ঢাকা , রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo শহিদুল ইসলাম সভাপতি ও খুরশীদ আলম সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত Logo ২০২৬ বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা করল ফিফা Logo দেশীয় চিনির মজুত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদেশ থেকে আমদানি বন্ধ: শিল্প উপদেষ্টা Logo খালেদা জিয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসার অনুমতি চাইল মঙ্গলবার Logo গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এখনও অর্জিত হয়নি: কাতারের প্রধানমন্ত্রী Logo পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ৪০ হাজার মানুষের জন্য রান্না হচ্ছে বিরিয়ানি Logo আগামী নির্বাচনী ইশতেহার হবে মানুষের মুক্তির সনদ Logo পীরগঞ্জের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo লালমনিরহাট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিলের দাবিতে হরিজন সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ Logo ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ রাজৈরের যুবক ছামির শেখ, পরিবারে মাতম

সমতল ভূমিতে কমলা বিপ্লব: দশমিনায় বাণিজ্যিকভাবে চাষে সাফল্য

ধানের দেশ হিসেবে পরিচিত পটুয়াখালীর দশমিনায় সমতল জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষে সফল হয়ে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সাড়া ফেলেছেন কাজী আনিছুর রহমান। কৃষি বিভাগের পরামর্শে মাত্র দেড় বছর আগে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগ নেন। সফল উৎপাদনে উৎসাহিত এই কৃষক ভবিষ্যতে বছরে পাঁচ লাখ টাকা আয়ের প্রত্যাশা করছেন।

দেড় বছরের সফল উদ্যোগ: 
দশমিনা উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে কাজী আনিছুর রহমান যশোরের বেনাপোল থেকে চায়না থ্রি, ম্যান্ডারিন ও দার্জিলিং জাতের মোট ১৫০টি চারা সংগ্রহ করেন। প্রায় এক একর জমির বাগানে চারা রোপণ থেকে শুরু করে পরিচর্যা পর্যন্ত এ যাবৎ তাঁর মোট খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা।

কৃষক আনিছুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে স্থানীয় বাজার ও গ্রামীণ হাটগুলোতে তাঁর বাগানের কমলার বিক্রি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে উৎসুক দর্শনার্থীরা সরাসরি বাগান থেকে কমলা কিনে নিচ্ছেন। তিনি চলতি বছর এখন পর্যন্ত অর্ধলাখ টাকার কমলা বিক্রি করেছেন এবং আরও প্রায় অর্ধলাখ টাকার কমলা বিক্রির প্রত্যাশা করছেন। প্রতি কেজি কমলা বিক্রি হয়েছে সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা দরে।

মিষ্টি ও স্বাস্থ্যকর কমলা: 
সরেজমিনে দেখা যায়, বিক্রির পরও প্রতিটি গাছে গড়ে ৮ থেকে ১০ কেজি কমলা ঝুলে আছে। থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা সবুজ-হলুদ কমলাগুলো দেখতে আসা দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে।

ক্রেতা জাকির হাওলদার জানান, “এই বাগানের কমলাগুলো দেখতে যেমন চমৎকার, তেমনি খেতে মিষ্টি ও সুস্বাদু। এতে বাজারের কমলার মতো কোনো রাসায়নিক উপাদানের মিশ্রণ নেই, তাই এটি বেশি স্বাস্থ্যসম্মত।”

দর্শনার্থী হাসান জিদনি বলেন, “আমাদের এলাকার মাটিতে এত সুন্দর কমলা হবে, আমরা কল্পনাও করিনি। উনার কাছ থেকে চারা নিয়ে আমিও পতিত জমিতে চাষ করব।”

আমদানি নির্ভরতা কমানোর আশা: 
বেলে-দোআঁশ সমতল ভূমিতে কমলার এই সফল চাষ পুরো এলাকায় আশা জাগিয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ এই সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে কমলার চাষ বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।

দশমিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ জানান, “আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষক আনিছুর রহমানকে সার্বিক সহযোগিতা ও কারিগরি পরামর্শ দিয়ে আসছি। চায়না থ্রি জাতের কমলাটি বেশি মিষ্টি হওয়ায় এটির বাজারমূল্যও বেশি। কমলার চাষ বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে আমদানি কমতে থাকবে, তাতে সরকারের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

এএস/

শহিদুল ইসলাম সভাপতি ও খুরশীদ আলম সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত

সমতল ভূমিতে কমলা বিপ্লব: দশমিনায় বাণিজ্যিকভাবে চাষে সাফল্য

আপডেট সময় ০৭:৪৮:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

ধানের দেশ হিসেবে পরিচিত পটুয়াখালীর দশমিনায় সমতল জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষে সফল হয়ে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সাড়া ফেলেছেন কাজী আনিছুর রহমান। কৃষি বিভাগের পরামর্শে মাত্র দেড় বছর আগে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগ নেন। সফল উৎপাদনে উৎসাহিত এই কৃষক ভবিষ্যতে বছরে পাঁচ লাখ টাকা আয়ের প্রত্যাশা করছেন।

দেড় বছরের সফল উদ্যোগ: 
দশমিনা উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে কাজী আনিছুর রহমান যশোরের বেনাপোল থেকে চায়না থ্রি, ম্যান্ডারিন ও দার্জিলিং জাতের মোট ১৫০টি চারা সংগ্রহ করেন। প্রায় এক একর জমির বাগানে চারা রোপণ থেকে শুরু করে পরিচর্যা পর্যন্ত এ যাবৎ তাঁর মোট খরচ হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা।

কৃষক আনিছুর রহমান জানান, ইতিমধ্যে স্থানীয় বাজার ও গ্রামীণ হাটগুলোতে তাঁর বাগানের কমলার বিক্রি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে উৎসুক দর্শনার্থীরা সরাসরি বাগান থেকে কমলা কিনে নিচ্ছেন। তিনি চলতি বছর এখন পর্যন্ত অর্ধলাখ টাকার কমলা বিক্রি করেছেন এবং আরও প্রায় অর্ধলাখ টাকার কমলা বিক্রির প্রত্যাশা করছেন। প্রতি কেজি কমলা বিক্রি হয়েছে সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা দরে।

মিষ্টি ও স্বাস্থ্যকর কমলা: 
সরেজমিনে দেখা যায়, বিক্রির পরও প্রতিটি গাছে গড়ে ৮ থেকে ১০ কেজি কমলা ঝুলে আছে। থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা সবুজ-হলুদ কমলাগুলো দেখতে আসা দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে।

ক্রেতা জাকির হাওলদার জানান, “এই বাগানের কমলাগুলো দেখতে যেমন চমৎকার, তেমনি খেতে মিষ্টি ও সুস্বাদু। এতে বাজারের কমলার মতো কোনো রাসায়নিক উপাদানের মিশ্রণ নেই, তাই এটি বেশি স্বাস্থ্যসম্মত।”

দর্শনার্থী হাসান জিদনি বলেন, “আমাদের এলাকার মাটিতে এত সুন্দর কমলা হবে, আমরা কল্পনাও করিনি। উনার কাছ থেকে চারা নিয়ে আমিও পতিত জমিতে চাষ করব।”

আমদানি নির্ভরতা কমানোর আশা: 
বেলে-দোআঁশ সমতল ভূমিতে কমলার এই সফল চাষ পুরো এলাকায় আশা জাগিয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ এই সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে কমলার চাষ বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।

দশমিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ জানান, “আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষক আনিছুর রহমানকে সার্বিক সহযোগিতা ও কারিগরি পরামর্শ দিয়ে আসছি। চায়না থ্রি জাতের কমলাটি বেশি মিষ্টি হওয়ায় এটির বাজারমূল্যও বেশি। কমলার চাষ বৃদ্ধি পেলে ভবিষ্যতে আমদানি কমতে থাকবে, তাতে সরকারের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

এএস/