কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার মহেশপুর (পালপাড়া) গ্রামের ব্যবসায়ী মো. গিয়াস উদ্দীন। কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নিজ গ্রামের বাড়িতে চারতলা ভবন নির্মাণ করলেও পারিবারিক বিরোধ, চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির কারণে তিনি সেখানে থাকতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে প্রতিদিন রাতে তাঁকে শহরের একটি হোটেলে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে তিনি পরিবারসহ ঢাকায় অবস্থান করছেন।
জমিসংক্রান্ত বিরোধ ও চাঁদা দাবি:
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গিয়াস উদ্দীন নিজের উপার্জনে খরিদকৃত ও আংশিক পৈতৃক মোট ৩৩ শতক জমির মধ্যে সাড়ে ১৬ শতক জায়গার ওপর ভবনটি নির্মাণ করেন। তাঁর অভিযোগ, জমির মালিকানা নিশ্চিত থাকলেও ছোট ভাই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ একই দাগের ২৪ শতক জায়গার মধ্যে ১২ শতকের পরিবর্তে সাড়ে ১৬ শতক জায়গা দখল করে তাঁকে সাড়ে ৪ শতক কম দিয়েছেন।
গিয়াস উদ্দীন আরও অভিযোগ করেন, দুই মেয়ের ইচ্ছায় তিনি ভবনের নিচতলায় দাদা-দাদির নামে সৈয়দ-সুফিয়া হেফজখানা করার জন্য অবশিষ্ট নির্মাণকাজ শুরু করলে ছোট ভাই মামুনুর রশিদের উসকানিতে চাচাতো ভাই মফিজ, ফারুক, আজাদ, আবুল খায়ের ও জসীম সেই কাজ বন্ধ করে দেন।
হত্যার হুমকি ও মামলা:
ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দীন বলেন, নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি চাচাতো ভাইয়েরা তাঁর কাছে ২৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে তাঁকে হত্যা করে লাশ গোমতী নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণনাশের হুমকির কারণে তিনি ও তাঁর পরিবার কেউই বর্তমানে বাড়িটিতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে হুমকি ধমকির একটি মামলা (১০৭-১১৭) চলমান রয়েছে।
তিনি জানান, সম্প্রতি ভবনের একটি অংশ বা অন্যত্র জমির আংশিক বিক্রি করতে গেলে প্রতিপক্ষ উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড টাঙায়। তবে তিনি দাবি করেন, ওই রিট পিটিশন (মামলা নং ৪২৩-২০২৫) তাঁর জমির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
অভিযুক্তদের বক্তব্য:
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান।
আরেক অভিযুক্ত চাচাতো ভাই ফারুক চাঁদা দাবির বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, গিয়াস উদ্দীন হয়রানির উদ্দ্যেশে আমাদের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা করেছেন, যার একটিও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তিনি হঠাৎ রাস্তার অংশ নিয়ে তাঁর দুই মেয়ের নামে লিখে দিয়েছেন।
তিনি ভালো লোক হলে মাদ্রাসার উদ্বোধনের দিন এলাকার মানুষ আসত। তিনি আরও দাবি করেন, গিয়াস উদ্দীনের বাড়িতে থাকার কোনো পরিবেশ নেই, তাই তিনি শহরে থাকেন।
পুলিশের ভাষ্য ও আদালতের শরণাপন্ন:
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিদুল ইসলাম বলেন, “দুই ভাইয়ের জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছে। একই জায়গা দুজনে দাবি করছেন। জায়গা-সম্পত্তির ঝামেলা আদালতের বিষয়। আদালত যেই রায় দেবেন, সেই মালিক হবেন।
জানা যায়, গিয়াস উদ্দীন নির্মাণ কাজে বাধা ও চাঁদা দাবির জন্য অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা (মামলা নং- ২০১৯, ধারা- ৪৪৭, ৪৪৮, ৩৮০, ৩৮৫, ৫০৬(২)/৩৪) রুজু করেছেন, যা বিচারাধীন রয়েছে। বর্তমানে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন।
এএস/

শহিদুল ইসলাম সভাপতি ও খুরশীদ আলম সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত
কুমিল্লা প্রতিনিধি 























