ঢাকা , সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৮ মাস বেতন নাই শিক্ষক-কর্মচারী,শিক্ষা কার্যক্রম বিপন্ন

* আর্থিক সংকট ও মানবেতর জীবন
* অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নে অবস্থিত এমপিওভুক্ত তালিবপুর আহসানিয়া মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রতিষ্ঠানের ১৭ জন শিক্ষক ও কর্মচারী টানা ৮ মাস ধরে বিদ্যালয় তহবিল থেকে প্রদেয় বেতন-ভাতার অংশ পাচ্ছেন না। দীর্ঘ সময় বেতনহীন থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে ১১ জন শিক্ষক এবং ৬ জন কর্মচারী রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় অনেক পরিবার আজ দারিদ্র্য ও চরম আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত। সংসার চালাতে গিয়ে অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এমনকি সন্তানদের পড়াশোনা ও চিকিৎসা খরচ মেটাতেও হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

প্রতিষ্ঠানের এই সংকটের পেছনে আর্থিক লুটপাট ও চরম অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, যথাযথ তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাবে একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ স্থবির হয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও একটি প্রভাবশালী চক্র আমাদের বেতনের টাকা আত্মসাৎ করছে। তারা সেই টাকা লুটেপুটে খাচ্ছে, আর আমরা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি।

শিক্ষক জিয়াউর রহমান জানান, বকেয়া বেতনের দাবিতে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার মেলেনি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমাস উদ্দিনের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের সভাপতি ও মাধবপুরের ইউএনও জাহিদ বিন কাসেম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি।

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী বর্তমানে অনেক স্কুলেই বিদ্যালয় প্রদত্ত অংশ উত্তোলনে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীরা এই সংকটের দ্রুত তদন্ত এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।

একইসাথে আর্থিক অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এএস/

জনপ্রিয় সংবাদ

৮ মাস বেতন নাই শিক্ষক-কর্মচারী,শিক্ষা কার্যক্রম বিপন্ন

আপডেট সময় ০৬:৪৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

* আর্থিক সংকট ও মানবেতর জীবন
* অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বহরা ইউনিয়নে অবস্থিত এমপিওভুক্ত তালিবপুর আহসানিয়া মিশন উচ্চ বিদ্যালয়ে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রতিষ্ঠানের ১৭ জন শিক্ষক ও কর্মচারী টানা ৮ মাস ধরে বিদ্যালয় তহবিল থেকে প্রদেয় বেতন-ভাতার অংশ পাচ্ছেন না। দীর্ঘ সময় বেতনহীন থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে ১১ জন শিক্ষক এবং ৬ জন কর্মচারী রয়েছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় অনেক পরিবার আজ দারিদ্র্য ও চরম আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত। সংসার চালাতে গিয়ে অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এমনকি সন্তানদের পড়াশোনা ও চিকিৎসা খরচ মেটাতেও হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

প্রতিষ্ঠানের এই সংকটের পেছনে আর্থিক লুটপাট ও চরম অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের দাবি, যথাযথ তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাবে একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ স্থবির হয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও একটি প্রভাবশালী চক্র আমাদের বেতনের টাকা আত্মসাৎ করছে। তারা সেই টাকা লুটেপুটে খাচ্ছে, আর আমরা না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি।

শিক্ষক জিয়াউর রহমান জানান, বকেয়া বেতনের দাবিতে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার মেলেনি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমাস উদ্দিনের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের সভাপতি ও মাধবপুরের ইউএনও জাহিদ বিন কাসেম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্ত রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি।

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী বর্তমানে অনেক স্কুলেই বিদ্যালয় প্রদত্ত অংশ উত্তোলনে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীরা এই সংকটের দ্রুত তদন্ত এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।

একইসাথে আর্থিক অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এএস/