ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo আমির হামজার সকল ওয়াজ-মাহফিল স্থগিত ঘোষণা Logo ভারতীয়দের ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা প্রত্যাহার দুই দেশের Logo তিন শিক্ষার্থীর রিটে স্থগিত শাকসু নির্বাচন, উত্তাল ক্যাম্পাস Logo ভোটের আগে চাঙা রেমিট্যান্স, ১৮ দিনে এলো দুই বিলিয়ন ডলার Logo পাকিস্তানে ভূমিকম্পের আঘাত, কাঁপল চীন-আফগানিস্তান-তাজিকিস্তানও Logo পবিত্র শবে বরাত ৩ ফেব্রুয়ারি Logo চট্টগ্রামে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান, র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত Logo অধিকাংশ কেন্দ্র জানুয়ারির মধ্যে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে: প্রধান উপদেষ্টা Logo গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিন : প্রধান উপদেষ্টা Logo আমির হামজার সমর্থনে বক্তব্য দেয়ার সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন কুষ্টিয়া জেলা আমির

নিয়ম বহির্ভূতভাবে কোটি টাকার বৃক্ষ নিধন, জনমনে তীব্র ক্ষোভ

পাবনার ঈশ্বরদীতে নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের আওতাধীন মুলাডুলি কৃষি খামারে কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ও নিলাম প্রক্রিয়া ছাড়াই প্রায় তিন হাজার মূল্যবান গাছ কেটে সাবাড় করার অভিযোগ উঠেছে। বিএডিসি-এর ‘ভ্যালি ইরিগেশন’ প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে সংঘটিত এই বৃক্ষ নিধনের ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, খামারের সরদারপাড়া থেকে ১০ নম্বর সেক্টর পর্যন্ত ক্যানাল খননের সময় দু’পাশের মেহগুনি, শিশু, খয়ের ও রেন্টি কোড়ইসহ প্রায় তিন হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বনবিভাগের মাধ্যমে গাছের মূল্য নির্ধারণ ও নিলাম বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, গোপনে ও তড়িঘড়ি করে কাটা এই গাছগুলো নর্থবেঙ্গল সুগার মিলে জ্বালানি হিসেবে পাঠানো হয়েছে, যার বাজারমূল্য কোটি টাকার ওপরে। খামার ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম আমিন গাছ কাটার সত্যতা স্বীকার করে জানান, গাছগুলো মিলের বয়লারে ব্যবহারের জন্য নেওয়া হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুমোদন ছাড়া এমন ব্যাপক বৃক্ষ নিধন পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।

এদিকে নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিএডিসি-এর স্থানীয় কর্মকর্তারাও দায় এড়িয়ে একে অপরের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রকল্পের দোহাই দিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এই অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা চলছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি অবগত হয়ে তিনি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছেন। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষী কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

 

এএস/

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আমির হামজার সকল ওয়াজ-মাহফিল স্থগিত ঘোষণা

নিয়ম বহির্ভূতভাবে কোটি টাকার বৃক্ষ নিধন, জনমনে তীব্র ক্ষোভ

আপডেট সময় ০৭:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

পাবনার ঈশ্বরদীতে নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের আওতাধীন মুলাডুলি কৃষি খামারে কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ও নিলাম প্রক্রিয়া ছাড়াই প্রায় তিন হাজার মূল্যবান গাছ কেটে সাবাড় করার অভিযোগ উঠেছে। বিএডিসি-এর ‘ভ্যালি ইরিগেশন’ প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে সংঘটিত এই বৃক্ষ নিধনের ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, খামারের সরদারপাড়া থেকে ১০ নম্বর সেক্টর পর্যন্ত ক্যানাল খননের সময় দু’পাশের মেহগুনি, শিশু, খয়ের ও রেন্টি কোড়ইসহ প্রায় তিন হাজার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বনবিভাগের মাধ্যমে গাছের মূল্য নির্ধারণ ও নিলাম বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, গোপনে ও তড়িঘড়ি করে কাটা এই গাছগুলো নর্থবেঙ্গল সুগার মিলে জ্বালানি হিসেবে পাঠানো হয়েছে, যার বাজারমূল্য কোটি টাকার ওপরে। খামার ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম আমিন গাছ কাটার সত্যতা স্বীকার করে জানান, গাছগুলো মিলের বয়লারে ব্যবহারের জন্য নেওয়া হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুমোদন ছাড়া এমন ব্যাপক বৃক্ষ নিধন পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।

এদিকে নর্থবেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিএডিসি-এর স্থানীয় কর্মকর্তারাও দায় এড়িয়ে একে অপরের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, প্রকল্পের দোহাই দিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এই অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা চলছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি অবগত হয়ে তিনি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছেন। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষী কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

 

এএস/