* চারজনের মালিকানাধীন ৩৩ শতাংশ জমি প্রগতি শিশুশিক্ষা নিকেতনকে একসনা ইজারা দেওয়া হয়
* অর্পিত জমিতে ১৮টি দোকান থেকে বছরে ৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করছেন শিক্ষক নুরুল আমীন
* এছাড়াও ভাড়া দেওয়ার দোকানের পজিশন বাবদ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫৮ লাখ টাকাও নিয়েছেন
খুলনার কয়রায় এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের নামে ইজারা নেওয়া অর্পিত (ভেস্টেড প্রপার্টি বা ভিপি) সম্পত্তিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে দোকান ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন কলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আমীন খোকা। তিনি সদর উপজেলার মদিনাবাদ এলাকার ওই জমিতে ১৮টি দোকান থেকে বছরে ৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করছেন। পাশাপাশি দোকানের পজিশন বাবদ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫৮ লাখ টাকাও নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৪৭ সালের পর ভারতে চলে যাওয়া বিষ্ণুপদ স্বর্ণকারসহ চারজনের মালিকানাধীন ৩৩ শতাংশ জমি বাংলা ১৪০৪ সনে (১৯৯৭-৯৮) প্রগতি শিশুশিক্ষা নিকেতনের আবেদনের ভিত্তিতে একসনা ইজারা দেওয়া হয়। শুরুতে বার্ষিক ৬৬০ টাকা এবং পরে ২ হাজার ৬৪০ টাকা ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয়, যা এখনও চলছে। তবে ইজারা গ্রহীতা নুরুল আমীন খোকা পাকা ভবন নির্মাণের জন্য কোনো অনুমতি নেননি।
এলাকাবাসী জানান, প্রথমে টিনের চালা ঘরে পাঠদান হলেও ২০১৮ সালে তা ভেঙে দুইতলা ভবন নির্মাণ করা হয় এবং সড়কের পাশে ১৮টি পাকা দোকান তৈরি করে ভাড়া দেওয়া হয়। নুরুল আমীন এখন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি, আর তাঁর স্ত্রী ফাতেমা সুলতানা প্রধান শিক্ষক।
ভাড়াটিয়ারা জানিয়েছেন, তারা নুরুল আমীনের কাছ থেকে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে দোকান নিয়েছেন এবং মাসিক ভাড়া তাঁর স্ত্রী ফাতেমা সুলতানার কাছে জমা দেন।
একজন ভাড়াটিয়া গোলাম রসুল জানান, তিনি ৬ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে দুটি দোকান নিয়েছেন এবং মাসে ৬ হাজার টাকা ভাড়া দেন। ভাড়ার টাকা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যয় করা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। গত পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে উন্নয়ন সহায়তা তহবিল ও অন্যান্য প্রকল্প থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, অর্পিত সম্পত্তির শ্রেণি পরিবর্তন করে পাকা ভবন নির্মাণ করা যায় না এবং এর জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়। নুরুল আমীন এই শর্ত লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রধান শিক্ষক ফাতেমা সুলতানা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নুরুল আমীন জানান, প্রতিষ্ঠানের খরচ ও মেরামত কাজের জন্য ভাড়ার টাকা ব্যয় করা হয়। তবে সরকারি জমিতে পাকা ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি।
উপজেলা ভূমি অফিসের সায়রাত সহকারী সুজন বিশ্বাস বলেন, অর্পিত সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে ইজারা নিয়ে তা অন্য কারও কাছে ভাড়া দেওয়া বা জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে পাকা ভবন নির্মাণ করা আইনত দণ্ডনীয়। আইন অমান্য করলে ইজারা বাতিল হতে পারে।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকী জানান, তিনি বিষয়টি জানতেন না। এমন হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএস/

শহিদুল ইসলাম সভাপতি ও খুরশীদ আলম সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত
খুলনা প্রতিনিধি 























