খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দর নির্মাণে জমি ভরাটের জন্য বালুর পরিবর্তে নির্বিচারে পাহাড় কাটার অভিযোগ তদন্তে নেমেছে সরকার গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ফিরোজ আহমেদকে আহ্বায়ক করে গঠিত তদন্ত কমিটি রামগড় আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল ও উপজেলার পূর্ব চৌধুরীপাড়া (বৈরাগী টিলা) এলাকার প্রায় পাঁচ একর পাহাড় কাটা স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
এ সময় স্থানীয় প্রশাসন, থানা পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এই কমিটি গঠন করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। একই অভিযোগ তদন্তে গতকাল শুক্রবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব নুরুন্নাহার চৌধুরীর নেতৃত্বে আরেকটি দল সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেন। ওই প্রতিনিধি দলে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রুমানা আক্তার এবং রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাজী শামীমসহ পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থলবন্দরের প্রায় ১০ একর জমি ভরাটের জন্য প্রকল্প এলাকা থেকে ৩ কিলোমিটার দূরের অন্তত তিনটি পাহাড় সম্পূর্ণ কেটে ফেলা হয়েছে। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী বালু দিয়ে জমি ভরাট করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রাতের আঁধারে পাহাড়ের মাটি দিয়ে ভরাট কাজ সম্পন্ন করে। এতে রামগড় পৌরসভার ৫ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কিছু পাহাড় ইতিমধ্যেই বিলীন হয়ে গেছে, যা এলাকায় পরিবেশ বিপর্যয় ও পাহাড় ধসে জীবনহানির শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন: “দেশের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। পাহাড় কাটা বা অবৈধভাবে জমি ভরাটের মতো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্যগুলোর সঙ্গে সহজ যোগাযোগের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল। বন্দরটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ত্রিপুরার দূরত্ব কমে দাঁড়াবে মাত্র ৯০ কিলোমিটারে। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার এই বন্দরের লাভ-ক্ষতি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. শামছুল আলম জানিয়েছেন, প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামোর প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। তবে পাহাড় কাটার ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
এএস/.

অধিকাংশ কেন্দ্র জানুয়ারির মধ্যে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে: প্রধান উপদেষ্টা
মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন তুহিন, রামগড় (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি 






















