ঢাকা , সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উলিপুরে উন্নত জাতের বরই চাষ, বাণিজ্যিক সম্ভাবনায় নতুন দিগন্ত

কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে উন্নত জাতের বরই চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন নুরুল ইসলাম । উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের কিশোরপুর এলাকার ‘আল আমিন নার্সারি’র এই স্বত্বাধিকারী এখন এলাকার অন্য চাষিদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

নুরুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে নার্সারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। গাছের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি গত বছরের শুরুতে বগুড়া থেকে ১০ হাজার টাকায় উন্নত জাতের অর্ধশতাধিক বরই চারা সংগ্রহ করেন। বসতবাড়ির পাশে ২০ শতক জমিতে তিনি গড়ে তোলেন এই বাগান।

বর্তমানে তার বাগানে কাশ্মীরি, বলসুন্দরী, আপেলকুল ও বউ সুন্দরী-এই তিন জাতের বরই শোভা পাচ্ছে। প্রতিটি গাছেই এখন থোকায় থোকায় বরই ধরেছে। নুরুল ইসলাম জানান, বাগান তৈরিতে যে খরচ হয়েছে, এ বছর বরই বিক্রি করেই তা উঠে আসবে।

চলতি মৌসুমে প্রায় ১০ থেকে ২০ মণ বরই বাগান থেকে সংগ্রহ করা যাবে, যার বাজারমূল্য ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। মজার বিষয় হলো, বরই বাগানের একই জমিতে তিনি সাথী ফসল হিসেবে ধান চাষ করে এরই মধ্যে ২০ হাজার টাকা বাড়তি আয় করেছেন।

আগামী বছর ফলন ও আয় দ্বিগুণ হবে বলে তিনি আশাবাদী। নুরুল ইসলামের এই দৃষ্টিনন্দন বাগান দেখতে প্রতিদিন আশপাশের গ্রাম থেকে অসংখ্য মানুষ ভিড় করছেন। বাগান দেখতে আসা হাবিবুর রহমান ও শাহানা বেগম জানান, এলাকায় এভাবে পরিকল্পিত বাগান আগে দেখেননি তারা। বরইয়ের বাম্পার ফলন দেখে তারাও আগামীতে এমন বাগান করার পরিকল্পনা করছেন।

উলিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশাররফ হোসেন বলেন, নুরুল ইসলাম বাণিজ্যিকভাবে বরই চাষ করে সফল হয়েছেন। সাধারণত এ অঞ্চলের চাষিরা ধান চাষের প্রতি বেশি আগ্রহী, তবে বরই একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। আমরা স্থানীয় কৃষকদের এ ধরনের অর্থকরী ফল চাষে উদ্বুদ্ধ করছি।

নুরুল ইসলামের এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে উলিপুর উপজেলায় বাণিজ্যিক ফল চাষে এক নতুন বিপ্লব সূচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এএস/

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

উলিপুরে উন্নত জাতের বরই চাষ, বাণিজ্যিক সম্ভাবনায় নতুন দিগন্ত

আপডেট সময় ০৬:৫৫:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে উন্নত জাতের বরই চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন নুরুল ইসলাম । উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের কিশোরপুর এলাকার ‘আল আমিন নার্সারি’র এই স্বত্বাধিকারী এখন এলাকার অন্য চাষিদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

নুরুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে নার্সারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। গাছের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি গত বছরের শুরুতে বগুড়া থেকে ১০ হাজার টাকায় উন্নত জাতের অর্ধশতাধিক বরই চারা সংগ্রহ করেন। বসতবাড়ির পাশে ২০ শতক জমিতে তিনি গড়ে তোলেন এই বাগান।

বর্তমানে তার বাগানে কাশ্মীরি, বলসুন্দরী, আপেলকুল ও বউ সুন্দরী-এই তিন জাতের বরই শোভা পাচ্ছে। প্রতিটি গাছেই এখন থোকায় থোকায় বরই ধরেছে। নুরুল ইসলাম জানান, বাগান তৈরিতে যে খরচ হয়েছে, এ বছর বরই বিক্রি করেই তা উঠে আসবে।

চলতি মৌসুমে প্রায় ১০ থেকে ২০ মণ বরই বাগান থেকে সংগ্রহ করা যাবে, যার বাজারমূল্য ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। মজার বিষয় হলো, বরই বাগানের একই জমিতে তিনি সাথী ফসল হিসেবে ধান চাষ করে এরই মধ্যে ২০ হাজার টাকা বাড়তি আয় করেছেন।

আগামী বছর ফলন ও আয় দ্বিগুণ হবে বলে তিনি আশাবাদী। নুরুল ইসলামের এই দৃষ্টিনন্দন বাগান দেখতে প্রতিদিন আশপাশের গ্রাম থেকে অসংখ্য মানুষ ভিড় করছেন। বাগান দেখতে আসা হাবিবুর রহমান ও শাহানা বেগম জানান, এলাকায় এভাবে পরিকল্পিত বাগান আগে দেখেননি তারা। বরইয়ের বাম্পার ফলন দেখে তারাও আগামীতে এমন বাগান করার পরিকল্পনা করছেন।

উলিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশাররফ হোসেন বলেন, নুরুল ইসলাম বাণিজ্যিকভাবে বরই চাষ করে সফল হয়েছেন। সাধারণত এ অঞ্চলের চাষিরা ধান চাষের প্রতি বেশি আগ্রহী, তবে বরই একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। আমরা স্থানীয় কৃষকদের এ ধরনের অর্থকরী ফল চাষে উদ্বুদ্ধ করছি।

নুরুল ইসলামের এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে উলিপুর উপজেলায় বাণিজ্যিক ফল চাষে এক নতুন বিপ্লব সূচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এএস/