চট্টগ্রাম বিভাগে এইচআইভি-এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত এক বছরে নতুন করে ৭৫ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে, যা ইঙ্গিত করে প্রতি মাসে অন্তত ছয়জন এই প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরের তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক।
রেকর্ড সংক্রমণ ও মৃত্যু:
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের অ্যান্টি রিক্টোভাইরাল থেরাপি সেন্টারের (এআরটি) তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে (২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত) মোট ২১৭ জন এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫ জন, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৩ জন চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দা। এছাড়া কক্সবাজার, ফেনী, রাঙামাটি, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ একাধিক জেলার বাসিন্দা শনাক্ত হয়েছেন।
প্রবাসীরাই মূল ঝুঁকিতে:
চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে একটি বড় অংশই হলো প্রবাসী ও তাদের স্বজন। প্রবাসে অবস্থানরতদের ঝুঁকিপূর্ণ যৌন সম্পর্ক বিষয়ে যথাযথ জ্ঞানের অভাবই ভাইরাসটিতে আক্রান্তের হার বাড়ার প্রধান কারণ। অসচেতনতার কারণে প্রবাসীদের মাধ্যমে তাদের স্ত্রী, এমনকি শিশুসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও সংক্রমিত হচ্ছে।

চমেক হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের প্রধান ডা. জুনায়েদ মাহমুদ খান বলেন, “নানা কারণে চট্টগ্রামের বাসিন্দারা এইডসের ঝুঁকিতে, এর অন্যতম কারণ প্রবাসীরা। অসচেতনতার কারণেই তাদের মাধ্যমে স্বজনরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।”
দেরিতে চিকিৎসা: বাড়ছে প্রাণহানি:
আক্রান্তদের মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে দেরিতে চিকিৎসা নেওয়াকে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। ডা. জুনায়েদ মাহমুদ খান জানান, “গত এক বছরে যেসব রোগী মারা গেছেন, তারা খুব খারাপ অবস্থা নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। যে কারণে ওষুধ শুরুর আগেই মারা যান। আগেভাগে এলে এমন পরিণতি হতো না।”
চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় চর্ম ও সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ কনসালট্যান্ট ডা. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান রাহাত বলেন, “কয়েক বছর ধরেই অভিবাসীদের মাধ্যমে নতুন করে বাড়ছে এইচআইভি রোগীর সংখ্যা। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে এই ভাইরাস থেকে সুস্থ থাকা সম্ভব।”
জাতীয় চিত্র:
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস-এসটিডি প্রোগ্রামের (এএসপি) তথ্য মতে, দেশে এইডসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৮৬৫ জন (এর মধ্যে ৩০০ শিশু)। এখন পর্যন্ত ৯২৪ রোগী মারা গেছেন। চট্টগ্রামসহ মোট ২৩টি জেলা ভাইরাসটির ঝুঁকিতে রয়েছে।
এএস/

শহিদুল ইসলাম সভাপতি ও খুরশীদ আলম সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত
কান্ট্রি ডেস্ক 























