ডেসটিনি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আমীন জানিয়েছেন, বড় প্রকল্প ‘স্বপ্ন শহর’-এর ফ্ল্যাটগুলো সচল করতে পারলে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের পথ সুগম হবে।
বৃহস্পতিবার (১ জানয়ারি) রাজধানীর ৩০০ ফিটে ‘স্বপ্ন শহর’ হাউজিং প্রজেক্ট উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই প্রজেক্টের বর্তমান অবস্থা এবং গ্রাহকরা কীভাবে তাদের বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত ফ্ল্যাটের ভাড়া বা আয় নিশ্চিত করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর স্বপ্নের ‘স্বপ্ন শহর’ প্রজেক্ট নিয়ে এক বৈপ্লবিক পরিকল্পনা পেশ করেন। গ্রাহকদের বিনিয়োগ রক্ষা এবং ফ্ল্যাটের ভাড়ার আয় দিয়েই কিস্তি পরিশোধের এই নতুন মডেল সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্বপ্ন শহর প্রজেক্টের শুভ উদ্ভোধন ঘোষনা করেন ডেসটিনি-২০০ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ হোসাইন। তিনি উদ্ভোধনী বক্তৃতায় বলেন, স্বপ্ন শুধু স্বপ্নের মধ্যে রেখে দিলে হবে না। স্বপ্ন বাস্তবায়নে সেলস মার্কেটিং এক্সিকিউটিভদের (এসএমই) কাজ শুরু করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের কাজ ও স্বপ্ন শহর প্রজেক্টের বাস্তবায়নই বলে দিবে আমাদের আগামীর অগ্রযাত্রা কি? তিনি আস্থার সঙ্গে বলেন, স্বপ্ন শহর প্রজেক্ট হবে বাংলাদেশের একটি ব্যপক সম্ভাবনাময় অধ্যায়। ভাড়ায় টাকায় এ প্রজেক্টে ফ্ল্যাট নিয়ে মানুষ নতুন স্বপ্নে রাজধানী ঢাকা শহরে বসবাস করবেন।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় স্বপ্ন শহরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. খোরশেদ আলম অপু প্রজেক্টের পুরো ল্যা আউট উপস্থাপন করে বলেন, এর অধীনে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার এসএমই তৈরি করা হবে। এতে একদিকে দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে ভিরাট ভুমিকা রাখবে আর অন্যদিকে মানুষ কর্ম ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বি হবে। তিনি আরও বলেন, ডেসটিনির কাছে বিনিয়োগকারীদের যে পাওনা আছে তারা চাইলে স্বপ্ন শহর প্রজেক্টে সেই টাকা সমন্বয় করে ফ্ল্যাট বুকিং দিতে পারবেন।
বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় স্বপ্ন শহর ও বৈশাখী টেলিভিশনের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. টিপু আলম মিলন বলেন, এই প্রজেক্টের মাধ্যমে সারাদেশে ১০ লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণ ও বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে ভাড়ার টাকায়। প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকার পূর্বাচলে ১ লাখ ফ্ল্যাটের উদ্ভোধন করা হয়েছে। যা ডেসটিনি গ্রুপের সকল সদস্যদের জন্য যেমন আনন্দের তেমনি দেশের উন্নয়নেও ব্যপক ভূমিকা রাখবে।
নুসরাত শারমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যর মধ্যে বক্তৃব্য রাখেন, স্বপ্ন শহরের পরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম ( অর্থ), সৈয়দ মোমিন হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মো. শহীদুল ইসলাম, মো. আবুল হাছান, পরিমল কর, মো. শরিফুল ইসলাম গাজী, মো. মোশাররফ হোসেন, মো. ইউসুফ আলী, মো. মাসুদ পারভেজ, মো. শাহজালাল আনছারি, এটিএম গাউসুল ওয়াজেদ টিপু, এটিএম খুরশেদ আলম, মেরাজুল ইসলাম, কাজল কুমার সাহা ও সুখ দেব চন্দ্র দাস।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ড. মোহাম্মদ রফিকুল আমীনের নেতৃত্বে ডেসটিনি ও স্বপ্ন শহর প্রজেক্ট দ্রুতই আলোরমুখ দেখবে। দেশের বেকারত্ব দুরীরণে এই প্রজেক্টের সাফল্য লাভ করবে দেশের লক্ষাধিক যুবকরা। ভাড়ার টাকায় ফ্ল্যাট নিয়ে রাজধানীর বুকে মাথা উঁচু করে দাড়াবে তারা। বাস্তবমুখী এমন উদ্যোগ হাতে নেওয়ায় ড. মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও আলহাজ্ব মোহাম্মদ হোসাইনসহ শীর্ষ পর্যায়ের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বক্তারা।
