ঢাকা , সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

গৃহবধূকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে পাঁচ ব্যক্তির দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। স্ত্রীর সম্ভ্রম রক্ষায় এগিয়ে গেলে স্বামীকে প্রচণ্ড শীতের রাতে ভুট্টাক্ষেতে বেঁধে রাখা হয়। পরে স্বামীর সামনেই স্ত্রীকে ধর্ষণ করে উল্লাস প্রকাশ করে অভিযুক্তরা। বিষয়টি জানাজানি হলে জড়িত তিনজনকে গত মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুর সদর উপজেলার মেষ্টা ইউনিয়নের একটি গ্রামে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো- চান্দেরহাওড়া গ্রামের ফরহাদ মিয়া, মো. আজম ও রাহাত আলী রৌদ্র। মামলার অন্য আসামিরা হলো- পশ্চিম আড়ংহাটি গ্রামের সুমন (পঁচা) এবং গগনপুর গ্রামের মো. পলাশ।

জানা গেছে, ভুক্তভোগীর স্বামী একজন দিনমজুর। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত রাহাত আলী কাজের কথা বলে অনেকটা জোর করেই ধরে নিয়ে যায় দিনমজুরের স্ত্রীকে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্বামী তাদের পিছু নেন। রাহাত এক পর্যায়ে গৃহবধূকে নিয়ে যায় স্থানীয় ঝিনাই নদীর তীরে। সেখানে ওঁৎ পেতে ছিল চার সাঙ্গোপাঙ্গ। সেখানে পৌঁছামাত্র গৃহবধূকে জোর করে তুলে নেওয়া হয় একটি ভুট্টাক্ষেতে। সেখানে উপস্থিত হলে গৃহবধূর স্বামীকে বেঁধে ফেলে অভিযুক্তরা। পরে স্বামীর সামনেই স্ত্রীকে ধর্ষণের উন্মাদনায় মেতে ওঠে তারা। এক পর্যায়ে গৃহবধূ অচেতন হয়ে পড়লে সেখানে ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা।

স্বামীকে হুমকি দিয়ে যায়, ঘটনা কাউকে বললে প্রাণে মেরে ফেলবে। রাতেই গৃহবধূকে উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ ও তাঁর স্বামীর ভাষ্য, অভিযুক্তরা চিহ্নিত অপরাধী ও মাদকসেবী। তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকে। তাদের হুমকির কারণে ঘটনার পর চার দিন প্রায় ঘরবন্দি অবস্থায় ছিলেন। পরে স্থানীয় মানুষের সহায়তায় মঙ্গলবার জামালপুর সদর থানায় যান তারা। ঘটনাটি জানালে মামলা নিয়েই অভিযানে নামে পুলিশ। পরে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার পাঁচজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়েছে। এরপর জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে গৃহবধূর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াহিয়া আল মামুন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং ফরেনসিক মতামত নেওয়া হবে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

এএস/

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

আপডেট সময় ০৭:২৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

গৃহবধূকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে পাঁচ ব্যক্তির দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। স্ত্রীর সম্ভ্রম রক্ষায় এগিয়ে গেলে স্বামীকে প্রচণ্ড শীতের রাতে ভুট্টাক্ষেতে বেঁধে রাখা হয়। পরে স্বামীর সামনেই স্ত্রীকে ধর্ষণ করে উল্লাস প্রকাশ করে অভিযুক্তরা। বিষয়টি জানাজানি হলে জড়িত তিনজনকে গত মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুর সদর উপজেলার মেষ্টা ইউনিয়নের একটি গ্রামে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো- চান্দেরহাওড়া গ্রামের ফরহাদ মিয়া, মো. আজম ও রাহাত আলী রৌদ্র। মামলার অন্য আসামিরা হলো- পশ্চিম আড়ংহাটি গ্রামের সুমন (পঁচা) এবং গগনপুর গ্রামের মো. পলাশ।

জানা গেছে, ভুক্তভোগীর স্বামী একজন দিনমজুর। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত রাহাত আলী কাজের কথা বলে অনেকটা জোর করেই ধরে নিয়ে যায় দিনমজুরের স্ত্রীকে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্বামী তাদের পিছু নেন। রাহাত এক পর্যায়ে গৃহবধূকে নিয়ে যায় স্থানীয় ঝিনাই নদীর তীরে। সেখানে ওঁৎ পেতে ছিল চার সাঙ্গোপাঙ্গ। সেখানে পৌঁছামাত্র গৃহবধূকে জোর করে তুলে নেওয়া হয় একটি ভুট্টাক্ষেতে। সেখানে উপস্থিত হলে গৃহবধূর স্বামীকে বেঁধে ফেলে অভিযুক্তরা। পরে স্বামীর সামনেই স্ত্রীকে ধর্ষণের উন্মাদনায় মেতে ওঠে তারা। এক পর্যায়ে গৃহবধূ অচেতন হয়ে পড়লে সেখানে ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা।

স্বামীকে হুমকি দিয়ে যায়, ঘটনা কাউকে বললে প্রাণে মেরে ফেলবে। রাতেই গৃহবধূকে উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ ও তাঁর স্বামীর ভাষ্য, অভিযুক্তরা চিহ্নিত অপরাধী ও মাদকসেবী। তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকে। তাদের হুমকির কারণে ঘটনার পর চার দিন প্রায় ঘরবন্দি অবস্থায় ছিলেন। পরে স্থানীয় মানুষের সহায়তায় মঙ্গলবার জামালপুর সদর থানায় যান তারা। ঘটনাটি জানালে মামলা নিয়েই অভিযানে নামে পুলিশ। পরে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার পাঁচজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়েছে। এরপর জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে গৃহবধূর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াহিয়া আল মামুন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং ফরেনসিক মতামত নেওয়া হবে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

এএস/