ঢাকা , রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo ২০২৬ বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা করল ফিফা Logo দেশীয় চিনির মজুত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদেশ থেকে আমদানি বন্ধ: শিল্প উপদেষ্টা Logo খালেদা জিয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসার অনুমতি চাইল মঙ্গলবার Logo গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এখনও অর্জিত হয়নি: কাতারের প্রধানমন্ত্রী Logo পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ৪০ হাজার মানুষের জন্য রান্না হচ্ছে বিরিয়ানি Logo আগামী নির্বাচনী ইশতেহার হবে মানুষের মুক্তির সনদ Logo পীরগঞ্জের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo লালমনিরহাট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিলের দাবিতে হরিজন সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ Logo ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ রাজৈরের যুবক ছামির শেখ, পরিবারে মাতম Logo ধান কাটাকে কেন্দ্র করে চার নারীসহ পাঁচ জনকে কুপিয়ে জখম
নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্রের হাতছানি

ইসলামী স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন সুজা মসজিদ

দিনাজপুর জেলার স্থাপত্য ঐহিত্যের এক অনবদ্য নিদর্শন হলো সুজা মসজিদ। মসজিদটি ঘোড়াঘাট থেকে প্রায় পাঁচ মাইল পশ্চিমে এবং হিলি থেকে বারো মাইল পূর্বে হিলি-ঘোড়াঘাট সড়কের পাশে চোরগছা মৌজায় ‘সুজা’ নামক স্থানে অবস্থিত হওয়ায় এটি সুজা মসজিদ নামে পরিচিত। এর কাছেই রাস্তার উত্তর পাশে প্রায় ৩৫০×২০০ গজ আয়তনের একটি প্রাচীন দিঘি রয়েছে, যার দক্ষিণে ছিল প্রশস্ত ঘাট।

দীঘির ঘাট থেকে ১০০ ফুট দক্ষিণ-পশ্চিমে, সদর সড়কের উত্তর দিকে ৪ ফুট উঁচু একটি সমতল প্লাটফর্মের পশ্চিম অংশে সুলতানী বাংলার এই স্থাপত্যটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। পঞ্চদশ শতকের শেষ দিক থেকে ষোড়শ শতক পর্যন্ত জনপ্রিয় নকশায় নির্মিত এই মসজিদে রয়েছে একটি বর্গাকার এক গম্বুজবিশিষ্ট নামাজ কক্ষ (জুল্লাহ) এবং সামনে ছোট তিন গম্বুজবিশিষ্ট একটি বারান্দা।

মসজিদটির বাইরের আয়তন ৪০×৬০ ফুট এবং এটি পূর্ব-পশ্চিমে দীর্ঘ। এটি সমসাময়িক স্থাপত্যের প্রতিফলন। মসজিদের চারকোণায় ও বারান্দার দু’কোণে মোট ছয়টি মসৃণ কালো পাথরে আবৃত অষ্টভূজাকৃতি টাওয়ার রয়েছে। প্রবেশপথ রয়েছে পূর্ব দিকে তিনটি খিলান পথে। বর্গাকার নামাজ কক্ষটির ভিতরের আয়তন ১৬×১৬ ফুট, যার উপরে বৃহৎ গম্বুজটি স্কুইঞ্চ রীতিতে নির্মিত।

মসজিদ নির্মাণে প্রধানত ইট ব্যবহৃত হলেও প্রায় এক-চতুর্থাংশ জুড়ে পাথরের ব্যবহার লক্ষণীয়। বিশেষত মিহরাব, প্রবেশপথের চৌকাঠ এবং বাইরের অলঙ্করণে পাথরের ব্যবহার দেখা যায়। পশ্চিম দেয়ালে তিনটি মিহরাব রয়েছে, যার কেন্দ্রীয়টি অপেক্ষাকৃত বড়। এর বক্রাকার কার্ণিশ ছাদ সুলতানী স্থাপত্য রীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পাথরের অলঙ্করণ ও সূক্ষ্ম খোদাই নকশা ছোট সোনা মসজিদ ও কুসুম্বা মসজিদের কারুকার্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

যদিও এখানে কোনো শিলালিপি পাওয়া যায়নি, এর গঠন ও স্থাপত্য কৌশল এটিকে ষোড়শ শতকের সুলতানী আমলের ইমারত হিসেবে প্রমাণ করে। আহমদ হাসান দানী ও আ কা মো যাকারিয়া এটিকে হোসেন শাহী আমলের মসজিদ বলে অনুমান করেছেন।

বর্তমানে মসজিদটি প্রত্নতত্ত্বের অধীনে থাকলেও এর সংলগ্ন বিশাল পুকুর ও পাড়গুলো প্রত্নতত্ত্বের বাইরে রয়েছে। সাবেক ইউএনও রোখাছানা বেগম একটি বাঁধাই করা ঘাট নির্মাণ করেছিলেন এবং রাশেদুল হক ও টি,এম,এ মমিন সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ করেন। বর্তমান ইউএনও রফিকুল ইসলামও অসম্পন্ন কাজগুলো প্রায় সম্পন্ন করেছেন।

