ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo আমির হামজার সকল ওয়াজ-মাহফিল স্থগিত ঘোষণা Logo ভারতীয়দের ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা প্রত্যাহার দুই দেশের Logo তিন শিক্ষার্থীর রিটে স্থগিত শাকসু নির্বাচন, উত্তাল ক্যাম্পাস Logo ভোটের আগে চাঙা রেমিট্যান্স, ১৮ দিনে এলো দুই বিলিয়ন ডলার Logo পাকিস্তানে ভূমিকম্পের আঘাত, কাঁপল চীন-আফগানিস্তান-তাজিকিস্তানও Logo পবিত্র শবে বরাত ৩ ফেব্রুয়ারি Logo চট্টগ্রামে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান, র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত Logo অধিকাংশ কেন্দ্র জানুয়ারির মধ্যে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে: প্রধান উপদেষ্টা Logo গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিন : প্রধান উপদেষ্টা Logo আমির হামজার সমর্থনে বক্তব্য দেয়ার সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন কুষ্টিয়া জেলা আমির

৫ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবায় চিকিৎসক একজন: চিকিৎসাসেবার করুণ দশা

* ১১ বছরেও চালু হয়নি ৫০ শয্যার কার্যক্রম
* যন্ত্রপাতি থাকলেও লোকবল না থাকায় সেবা নেই
* সংকট কাটানো সম্ভব নয়, ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কাগজে-কলমে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও বাস্তবে এর চিত্র অত্যন্ত করুণ। প্রায় ৫ লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল এই হাসপাতালে বর্তমানে মাত্র একজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা। জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে খুঁড়িয়ে চলা এই প্রতিষ্ঠানটি এখন রেফারেল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

২০১৩ সালে হাসপাতালটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় এবং ২০১৫ সালে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও ৫০ শয্যার প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি বরাদ্দ মেলেনি। এমনকি ৩১ শয্যার জনবল কাঠামোও এখানে অপূর্ণ। ২৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও মেডিকেল অফিসারের পদের বিপরীতে প্রায় সবগুলোই শূন্য। কার্ডিওলজি, সার্জারি, গাইনি ও শিশুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের কোনো কনসালট্যান্ট নেই।

বর্তমানে হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ছাড়া কোনো চিকিৎসক নেই। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় কার্যত একমাত্র আরএমও-কেই সামলাতে হয় প্রতিদিনের ৪-৫শ রোগী।

উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতেও কোনো মেডিকেল অফিসার নেই। ফলে ছোটখাটো অস্ত্রোপচার বা জরুরি সেবার জন্যও রোগীদের জেলা সদর হাসপাতাল অথবা পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহে রেফার করা হচ্ছে। হা

সপাতালে অপারেশন থিয়েটার ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে সেগুলো পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। ইসিজি মেশিনটি প্রায়ই বিকল থাকে। দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র একটি, যা প্রায়ই অকেজো হয়ে পড়ে থাকে।

ফলে দরিদ্র রোগীদের কয়েকগুণ বেশি ভাড়ায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসকের দেখা মেলে না।

জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় ওয়ার্ডবয় ও ঝাড়ুদারদের ওপর নির্ভর করতে হয়। সরকারি হাসপাতালে ওষুধ না পেয়ে বাইরে থেকে চড়া দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন দরিদ্র মানুষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল ইসলাম চিকিৎসক সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, “একজন মাত্র চিকিৎসক নিয়ে বিশাল এই জনগোষ্ঠীর সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জনবল ও সরঞ্জামের চাহিদার কথা জানিয়েছি।

জনবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত এই সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ জনবল নিয়োগ ও ৫০ শয্যার কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

এএস/

জনপ্রিয় সংবাদ

আমির হামজার সকল ওয়াজ-মাহফিল স্থগিত ঘোষণা

৫ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবায় চিকিৎসক একজন: চিকিৎসাসেবার করুণ দশা

আপডেট সময় ০৬:৩৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

* ১১ বছরেও চালু হয়নি ৫০ শয্যার কার্যক্রম
* যন্ত্রপাতি থাকলেও লোকবল না থাকায় সেবা নেই
* সংকট কাটানো সম্ভব নয়, ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কাগজে-কলমে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও বাস্তবে এর চিত্র অত্যন্ত করুণ। প্রায় ৫ লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল এই হাসপাতালে বর্তমানে মাত্র একজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা। জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে খুঁড়িয়ে চলা এই প্রতিষ্ঠানটি এখন রেফারেল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

২০১৩ সালে হাসপাতালটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় এবং ২০১৫ সালে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও ৫০ শয্যার প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি বরাদ্দ মেলেনি। এমনকি ৩১ শয্যার জনবল কাঠামোও এখানে অপূর্ণ। ২৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও মেডিকেল অফিসারের পদের বিপরীতে প্রায় সবগুলোই শূন্য। কার্ডিওলজি, সার্জারি, গাইনি ও শিশুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের কোনো কনসালট্যান্ট নেই।

বর্তমানে হাসপাতালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ছাড়া কোনো চিকিৎসক নেই। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় কার্যত একমাত্র আরএমও-কেই সামলাতে হয় প্রতিদিনের ৪-৫শ রোগী।

উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতেও কোনো মেডিকেল অফিসার নেই। ফলে ছোটখাটো অস্ত্রোপচার বা জরুরি সেবার জন্যও রোগীদের জেলা সদর হাসপাতাল অথবা পার্শ্ববর্তী ময়মনসিংহে রেফার করা হচ্ছে। হা

সপাতালে অপারেশন থিয়েটার ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে সেগুলো পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। ইসিজি মেশিনটি প্রায়ই বিকল থাকে। দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র একটি, যা প্রায়ই অকেজো হয়ে পড়ে থাকে।

ফলে দরিদ্র রোগীদের কয়েকগুণ বেশি ভাড়ায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসকের দেখা মেলে না।

জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় ওয়ার্ডবয় ও ঝাড়ুদারদের ওপর নির্ভর করতে হয়। সরকারি হাসপাতালে ওষুধ না পেয়ে বাইরে থেকে চড়া দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন দরিদ্র মানুষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল ইসলাম চিকিৎসক সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, “একজন মাত্র চিকিৎসক নিয়ে বিশাল এই জনগোষ্ঠীর সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জনবল ও সরঞ্জামের চাহিদার কথা জানিয়েছি।

জনবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত এই সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ জনবল নিয়োগ ও ৫০ শয্যার কার্যক্রম পূর্ণমাত্রায় চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

এএস/