প্রজেক্টের মাধ্যমে দায় মুক্তির পরিকল্পনা : ড. মোহাম্মদ রফিকুল আমীন তার বক্তব্যে গুরুত্বারোপ করেন ‘স্বপ্ন শহর’ প্রজেক্টটি কেবল আবাসন প্রকল্প নয়, এটি গ্রাহকদের পাওনা ফেরত দেওয়ার একটি উৎস। তিনি বলেন, যারা এই প্রজেক্টে ফ্ল্যাট নিয়েছেন বা বিনিয়োগ করেছেন, তারা যেন দ্রুত সেই ফ্ল্যাটগুলো বুঝে পান এবং সেগুলো থেকে ভাড়া বা আয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে। ড. মোহাম্মদ রফিকুল আমীন স্পষ্ট করেন, যারা ইতোমধ্যে বিনিয়োগ করেছেন এবং এই ‘স্বপ্ন শহর’ প্রজেক্টে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেয়েছেন, তারা যেন দ্রুত হস্তান্তরের মাধ্যমে ফ্ল্যাটগুলো থেকে ভাড়া পেতে শুরু করেন। তিনি বলেন, আমাদের জাতীয় অঙ্গীকার সবার জন্য সুন্দর আবাসন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই প্রজেক্টটি সচল হলে গ্রাহকদের আর পকেট থেকে টাকা দিয়ে কিস্তি দিতে হবে না, বরং ফ্ল্যাটের অর্জিত আয়ই তাদের মালিকানা নিশ্চিত করবে।
ভাড়ার টাকায় নিজের ফ্ল্যাট : ড. মোহাম্মদ রফিকুল আমীন তাঁর বক্তব্যে ‘স্বপ্ন শহর প্রপার্টিজ লিমিটেড’ এর মূল থিম ‘ভাড়ার টাকায় নিজের ফ্ল্যাট’-এর ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, গ্রাহকদের আর্থিক চাপ কমাতে কোনো প্রকার ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই বুকিংয়ের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যারা ফ্ল্যাট নেবেন, তারা যেন সেই ফ্ল্যাটের ভাড়ার টাকা দিয়েই অবশিষ্ট পাওনা বা কিস্তি শোধ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই প্রজেক্টটি ডিজাইন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ও অফারসমূহ: ৩০০ ফিটের আজকের এই আয়োজনে ড. মোহাম্মদ রফিকুল আমীনের বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রজেক্টের বিশেষ কিছু সুবিধা তুলে ধরা হয়।
ডাউন পেমেন্টহীন বুকিং: কোনো বড় অংকের অগ্রিম বা ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই সাধারণ মানুষ তাদের স্বপ্নের আবাসনের জন্য বুকিং দিতে পারছেন। সহজ মাসিক কিস্তি: মাত্র ১৬,০০০/- (ষোলো হাজার) টাকা মাসিক কিস্তিতে ফ্ল্যাট মালিক হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফ্ল্যাটের বিবরণ: ৭৫০ বর্গফুটের এই স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে থাকছে ২টি বেডরুম, ১টি ড্রয়িং রুম, ডাইনিং স্পেস, বারান্দা এবং ২টি বাথরুম।
ফ্রি পার্কিং: প্রতিটি ফ্ল্যাটের সাথে গ্রাহকদের জন্য থাকছে ফ্রি মোটরসাইকেল পার্কিং সুবিধা।
পাওনা পরিশোধের বিস্তারিত পরিকল্পনা : যোগাযোগের ঠিকানা ও আহ্বান : অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগ্রহীরা রাজধানীর মহাখালীস্থ এসএসপিএল কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারবেন। ড. রফিকুল আমিন বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষকে ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ‘স্বপ্ন শহর’ হবে আগামী দিনের নিরাপদ আবাসনের নিশ্চয়তা। স্বপ্ন শহর ফ্ল্যাট মালিকদের ভাড়ার বিষয়ে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে প্রধান অতিথির বক্তব্যে, তারমধ্যে- প্রজেক্টের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে গ্রাহকদের বুঝিয়ে দেওয়া। যারা ফ্ল্যাট বুঝে পাবেন, তারা সেগুলো কীভাবে ভাড়ার আওতায় এনে মাসিক আয়ের ব্যবস্থা করবেন, তার একটি প্রক্রিয়া তিনি উল্লেখ করেন। ফ্ল্যাট থেকে প্রাপ্ত ভাড়া যেন সরাসরি গ্রাহকের হাতে পৌঁছায় বা তাদের পাওনার সাথে সমন্বয় করা যায়, সেই পরিকল্পনা তিনি ব্যক্ত করেছেন।
