* নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ারসহ অন্যান্য জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছে ৬০ জন শিশু
* দুই মাসে ২ হাজার ৭০০ শিশু নিউমোনিয়ায় এবং ১ হাজার ২০১ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি
* হাসপাতালের তিনটি শিশু ওয়ার্ডে মাত্র ৪৩টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ২০০-এর বেশি রোগী ভর্তি
নোয়াখালীতে শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে শিশুদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর-এই দুই মাসে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৪ হাজার শিশু। এর মধ্যে নিউমোনিয়া ও অন্যান্য জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছে ৬০ জন শিশু।
পরিসংখ্যানে বর্তমান চিত্র ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে ২ হাজার ৭০০ শিশু নিউমোনিয়ায় এবং ১ হাজার ২০১ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। মৃত ৬০ শিশুর মধ্যে একটি বড় অংশ নবজাতক (০-২৮ দিন)। বর্তমানে হাসপাতালের তিনটি শিশু ওয়ার্ডে মাত্র ৪৩টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ২০০-এর বেশি রোগী ভর্তি থাকছে। শয্যা না পেয়ে অনেক শিশুকে হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
চিকিৎসাধীন শিশুদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দেখা মেলাই ভার। বিশেষ করে শুক্রবার কোনো ডাক্তার ওয়ার্ডে আসেন না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। চিকিৎসাসেবা মূলত ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর নির্ভরশীল। এমনকি শিশুদের শরীরে স্যালাইন ও ইনজেকশন পুশ করার মতো সংবেদনশীল কাজ নার্সদের বদলে আয়া ও ওয়ার্ড বয়রা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বেগমগঞ্জের সানজিদা আক্তার ও সদরের জাবেদ হোসেনসহ একাধিক অভিভাবক জানান, সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলেও প্রয়োজনীয় অধিকাংশ ওষুধ ও সিরিঞ্জ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
ওয়ার্ড ইনচার্জরা জানিয়েছেন, শিশুদের জীবন রক্ষাকারী হাইড্রোকটিশন ইনজেকশন, সালভিউটামল ও স্যালাইন সেটের তীব্র সংকট রয়েছে। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ওষুধ সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় গত পাঁচ মাস ধরে ওষুধ কেনা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. ইয়াকুব আলী মুন্সি জানান, মৃত শিশুদের অধিকাংশই অতি ক্ষুদ্র নবজাতক। শীতের এই সময়ে শিশুদের শ্বাসকষ্ট, বুকের নিচের অংশ দেবে যাওয়া বা খাওয়া বন্ধ করে দেওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে আনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এএস/

গুম-নির্যাতন: হাসিনা ও ১২ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য শুরু আজ
কান্ট্রি ডেস্ক 























