ঢাকা , সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৫৩ হাওরে বরাদ্দ ১৪৫ কোটি টাকা

হাওর রক্ষা বাঁধের কাজে ধীরগতি, শঙ্কায় কৃষক

  • কান্ট্রি ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:০৯:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪৩ বার পড়া হয়েছে

* ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরুর কথা ছিল, এখনো বেশির ভাগ বাঁধের কাজ এখনো শুরু হয়নি
* সময় ফুরিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় কৃষক, সময়মতো কাজ সম্পন্ন না হলে বন্যায় ফসলহানির শঙ্কা

সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে বোরো ধান রক্ষার একমাত্র ভরসা ‘হাওর রক্ষা বাঁধ’। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করার নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও জেলার অধিকাংশ হাওরে এখনো কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। কোথাও পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠনই শেষ হয়নি, আবার কোথাও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে কাটছে না জটিলতা। ফলে সময়মতো কাজ শেষ হওয়া এবং আগাম বন্যার কবল থেকে একমাত্র ফসল রক্ষার বিষয়টি নিয়ে গভীর শঙ্কায় রয়েছেন জেলার হাজারো কৃষক।

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি বছর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন এবং ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বাঁধের কাজ শুরু করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ পুরোপুরি শেষ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, নির্ধারিত সময় পার হলেও সোনামড়ল, হালি, শনি ও মহালিয়া হাওরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কাজের কোনো লক্ষণ নেই। অনেক জায়গায় পিআইসি সভাপতিরা এখনো জানেন না তাদের কাজের সীমানা কতটুকু।

ধর্মপাশা উপজেলার সোনামড়ল হাওরপারের কৃষক চন্দন তালুকদার বলেন, “দেরিতে কাজ শুরু করলে মাটি ভালোভাবে বসে না, ফলে বাঁধ দুর্বল থাকে। আগাম পানি আসলে এই দুর্বল বাঁধ ভেঙে আমাদের সারা বছরের হাড়ভাঙা খাটুনি মুহূর্তে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে।

গত শনিবার তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, বাঁধের বেশিরভাগ এলাকা কাজের জন্য উপযোগী। অনেক জায়গা থেকে পানি নেমে গেছে। অথচ অধিকাংশ পিআইসি এলাকায় কাজ শুরুর প্রস্তুতি দেখা যায়নি। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ৫৩টি হাওরে ৭০২টি পিআইসি গঠনের মাধ্যমে ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৮৫ কিলোমিটার বাঁধ মেরামতের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের অভাব না থাকলেও মাঠ পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাবে কাজ এগোচ্ছে না।

হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতাদের মতে, পিআইসি গঠন নিয়ে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত তদবিরের কারণেই কাজে এই দীর্ঘসূত্রতা। শাল্লা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত সেন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ উদ্বোধনের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে মাঠে কোনো মেশিন বা শ্রমিক নামেনি।

জামালগঞ্জের নেতারাও একই সুরে বলছেন, দিনশেষে এই গাফিলতির মাশুল দিতে হবে নিরীহ কৃষকদের। তবে সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, হাওরের নিচু এলাকা দিয়ে এখনো পানি নামার কারণে কাজ শুরু হতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। দু-এক দিনের মধ্যে পুরোদমে কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

হাওরাঞ্চল মূলত এক ফসলি এলাকা। এখানকার মানুষের সারা বছরের জীবন-জীবিকা এই বোরো ধানের ওপরই নির্ভরশীল। কৃষকদের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করে তাদের একমাত্র আহারের সুরক্ষা দেওয়া হোক।

 

এএস/

জনপ্রিয় সংবাদ

৫৩ হাওরে বরাদ্দ ১৪৫ কোটি টাকা

হাওর রক্ষা বাঁধের কাজে ধীরগতি, শঙ্কায় কৃষক

আপডেট সময় ০৭:০৯:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

* ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরুর কথা ছিল, এখনো বেশির ভাগ বাঁধের কাজ এখনো শুরু হয়নি
* সময় ফুরিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় কৃষক, সময়মতো কাজ সম্পন্ন না হলে বন্যায় ফসলহানির শঙ্কা

সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে বোরো ধান রক্ষার একমাত্র ভরসা ‘হাওর রক্ষা বাঁধ’। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করার নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও জেলার অধিকাংশ হাওরে এখনো কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। কোথাও পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠনই শেষ হয়নি, আবার কোথাও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে কাটছে না জটিলতা। ফলে সময়মতো কাজ শেষ হওয়া এবং আগাম বন্যার কবল থেকে একমাত্র ফসল রক্ষার বিষয়টি নিয়ে গভীর শঙ্কায় রয়েছেন জেলার হাজারো কৃষক।

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতি বছর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন এবং ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বাঁধের কাজ শুরু করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ পুরোপুরি শেষ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, নির্ধারিত সময় পার হলেও সোনামড়ল, হালি, শনি ও মহালিয়া হাওরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কাজের কোনো লক্ষণ নেই। অনেক জায়গায় পিআইসি সভাপতিরা এখনো জানেন না তাদের কাজের সীমানা কতটুকু।

ধর্মপাশা উপজেলার সোনামড়ল হাওরপারের কৃষক চন্দন তালুকদার বলেন, “দেরিতে কাজ শুরু করলে মাটি ভালোভাবে বসে না, ফলে বাঁধ দুর্বল থাকে। আগাম পানি আসলে এই দুর্বল বাঁধ ভেঙে আমাদের সারা বছরের হাড়ভাঙা খাটুনি মুহূর্তে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে।

গত শনিবার তাহিরপুর, ধর্মপাশা ও জামালগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, বাঁধের বেশিরভাগ এলাকা কাজের জন্য উপযোগী। অনেক জায়গা থেকে পানি নেমে গেছে। অথচ অধিকাংশ পিআইসি এলাকায় কাজ শুরুর প্রস্তুতি দেখা যায়নি। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ৫৩টি হাওরে ৭০২টি পিআইসি গঠনের মাধ্যমে ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৮৫ কিলোমিটার বাঁধ মেরামতের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের অভাব না থাকলেও মাঠ পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাবে কাজ এগোচ্ছে না।

হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতাদের মতে, পিআইসি গঠন নিয়ে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত তদবিরের কারণেই কাজে এই দীর্ঘসূত্রতা। শাল্লা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত সেন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ উদ্বোধনের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে মাঠে কোনো মেশিন বা শ্রমিক নামেনি।

জামালগঞ্জের নেতারাও একই সুরে বলছেন, দিনশেষে এই গাফিলতির মাশুল দিতে হবে নিরীহ কৃষকদের। তবে সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, হাওরের নিচু এলাকা দিয়ে এখনো পানি নামার কারণে কাজ শুরু হতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। দু-এক দিনের মধ্যে পুরোদমে কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

হাওরাঞ্চল মূলত এক ফসলি এলাকা। এখানকার মানুষের সারা বছরের জীবন-জীবিকা এই বোরো ধানের ওপরই নির্ভরশীল। কৃষকদের দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করে তাদের একমাত্র আহারের সুরক্ষা দেওয়া হোক।

 

এএস/