তিনি দাবি করেন, ডেসটিনির এই প্রজেক্টগুলো যদি প্রশাসনিক বা আইনি বাধার কারণে অচল হয়ে পড়ে থাকে, তবে গ্রাহকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই ‘স্বপ্ন শহর’ প্রজেক্টের কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে গ্রাহকদের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই প্রজেক্ট নিয়ে ড. মোহাম্মদ রফিকুল আমীনের এই বিস্তারিত বক্তব্যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে যারা মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে এখানে বিনিয়োগ করেছিলেন, তারা দ্রুত ফ্ল্যাট বুঝে নিয়ে তা থেকে আয় করার সুযোগ চান। ডেসটিনির স্থাবর সম্পদ বিশেষ করে এই বিশাল আবাসন প্রকল্পগুলো যদি নিয়মতান্ত্রিকভাবে সচল করা যায়, তবে তা দেশের আবাসন খাত এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক-উভয় পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এমনটাই মনে করছেন ডেসটিনি গ্রুপের সদস্যরা। এর আগেও ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মোহাম্মদ রফিকুল আমীন দাবি করেছেন, ডেসটিনির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদগুলো যথাযথভাবে সচল করার সুযোগ দিলে সকল বিনিয়োগকারীর পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব। তিনি গ্রুপের বর্তমান সংকট নিরসন এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় উনার এই অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি জটিলতা এবং কারাবাস পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড এবং ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশার কথা শুনিয়েছেন।
ড. মোহাম্মদ রফিকুল আমীন স্পষ্ট করেছেন যে, বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। তবে এর জন্য ডেসটিনির জব্দকৃত সম্পদগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গ্রুপের অনেক সম্পদ সঠিক তদারকির অভাবে নষ্ট হচ্ছে। এই সম্পদগুলো যদি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়িক কাজে লাগানো যায়, তবে তা থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে দেনা মেটানো সম্ভব।
তিনি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলেন, আইনের মাধ্যমেই তিনি এই সংকটের সমাধান চান। সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে ডেসটিনি আবার তার কার্যক্রম পরিচালনা করে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগ ফিরিয়ে দিতে পারবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
উল্লেখ্য যে, ২০১২ সাল থেকে ডেসটিনি গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও জালিয়াতির একাধিক মামলা চলছে। বর্তমানে ডেসটিনির অনেক সম্পদ আদালতের নির্দেশে ক্রোক অবস্থায় রয়েছে। ড. রফিকুল আমিনের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন বিনিয়োগকারীরা তাদের দীর্ঘদিনের পাওনা ফিরে পাওয়ার জন্য অধীর অপেক্ষায় আছেন। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেসটিনির সম্পদের বর্তমান বাজার মূল্য এবং গ্রাহকদের মোট পাওনার মধ্যে সমন্বয় করে একটি টেকসই সমাধান বের করা এখন সময়ের দাবি। ড. রফিকুল আমিনের এই প্রস্তাব আদালত বা প্রশাসন কীভাবে বিবেচনা করবে, তার ওপরই নির্ভর করছে ডেসটিনির লাখো বিনিয়োগকারীর ভাগ্য।
এজেএ

আমির হামজার সকল ওয়াজ-মাহফিল স্থগিত ঘোষণা
মো. শাহজাহান 