এটিকে একটি নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আকর্ষণীয় করে তুলতে হলে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পুকুরের তিন দিকে ফুল ও ফলের গাছ লাগানো এবং মাঝখানটিতে একটি পাকা রাস্তা নির্মাণ করা প্রয়োজন। এতে সুজা মসজিদ তার ইতিহাস ও প্রাকৃতিক পরিবেশ নিয়ে দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে পারে।

 

এএস/

 

২০২৬ বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা করল ফিফা

নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্রের হাতছানি

ইসলামী স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন সুজা মসজিদ

আপডেট সময় ০৬:০৬:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

দিনাজপুর জেলার স্থাপত্য ঐহিত্যের এক অনবদ্য নিদর্শন হলো সুজা মসজিদ। মসজিদটি ঘোড়াঘাট থেকে প্রায় পাঁচ মাইল পশ্চিমে এবং হিলি থেকে বারো মাইল পূর্বে হিলি-ঘোড়াঘাট সড়কের পাশে চোরগছা মৌজায় ‘সুজা’ নামক স্থানে অবস্থিত হওয়ায় এটি সুজা মসজিদ নামে পরিচিত। এর কাছেই রাস্তার উত্তর পাশে প্রায় ৩৫০×২০০ গজ আয়তনের একটি প্রাচীন দিঘি রয়েছে, যার দক্ষিণে ছিল প্রশস্ত ঘাট।

দীঘির ঘাট থেকে ১০০ ফুট দক্ষিণ-পশ্চিমে, সদর সড়কের উত্তর দিকে ৪ ফুট উঁচু একটি সমতল প্লাটফর্মের পশ্চিম অংশে সুলতানী বাংলার এই স্থাপত্যটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। পঞ্চদশ শতকের শেষ দিক থেকে ষোড়শ শতক পর্যন্ত জনপ্রিয় নকশায় নির্মিত এই মসজিদে রয়েছে একটি বর্গাকার এক গম্বুজবিশিষ্ট নামাজ কক্ষ (জুল্লাহ) এবং সামনে ছোট তিন গম্বুজবিশিষ্ট একটি বারান্দা।

মসজিদটির বাইরের আয়তন ৪০×৬০ ফুট এবং এটি পূর্ব-পশ্চিমে দীর্ঘ। এটি সমসাময়িক স্থাপত্যের প্রতিফলন। মসজিদের চারকোণায় ও বারান্দার দু’কোণে মোট ছয়টি মসৃণ কালো পাথরে আবৃত অষ্টভূজাকৃতি টাওয়ার রয়েছে। প্রবেশপথ রয়েছে পূর্ব দিকে তিনটি খিলান পথে। বর্গাকার নামাজ কক্ষটির ভিতরের আয়তন ১৬×১৬ ফুট, যার উপরে বৃহৎ গম্বুজটি স্কুইঞ্চ রীতিতে নির্মিত।

মসজিদ নির্মাণে প্রধানত ইট ব্যবহৃত হলেও প্রায় এক-চতুর্থাংশ জুড়ে পাথরের ব্যবহার লক্ষণীয়। বিশেষত মিহরাব, প্রবেশপথের চৌকাঠ এবং বাইরের অলঙ্করণে পাথরের ব্যবহার দেখা যায়। পশ্চিম দেয়ালে তিনটি মিহরাব রয়েছে, যার কেন্দ্রীয়টি অপেক্ষাকৃত বড়। এর বক্রাকার কার্ণিশ ছাদ সুলতানী স্থাপত্য রীতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পাথরের অলঙ্করণ ও সূক্ষ্ম খোদাই নকশা ছোট সোনা মসজিদ ও কুসুম্বা মসজিদের কারুকার্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

যদিও এখানে কোনো শিলালিপি পাওয়া যায়নি, এর গঠন ও স্থাপত্য কৌশল এটিকে ষোড়শ শতকের সুলতানী আমলের ইমারত হিসেবে প্রমাণ করে। আহমদ হাসান দানী ও আ কা মো যাকারিয়া এটিকে হোসেন শাহী আমলের মসজিদ বলে অনুমান করেছেন।

বর্তমানে মসজিদটি প্রত্নতত্ত্বের অধীনে থাকলেও এর সংলগ্ন বিশাল পুকুর ও পাড়গুলো প্রত্নতত্ত্বের বাইরে রয়েছে। সাবেক ইউএনও রোখাছানা বেগম একটি বাঁধাই করা ঘাট নির্মাণ করেছিলেন এবং রাশেদুল হক ও টি,এম,এ মমিন সৌন্দর্য বৃদ্ধির কাজ করেন। বর্তমান ইউএনও রফিকুল ইসলামও অসম্পন্ন কাজগুলো প্রায় সম্পন্ন করেছেন।

এটিকে একটি নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আকর্ষণীয় করে তুলতে হলে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পুকুরের তিন দিকে ফুল ও ফলের গাছ লাগানো এবং মাঝখানটিতে একটি পাকা রাস্তা নির্মাণ করা প্রয়োজন। এতে সুজা মসজিদ তার ইতিহাস ও প্রাকৃতিক পরিবেশ নিয়ে দর্শনীয় স্থানে পরিণত হতে পারে।

 

এএস/