ঢাকা , রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo শহিদুল ইসলাম সভাপতি ও খুরশীদ আলম সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত Logo ২০২৬ বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা করল ফিফা Logo দেশীয় চিনির মজুত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদেশ থেকে আমদানি বন্ধ: শিল্প উপদেষ্টা Logo খালেদা জিয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসার অনুমতি চাইল মঙ্গলবার Logo গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এখনও অর্জিত হয়নি: কাতারের প্রধানমন্ত্রী Logo পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ৪০ হাজার মানুষের জন্য রান্না হচ্ছে বিরিয়ানি Logo আগামী নির্বাচনী ইশতেহার হবে মানুষের মুক্তির সনদ Logo পীরগঞ্জের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo লালমনিরহাট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিলের দাবিতে হরিজন সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ Logo ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ রাজৈরের যুবক ছামির শেখ, পরিবারে মাতম

বাগমারা আশ্রয়ণ প্রকল্প: বরাদ্দ পেলেও বেশিরভাগ ঘর ভাড়া-বিক্রি

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার লারোপাড়া গুচ্ছগ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। ঘর বরাদ্দ পাওয়া অনেকেই নিজের পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও ভূমিহীন সেজে ঘর নিয়েছেন। বরাদ্দ পাওয়া বেশিরভাগ ঘরেই তালা ঝুলছে, কিছু ঘর বিক্রি হয়ে গেছে, আবার কিছু ব্যবহৃত হচ্ছে ভাড়া বা গুদাম হিসেবে।

লারোপাড়া গুচ্ছগ্রামের একটি ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন মারিয়া গ্রামের শাহাদাত হোসেন। নিজ বাড়িতে সপরিবারে বসবাসকারী শাহাদাত এই ঘরটি ব্যবহার করছেন ফসল রাখার গুদাম হিসেবে, যেখানে আলু, পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ করা হয়। একই গ্রামের সাত্তার মণ্ডলও পৈতৃক ভিটায় পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও একটি ঘর পেয়েছেন। পাশের ভাড়াটিয়া আছিয়া বিবি জানিয়েছেন, সাত্তারের ঘরে রাতে একজন আসে এবং ভোরে চলে যায়, যার পরিচয় কেউ জানে না।

এছাড়া, বেশ কিছু ঘর বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আনোয়ারা বিবি নামে একজন বাসিন্দা জানান, তিনি ১৪ হাজার টাকায় ভাদু নামের একজনের কাছ থেকে একটি ঘর কিনেছেন। যদিও উভয়েই বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, লালপুর গ্রামের চন্দ্র বিবির নামে বরাদ্দ ঘরটি কখনো খোলা হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশী জোসনা বিবি। কয়েকটি ঘর আবার মুদি মাল রাখা, রিকশা-ভ্যান রাখা বা রান্নার খড়ি রাখার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় তিন দফায় ৪৮৬ জনকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ আহমেদ, পিআইও এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যোগসাজশ করে কোনো ঠিকাদার নিয়োগ ছাড়াই প্রথম ধাপের (নির্মাণ ব্যয় ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা) ঘরগুলো নির্মাণ করেন।

নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই এসব ঘরের দেয়ালে ফাটল, প্লাস্টার খসে পড়া ও ছাদ ধসে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। টিনের চালা দিয়েও পানি পড়ে। শ্রীপতিপাড়া গ্রামের জসিম মণ্ডল নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেন এবং অনিয়মের প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যান তাঁকে হয়রানি করেন বলে জানান। অন্যদিকে, বীরকুৎসা গ্রামের প্রতিবন্ধী জয়ন্তী রানী বারবার দরখাস্ত করেও ঘর পাননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম জানান, ঘর হস্তান্তরের পর সুফলভোগীরাই এটি ব্যবহার করবেন। ঘর বিক্রি বা অন্য কারও বসবাসের নিয়ম নেই। তিনি বলেন, কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তাদের ঘর প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এএস/

 

 

শহিদুল ইসলাম সভাপতি ও খুরশীদ আলম সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত

বাগমারা আশ্রয়ণ প্রকল্প: বরাদ্দ পেলেও বেশিরভাগ ঘর ভাড়া-বিক্রি

আপডেট সময় ০৭:৫৮:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার লারোপাড়া গুচ্ছগ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। ঘর বরাদ্দ পাওয়া অনেকেই নিজের পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও ভূমিহীন সেজে ঘর নিয়েছেন। বরাদ্দ পাওয়া বেশিরভাগ ঘরেই তালা ঝুলছে, কিছু ঘর বিক্রি হয়ে গেছে, আবার কিছু ব্যবহৃত হচ্ছে ভাড়া বা গুদাম হিসেবে।

লারোপাড়া গুচ্ছগ্রামের একটি ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন মারিয়া গ্রামের শাহাদাত হোসেন। নিজ বাড়িতে সপরিবারে বসবাসকারী শাহাদাত এই ঘরটি ব্যবহার করছেন ফসল রাখার গুদাম হিসেবে, যেখানে আলু, পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ করা হয়। একই গ্রামের সাত্তার মণ্ডলও পৈতৃক ভিটায় পাকা বাড়ি থাকা সত্ত্বেও একটি ঘর পেয়েছেন। পাশের ভাড়াটিয়া আছিয়া বিবি জানিয়েছেন, সাত্তারের ঘরে রাতে একজন আসে এবং ভোরে চলে যায়, যার পরিচয় কেউ জানে না।

এছাড়া, বেশ কিছু ঘর বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আনোয়ারা বিবি নামে একজন বাসিন্দা জানান, তিনি ১৪ হাজার টাকায় ভাদু নামের একজনের কাছ থেকে একটি ঘর কিনেছেন। যদিও উভয়েই বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, লালপুর গ্রামের চন্দ্র বিবির নামে বরাদ্দ ঘরটি কখনো খোলা হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশী জোসনা বিবি। কয়েকটি ঘর আবার মুদি মাল রাখা, রিকশা-ভ্যান রাখা বা রান্নার খড়ি রাখার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় তিন দফায় ৪৮৬ জনকে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ আহমেদ, পিআইও এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যোগসাজশ করে কোনো ঠিকাদার নিয়োগ ছাড়াই প্রথম ধাপের (নির্মাণ ব্যয় ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা) ঘরগুলো নির্মাণ করেন।

নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই এসব ঘরের দেয়ালে ফাটল, প্লাস্টার খসে পড়া ও ছাদ ধসে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। টিনের চালা দিয়েও পানি পড়ে। শ্রীপতিপাড়া গ্রামের জসিম মণ্ডল নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেন এবং অনিয়মের প্রতিবাদ করায় চেয়ারম্যান তাঁকে হয়রানি করেন বলে জানান। অন্যদিকে, বীরকুৎসা গ্রামের প্রতিবন্ধী জয়ন্তী রানী বারবার দরখাস্ত করেও ঘর পাননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম জানান, ঘর হস্তান্তরের পর সুফলভোগীরাই এটি ব্যবহার করবেন। ঘর বিক্রি বা অন্য কারও বসবাসের নিয়ম নেই। তিনি বলেন, কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে তাদের ঘর প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এএস/