বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, ঠিক সেই সময়ে যশোর-১ (শার্শা) আসনে প্রার্থী পরিবর্তন ইস্যুতে দলের ভেতরে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। এই আসনে কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে প্রার্থী করায় শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির ও সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনপক্ষীয়রা আন্দোলনে নেমেছেন। মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবিতে গত ২৯ নভেম্বর কয়েকশ’ নেতাকর্মী কাফনের কাপড় পরে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যা দলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
অসন্তুষ্ট নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মাঠের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে একজন সংস্কারপন্থী নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ায় কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, প্রার্থী পরিবর্তন না হলে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে। শার্শা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ওয়াসিউদ্দীন মন্তব্য করেন, বর্তমান প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল না হলে বিএনপি এই আসনে বড় ভুল করবে। আরেক নেতা মহিবুল বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর কঠিন সময়ে সভাপতি জহির ও সম্পাদক লিটন মাঠে ছিলেন, তাদের দুইজনের একজন ছাড়া এ আসনে বিজয় সম্ভব নয়।
যুবদল নেতা মনিরুজ্জামান বলেন, দুঃসময়ে যারা ছিলেন না, সেই ‘অতিথি পাখিকে’ মানি না। অন্যদিকে, দলীয় প্রধানের সংকটাপন্ন অবস্থায় যখন দেশজুড়ে রোগমুক্তির জন্য দোয়া মাহফিল চলছে, তখন একটি আসনের প্রার্থী বদল নিয়ে এভাবে রাজপথ অবরোধের ঘটনায় দলের সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তবে শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির জানান, ওই কর্মসূচিতে তিনি বা সাধারণ সম্পাদক কেউই ছিলেন না। ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা প্রার্থী ঠিক হয়নি বিধায় পূর্বে ঘোষিত কর্মসূচি পালন করেছে। কিন্তু দেশনেত্রীর শারীরিক অবস্থার কথা জানতে পেরেই তারা কর্মসূচি শেষ করে দেয়।
এদিকে, শার্শায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিব্রত দলের জেলা কমিটিও। সোমবার (১ ডিসেম্বর) যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন স্বাক্ষরিত এক কারণ দর্শানোর নোটিস শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনকে পাঠানো হয়েছে।
নোটিসে বলা হয়েছে, মৌখিক নির্দেশনা সত্ত্বেও ২৯ নভেম্বর তাঁর অনুসারীরা মহাসড়ক অবরোধ, সভা-সমাবেশ ও কাফনের কাপড় পরে শুয়ে পড়ার মতো কর্মসূচি পালন করেছে। দেশনেত্রীর গুরুতর অসুস্থতার কারণে সকল কর্মসূচি বন্ধ থাকার সময় এমন বিবেকবর্জিত কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
শার্শা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন জানিয়েছেন, সেইদিনের কর্মসূচিতে তিনি ছিলেন না। তারপরও যেহেতু নোটিস পেয়েছেন, তিনি এর জবাব দেবেন। উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতিতে যশোর বিএনপির নির্বাচনী কর্মকাণ্ড সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।#
এএস/

শহিদুল ইসলাম সভাপতি ও খুরশীদ আলম সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত
যশোর প্রতিনিধি 























