ঢাকা , রবিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo শহিদুল ইসলাম সভাপতি ও খুরশীদ আলম সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত Logo ২০২৬ বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা করল ফিফা Logo দেশীয় চিনির মজুত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদেশ থেকে আমদানি বন্ধ: শিল্প উপদেষ্টা Logo খালেদা জিয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসার অনুমতি চাইল মঙ্গলবার Logo গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এখনও অর্জিত হয়নি: কাতারের প্রধানমন্ত্রী Logo পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ ৪০ হাজার মানুষের জন্য রান্না হচ্ছে বিরিয়ানি Logo আগামী নির্বাচনী ইশতেহার হবে মানুষের মুক্তির সনদ Logo পীরগঞ্জের শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা Logo লালমনিরহাট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিলের দাবিতে হরিজন সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ Logo ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ রাজৈরের যুবক ছামির শেখ, পরিবারে মাতম

৫ আগস্ট : লুটের পর ফাঁকা পড়ে আছে বরগুনা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

বরগুনা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট হামলার পর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে এটি খালি কক্ষ হিসেবে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাসভিত্তিক তিন শতাধিক আলোকচিত্র, বই, স্মরণিকা, মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত সামগ্রী, এবং মোগল আমলের শাহি মসজিদ ও মজিদবাড়িয়া মসজিদের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষিত ছিল। লুট হওয়া সামগ্রী ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও কোনো কাজ হয়নি।

নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯৯৫ সাল থেকে বরগুনায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোকচিত্র সংগ্রহ ও প্রদর্শন করা শুরু হয়। ২০১৩ সালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনের নিচতলায় এটি মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে এবং ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর এটি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা এটি পরিদর্শন করত।

জাদুঘরের ট্রাস্টি চিত্তরঞ্জন শীল জানান, স্থানীয় সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের উদ্যোগে এটি শুরু হয় এবং পরে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দল এর কার্যক্রমে সহায়তা করে। জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও স্থানীয় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, বিভিন্ন বই, পুরোনো দলিলপত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের (যেমন মুসলিম লীগ, ন্যাপ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত) কর্মকাণ্ডের দলিল সংরক্ষিত ছিল।

এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবিও ছিল। অন্যান্য নিদর্শনের মধ্যে ছিল তিমি মাছের হাড় ও হাজার খানেক দেশি-বিদেশি মুদ্রা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনানুযায়ী, হামলাকারীরা কক্ষের কাচঘেরা টেবিল ভেঙে উপকরণ লুট করে। অনেক বই ও দলিলপত্র বাইরে ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং মাইক ভেঙে দেওয়া হয়। অবশিষ্ট জিনিসপত্রও লুট হয়ে যায়। ঘটনার তিন দিন পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়, তবে লুট হওয়া মালপত্র উদ্ধার হয়নি।

বরগুনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক ইউসুপ মৃধা জেলা প্রশাসনের কাছে জাদুঘরটি সংস্কার এবং লুট হওয়া দলিলপত্র উদ্ধারের অনুরোধ জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এএস/

শহিদুল ইসলাম সভাপতি ও খুরশীদ আলম সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত

৫ আগস্ট : লুটের পর ফাঁকা পড়ে আছে বরগুনা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

আপডেট সময় ০৮:১৯:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

বরগুনা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট হামলার পর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে এটি খালি কক্ষ হিসেবে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাসভিত্তিক তিন শতাধিক আলোকচিত্র, বই, স্মরণিকা, মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত সামগ্রী, এবং মোগল আমলের শাহি মসজিদ ও মজিদবাড়িয়া মসজিদের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষিত ছিল। লুট হওয়া সামগ্রী ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও কোনো কাজ হয়নি।

নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯৯৫ সাল থেকে বরগুনায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোকচিত্র সংগ্রহ ও প্রদর্শন করা শুরু হয়। ২০১৩ সালে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনের নিচতলায় এটি মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে এবং ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর এটি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা এটি পরিদর্শন করত।

জাদুঘরের ট্রাস্টি চিত্তরঞ্জন শীল জানান, স্থানীয় সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের উদ্যোগে এটি শুরু হয় এবং পরে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দল এর কার্যক্রমে সহায়তা করে। জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও স্থানীয় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, বিভিন্ন বই, পুরোনো দলিলপত্র এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের (যেমন মুসলিম লীগ, ন্যাপ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত) কর্মকাণ্ডের দলিল সংরক্ষিত ছিল।

এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবিও ছিল। অন্যান্য নিদর্শনের মধ্যে ছিল তিমি মাছের হাড় ও হাজার খানেক দেশি-বিদেশি মুদ্রা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনানুযায়ী, হামলাকারীরা কক্ষের কাচঘেরা টেবিল ভেঙে উপকরণ লুট করে। অনেক বই ও দলিলপত্র বাইরে ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং মাইক ভেঙে দেওয়া হয়। অবশিষ্ট জিনিসপত্রও লুট হয়ে যায়। ঘটনার তিন দিন পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়, তবে লুট হওয়া মালপত্র উদ্ধার হয়নি।

বরগুনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক ইউসুপ মৃধা জেলা প্রশাসনের কাছে জাদুঘরটি সংস্কার এবং লুট হওয়া দলিলপত্র উদ্ধারের অনুরোধ জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এএস/