরাজ্য চালাচ্ছেন। কালাই উপজেলার নওপাড়া গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, “এক বস্তা টিএসপি ও এক বস্তা ডিএপি সারের সরকারি দাম ২ হাজার ৫০ টাকা হলেও আমাদের ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা দিতে হচ্ছে। কৃষি অফিসে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি।”

আরেক অভিযোগ হলো, অনেক দোকানে সঠিক দামে সার পাওয়া গেলেও বাধ্যতামূলকভাবে প্যাকেটজাত বোরন ও দস্তা জৈব সার কিনতে হচ্ছে, অন্যথায় ডিলাররা সার সরবরাহ বন্ধ করে দিচ্ছেন। ক্ষেতলাল মুন্দাইল গ্রামের সোহাগ প্রামাণিক বলেন, “সরকারি দামে সার পেলেও সাত হাজার টাকার প্যাকেটজাত জৈব সার নিতে বাধ্য হয়েছি, না হলে সার দিত না।” রসিদ চাইলে বিক্রেতারা সার দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে জানান কৃষকরা।

ব্যবসায়ীদের দায় চাপানো:
এ বিষয়ে বিক্রেতারা সরবরাহ সংকটের কথা বলে দায় চাপাচ্ছেন। কালাই উপজেলার নুনুজ বাজারের খুচরা সার বিক্রেতা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হয়, তাই আমরাও একটু বেশি নিই।”

জেলা সার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রওনকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “এলোমেলোভাবে ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। যত হাত বদল হবে, দামও তত বাড়বে।”

প্রশাসনের ভূমিকা ও কৃষকদের বিড়ম্বনা:
আক্কেলপুর উপজেলার নামা গোপীনাথপুরের কৃষক বেলাল হোসেন জানান, সাড়ে সাত বিঘা জমিতে আলু রোপণের প্রস্তুতি শেষ হলেও সার না পাওয়ায় তিনি রোপণ করতে পারছেন না। আলু রোপণের মৌসুমে সার নিয়ে এমন ঝামেলায় তারা চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাদিকুল ইসলাম বলেন, “জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৩৯ হাজার হেক্টর। ইউরিয়ার বরাদ্দ কম হলেও অন্যান্য সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে। দাম বেশি নেওয়া বা সংকটের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এএস/

শহিদুল ইসলাম সভাপতি ও খুরশীদ আলম সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত

অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ: ডিলারদের ফাঁদে আলুচাষিরা

আপডেট সময় ০৪:৫৩:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

জয়পুরহাটে সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ডিলারদের বিরুদ্ধে। আলু রোপণের ভরা মৌসুমে জেলার বিভিন্ন বাজারে ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ও ডাইঅ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার প্রতি বস্তায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, তাও আবার রসিদ ছাড়াই। ন্যায্য মূল্যে সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিচ্ছেন অসহায় কৃষকরা।

অতিরিক্ত দাম ও বাধ্যতামূলক ক্রয়: 
কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরেও ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এই নৈরাজ্য চালাচ্ছেন। কালাই উপজেলার নওপাড়া গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, “এক বস্তা টিএসপি ও এক বস্তা ডিএপি সারের সরকারি দাম ২ হাজার ৫০ টাকা হলেও আমাদের ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা দিতে হচ্ছে। কৃষি অফিসে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি।”

আরেক অভিযোগ হলো, অনেক দোকানে সঠিক দামে সার পাওয়া গেলেও বাধ্যতামূলকভাবে প্যাকেটজাত বোরন ও দস্তা জৈব সার কিনতে হচ্ছে, অন্যথায় ডিলাররা সার সরবরাহ বন্ধ করে দিচ্ছেন। ক্ষেতলাল মুন্দাইল গ্রামের সোহাগ প্রামাণিক বলেন, “সরকারি দামে সার পেলেও সাত হাজার টাকার প্যাকেটজাত জৈব সার নিতে বাধ্য হয়েছি, না হলে সার দিত না।” রসিদ চাইলে বিক্রেতারা সার দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে জানান কৃষকরা।

ব্যবসায়ীদের দায় চাপানো:
এ বিষয়ে বিক্রেতারা সরবরাহ সংকটের কথা বলে দায় চাপাচ্ছেন। কালাই উপজেলার নুনুজ বাজারের খুচরা সার বিক্রেতা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হয়, তাই আমরাও একটু বেশি নিই।”

জেলা সার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রওনকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “এলোমেলোভাবে ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। যত হাত বদল হবে, দামও তত বাড়বে।”

প্রশাসনের ভূমিকা ও কৃষকদের বিড়ম্বনা:
আক্কেলপুর উপজেলার নামা গোপীনাথপুরের কৃষক বেলাল হোসেন জানান, সাড়ে সাত বিঘা জমিতে আলু রোপণের প্রস্তুতি শেষ হলেও সার না পাওয়ায় তিনি রোপণ করতে পারছেন না। আলু রোপণের মৌসুমে সার নিয়ে এমন ঝামেলায় তারা চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাদিকুল ইসলাম বলেন, “জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৩৯ হাজার হেক্টর। ইউরিয়ার বরাদ্দ কম হলেও অন্যান্য সারের পর্যাপ্ত মজুত আছে। দাম বেশি নেওয়া বা সংকটের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এএস/