* উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র তিনজন চিকিৎসক আছেন, সেবা দেন দুজন
* যে দুজন চিকিৎসক সেবা দিচ্ছেন, তাঁরাও মার্চে চলে যাবেন ঢাকায়
* প্রায় চার শ রোগী প্রতিদিন হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসে
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার প্রায় ২ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা চলছে মাত্র দুজন চিকিৎসক দিয়ে। ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে রাতদিন ২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে গিয়ে কর্মরত এই দুজন চিকিৎসক হিমশিম খাচ্ছেন। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য এই দুজনও আগামী মার্চে ঢাকায় চলে যাবেন, যার ফলে উপজেলার চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এখানে বর্তমানে তিনজন চিকিৎসক আছেন, তবে তাঁদের মধ্যে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় কার্যত দুজন চিকিৎসকই সেবা দিচ্ছেন। সম্প্রতি উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক শর্মী রায় জনবল সংকটের বিষয়টি জানিয়েছেন।
উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ১২৮টি গ্রাম থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ অসহায় ও গরিব রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১৬৪টি পদের মধ্যে ৫১টি পদই শূন্য। এর মধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়সহ ২৭ জন চিকিৎসকের স্থলে মাত্র ১০ জন কর্মরত, যার মধ্যে দুজন প্রেষণে আছেন। আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি, শিশু, মেডিসিন, অপথালমোলজি, কার্ডিওলজি, অর্থোপেডিক, অ্যানেসথেসিওলজি, স্কিন অ্যান্ড ভিডি) সহ সহকারী সার্জন ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সহকারী সার্জনের বেশ কয়েকটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।
চিকিৎসক ছাড়াও প্রধান সহকারী, পরিসংখ্যানবিদ, ক্যাশিয়ার, স্টোরকিপার, নার্সিং সুপারভাইজার, বিভিন্ন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, সহকারী নার্স এবং ১৭ জন স্বাস্থ্য সহকারীসহ দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির মোট ৫১টি পদ শূন্য রয়েছে।
জনবল সংকটের কারণে দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সুরশাইল গ্রামের রুহুল আমিন মিঠুসহ অন্যান্য রোগী অভিযোগ করেন, কাঙ্ক্ষিত বিভাগের চিকিৎসক পাওয়া যায় না এবং চিকিৎসক পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। তাঁরা দ্রুত শূন্য পদগুলোয় চিকিৎসক নিয়োগের জোর দাবি জানান।
হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট ও ক্যাশিয়ার জানান, শূন্য পদ থাকায় তাঁদের একেকজনকে ৪-৫ জনের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, তবে চিকিৎসকের সংকটে রোগীদের ভোগান্তিই বড় সমস্যা। আরএমও মুক্তি বিশ্বাস জানান, দুজন চিকিৎসকের ওপর অনেক চাপ যাচ্ছে এবং শূন্য পদগুলো পূরণ হওয়া জরুরি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক শর্মী রায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।
এএস/

শহিদুল ইসলাম সভাপতি ও খুরশীদ আলম সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত
বাগেরহাট প্রতিনিধি 























