রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পুরাতন খাদ্যবান্ধব ডিলাররা অভিযোগ করেছেন, মহামান্য হাইকোর্টের সুস্পষ্ট স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ রংপুর ও গঙ্গাচড়ার কর্মকর্তাগণ তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছেন এবং কার্যত আদালতের আদেশ অমান্য করছেন। এ পরিস্থিতিতে পুরাতন ডিলাররা দ্রুত ডিলারশিপ পুনর্বহাল, প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার সকাল ১১টায় গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন উপজেলার ভুক্তভোগী পুরাতন খাদ্যবান্ধব ডিলাররা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোঃ মাহবুব আলম।
দীর্ঘদিন সততার সঙ্গে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি পরিচালনা করার পরও ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর খাদ্য মন্ত্রণালয় একটি পুরাতন সার্কুলারকে সামনে এনে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে এবং এর মাধ্যমে বহু পুরাতন ডিলারের ডিলারশিপ বাতিলের উদ্যোগ নেয়। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ডিলাররা হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং ১৬২০৭-২০২৪) দায়ের করলে হাইকোর্ট সার্কুলারের ওপর ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দেন।
ডিলারদের দাবি, হাইকোর্টের এই আদেশকে যথাযথ সম্মান দেখিয়ে পুরাতন বিধান বহাল রেখে তাদের ডিলারশিপ পুনর্বহাল করা আবশ্যক। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আদেশের অনুলিপি যথানিয়মে গ্রহণ করা সত্ত্বেও নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রেখে গড়িমসি করছেন।
মাহবুব আলম বলেন, “এটি কেবল প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতাই নয়; এটি ইচ্ছাকৃত আদালত অবমাননা যা আইনত শাস্তিযোগ্য। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ স্পষ্ট-নতুন সার্কুলার কার্যকর নয়, পুরাতন ডিলারশিপই বহাল থাকবে। কিন্তু আমরা মাসের পর মাস ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, তাদেরকে হয়রানি ও চলমান ষড়যন্ত্রের আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। এটি একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল, যা আদালত স্থগিত করেছেন। ফলে আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরাতন ডিলাররাই আইনগতভাবে বৈধ।
পুরাতন ডিলাররা জানান, ডিলারশিপ বাতিলের কারণে তাঁরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। তারা হুঁশিয়ারি দেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে, মহামান্য হাইকোর্টকে অবমাননার দায়ে তারা আদালত অবমাননা মামলা দায়ের করতে বাধ্য হবেন। প্রয়োজন হলে তারা আর্থিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপও নেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুরাতন ডিলাররা সরকারের কাছে নিম্নলিখিত ৫টি দাবি উত্থাপন করেন:
* হাইকোর্টের আদেশ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
* পুরাতন ডিলারদের সাথে টালবাহানা বন্ধ করতে হবে।
* বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শাস্তি প্রদান।
* পুরাতন ডিলারদের আইনি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।
* পুরাতন ডিলারদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পুরাতন ডিলার হুমায়ুন কবির লিজু, মেনোকা মাহবুব সরকার, মনোয়ারুল ইসলাম, মাসুদা বেগম, নজরুল ইসলাম, মোজাম্মেল হোসেন এবং আজিনুর ইসলামসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের ৩৩ জন পুরাতন ডিলাররা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক উম্মে কুলছুমা খাতুন বলেন, আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ না করে কিছু বলতে পারব না। জেলা খাদ্য অফিসার ছালেহ আজিজ বলেন, আমরা মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ প্রতিপালন করার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিব। এ বিষয়ে রংপুর জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সাঈদ বলেন, এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এএস/

অধিকাংশ কেন্দ্র জানুয়ারির মধ্যে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে: প্রধান উপদেষ্টা
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি 






















