রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় শীতের আগমনী বার্তায় কচুয়া সর্দারপাড়া গ্রামের কৃষকরা আগাম আলু তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। পূর্ব দিগন্তে সূর্যের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই সবুজ ক্ষেত থেকে তোলা হচ্ছে নতুন আলু। ভোক্তা পর্যায়ে আগাম নতুন আলুর চাহিদা বাড়ায় কৃষকদের মুখে এবার স্বস্তির হাসি ফুটেছে।
গত মৌসুমে আলুর দরপতনে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া স্থানীয় কৃষকেরা এবার ঝুঁকি নিয়ে আগাম জাতের বীজ ব্যবহার করেন। আশ্বিন মাসের শুরুতে বৃষ্টি হলেও উঁচু জমি হওয়ায় ফসলের ক্ষতি হয়নি। ফলে এবার আগাম আলুর ফলন ভালো হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে মাঠে।
নোহালী ইউনিয়নের কৃষক আজিজুল করিম জানান, তিনি ৬ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন এবং “৫৮ দিনের মাথায় আলু তুলছি।” বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি আলু ৫৩ থেকে ৫৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, “এই দামে বিক্রি করতে পারলে আগের লোকসানের বড় অংশই পুষিয়ে যাবে।”
আরেক কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, মাঠে পাইকারদের দেওয়া দাম কম হওয়ায় তিনি কয়েকজন কৃষক মিলে ট্রাক ভাড়া করে সরাসরি ঢাকার বাজারে আলু পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, ঢাকায় বিক্রি করলে অন্তত প্রতি কেজিতে তিন টাকা বেশি পাওয়া যায়।
মাঠে আলু তোলার কাজে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। শ্রমিক রেহেনা বেগম জানান, নতুন আলু উঠলে কাজের সুযোগ বাড়ে এবং এ সময় আয়ও ভালো হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইদুল হক বলেন, আগাম আলুর সরবরাহ কম থাকায় দাম তুলনামূলক বেশি এবং বাজারে ক্রেতাদের ভিড় দেখলেই নতুন আলুর চাহিদা বোঝা যায়।
গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হবে বলে কৃষি বিভাগ আশাবাদী। তাদের মতে, বাজারদর যদি স্থায়ী থাকে, কৃষকেরা এবার পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন।
কৃষকেরা জানান, আলু তোলার পর ওই জমিতে আবার নমলা আলুসহ ভুট্টা, কুমড়া, কাঁচা মরিচসহ নানা রবি ফসল চাষ করা হবে। আলুর জমির জৈব উপাদানের কারণে এসব ফসলে কম খরচেই ভালো ফলন পাওয়া যাবে।
এএস/

শহিদুল ইসলাম সভাপতি ও খুরশীদ আলম সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত
মাহফুজার রহমান, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি 























