ঢাকা , সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাঁথিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গণশৌচাগারে দুর্গন্ধ, বিপাকে রোগী ও পথচারী

* প্রতিদিন কয়েক শ মানুষ প্রস্রাব করছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভেতরে
* বাজারের ব্যবসায়ীরা ময়লা-আবর্জনা ফেলার কাজে ব্যবহার করছে
* অপরিকল্পিতভাবে বসবাস করছে হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কাশিনাথপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় আর গণশৌচাগারে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন কয়েক শ মানুষ এখানে যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করছে। বাজারের ব্যবসায়ীরাও ময়লা ফেলার ডাম্পিং স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করছেন প্রতিষ্ঠানটিকে। এমনকি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরেই গড়ে তোলা হয়েছে হরিজন সম্প্রদায়ের অবৈধ আবাসস্থল। এমন পরিস্থিতিতে এলাকার চিকিৎসাসেবা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

জানা গেছে, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পুরোনো ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার পর নতুন ভবনে চিকিৎসা কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়। তবে পুরোনো ভবনটি অপসারণ না করায় স্থানীয়রা একে শৌচাগার হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। বর্তমানে এর ভেতরে ও বাইরে মলমূত্রের দুর্গন্ধ এবং ময়লার স্তূপে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

এর ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষ ও কর্মরত স্টাফদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কাশিনাথপুর, আহাম্মাদপুর ও জাতসাখিনী ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা কেন্দ্রটি।

স্থানীয় কলেজশিক্ষক শফিকুল আলম খান টিটুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাসপাতালটি কাশিনাথপুরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। কিন্তু এখানকার পরিবেশ এখন সেবার অনুকূলে নেই। আমরা দ্রুত এই দখলমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই।

বণিক সমিতির নেতারা জানান, সীমানা প্রাচীর ও বিধিনিষেধ না থাকায় লোকজন এখানে ময়লা ফেলছে। সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন জানিয়েছেন, দ্রুতই পরিত্যক্ত ভবনটি নিলামের মাধ্যমে অপসারণ করা হবে এবং মাঠ ভরাট করে পরিবেশ উন্নয়ন করা হবে।

পাবনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিত্যক্ত ভবন অপসারণ ও দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু ভবন অপসারণ নয়, নিয়মিত মেডিকেল অফিসার নিয়োগের মাধ্যমে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ সেবা নিশ্চিত করা হোক।#

 

এএস/

জনপ্রিয় সংবাদ

সাঁথিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গণশৌচাগারে দুর্গন্ধ, বিপাকে রোগী ও পথচারী

আপডেট সময় ০৬:৩০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

* প্রতিদিন কয়েক শ মানুষ প্রস্রাব করছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভেতরে
* বাজারের ব্যবসায়ীরা ময়লা-আবর্জনা ফেলার কাজে ব্যবহার করছে
* অপরিকল্পিতভাবে বসবাস করছে হরিজন সম্প্রদায়ের লোকজন

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কাশিনাথপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় আর গণশৌচাগারে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন কয়েক শ মানুষ এখানে যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করছে। বাজারের ব্যবসায়ীরাও ময়লা ফেলার ডাম্পিং স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করছেন প্রতিষ্ঠানটিকে। এমনকি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভেতরেই গড়ে তোলা হয়েছে হরিজন সম্প্রদায়ের অবৈধ আবাসস্থল। এমন পরিস্থিতিতে এলাকার চিকিৎসাসেবা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

জানা গেছে, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পুরোনো ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার পর নতুন ভবনে চিকিৎসা কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়। তবে পুরোনো ভবনটি অপসারণ না করায় স্থানীয়রা একে শৌচাগার হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। বর্তমানে এর ভেতরে ও বাইরে মলমূত্রের দুর্গন্ধ এবং ময়লার স্তূপে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

এর ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষ ও কর্মরত স্টাফদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কাশিনাথপুর, আহাম্মাদপুর ও জাতসাখিনী ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা কেন্দ্রটি।

স্থানীয় কলেজশিক্ষক শফিকুল আলম খান টিটুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাসপাতালটি কাশিনাথপুরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। কিন্তু এখানকার পরিবেশ এখন সেবার অনুকূলে নেই। আমরা দ্রুত এই দখলমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই।

বণিক সমিতির নেতারা জানান, সীমানা প্রাচীর ও বিধিনিষেধ না থাকায় লোকজন এখানে ময়লা ফেলছে। সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন জানিয়েছেন, দ্রুতই পরিত্যক্ত ভবনটি নিলামের মাধ্যমে অপসারণ করা হবে এবং মাঠ ভরাট করে পরিবেশ উন্নয়ন করা হবে।

পাবনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিত্যক্ত ভবন অপসারণ ও দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু ভবন অপসারণ নয়, নিয়মিত মেডিকেল অফিসার নিয়োগের মাধ্যমে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ সেবা নিশ্চিত করা হোক।#

 

এএস/