ঢাকা , সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo আমির হামজার সকল ওয়াজ-মাহফিল স্থগিত ঘোষণা Logo ভারতীয়দের ভিসামুক্ত ভ্রমণ সুবিধা প্রত্যাহার দুই দেশের Logo তিন শিক্ষার্থীর রিটে স্থগিত শাকসু নির্বাচন, উত্তাল ক্যাম্পাস Logo ভোটের আগে চাঙা রেমিট্যান্স, ১৮ দিনে এলো দুই বিলিয়ন ডলার Logo পাকিস্তানে ভূমিকম্পের আঘাত, কাঁপল চীন-আফগানিস্তান-তাজিকিস্তানও Logo পবিত্র শবে বরাত ৩ ফেব্রুয়ারি Logo চট্টগ্রামে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান, র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত Logo অধিকাংশ কেন্দ্র জানুয়ারির মধ্যে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে: প্রধান উপদেষ্টা Logo গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিন : প্রধান উপদেষ্টা Logo আমির হামজার সমর্থনে বক্তব্য দেয়ার সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন কুষ্টিয়া জেলা আমির

শীতে আলু ক্ষেতে জেঁকে বসেছে মড়ক রোগ

* দিশেহারা কৃষক,ব্যাপক
লোকসানের শঙ্কা

রংপুর অঞ্চলে গত কয়েকদিনের টানা শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে প্রকৃতি। এই বৈরী আবহাওয়ার সুযোগে আলু ক্ষেতে জেঁকে বসেছে ঘাতক রোগ ‘লেট ব্লাইট’ বা মড়ক। কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় চাষিদের মতে, কুয়াশাচ্ছন্ন মেঘলা আবহাওয়া আর নিম্ন তাপমাত্রার কারণে আলুর পাতা দ্রুত পচে যাচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণে ছত্রাকনাশক স্প্রে করেও হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, জেলায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন হাড়কাঁপানো শীতে তারাগঞ্জ, মিঠাপুকুর ও পীরগাছা উপজেলার বিস্তীর্ণ আলু ক্ষেতে মড়কের প্রকোপ দেখা দিয়েছে।

মিঠাপুকুর উপজেলার শঠিবাড়ি সেরুডাঙ্গা এলাকার কৃষক আবু বকর জানান, তার আলু ক্ষেতে উঠতি গাছগুলোর পাতার নিচে কালচে রং ধরেছে। ঘন কুয়াশা ও শীতের তীব্রতা থাকায় আলু ক্ষেত নিয়ে চিন্তিত তিনি। কৃষি অফিসের পরামর্শে আলুর রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কীটনাশক স্প্রে ব্যবহার করলেও আলুর উৎপাদন আশানুরূপ হবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটছে তার।

পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের বগুড়াপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, গত বছর আলুতে লোকসান হয়েছে। এ বছর অল্প পরিমাণ জমিতে আলুর চাষ করছি। কিন্তু শীতের সকালে আলু ক্ষেতে গিয়ে পোকা ধরা গাছ দেখলে মনটা ভেঙ্গে যায়। এমন আবহাওয়া থাকলে আবারও আলুতে লোকসানের আশঙ্কা আছে।

এদিকে, আলুর ব্লাইট বা মড়ক রোগ প্রতিরোধে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আগেই কৃষকদের সতর্ক করেছে। সম্প্রতি অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং থেকে প্রকাশিত সতর্কবার্তায় বলা হয় যে, শীত মৌসুমে লেট ব্লাইট রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে মহামারি রূপ নিতে পারে। এ অবস্থায় ফসল সুরক্ষায় কৃষকদের আগাম করণীয় ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সময়কালে আলুর মড়ক রোগের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশেষ করে নিম্ন তাপমাত্রা, কুয়াশাচ্ছন্ন মেঘলা আবহাওয়া ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হলে এ রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে।

এ মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে ১ লাখ ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরে ৫৪ হাজার ৫০০ হেক্টর, গাইবান্ধায় ১২ হাজার ৫০ হেক্টর, কুড়িগ্রামে ৭ হাজার ১০০ হেক্টর, লালমনিরহাটে ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং নীলফামারীতে ২২ হাজার হেক্টর।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলুর মড়ক রোগ ছত্রাকজনিত একটি মারাত্মক রোগ। এর কারণে আলু নষ্ট হওয়া, অতিরিক্ত ছত্রাকনাশক প্রয়োগ ও অন্যান্য বিষয় মিলিয়ে প্রতি মৌসুমে সারাদেশে ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত অপচয় হচ্ছে।

তারাগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোছা. তামান্না বেগম বলেন, আলুর মড়ক রোগ প্রতিরোধে কৃষকদের পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি নিয়মিত খোঁজ রাখা হচ্ছে। রোদ কম থাকলে অর্থাৎ বর্তমান আবহাওয়ায় আলুর পাতা গজানোর পর থেকে পাঁচ দিন পর পর ৪০ দিন ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক স্প্রে ব্যবহারে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এটার সঙ্গে পচন রোধে কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ওষুধ ব্যবহার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, শীতে ও কুয়াশার তীব্রতা বাড়লে আলু ক্ষেতে ঘন ঘন স্প্রে করতে হবে। আমার লক্ষ্মীপুর ব্লকে এবার ২১০ হেক্টর জমি আলু চাষ করা হচ্ছে। গতবারের চেয়ে এবার আবাদি জমির পরিমাণ একটু কমেছে বলেও জানান তিনি।

আলুর ব্লাইট বা মড়ক রোগের লক্ষণ প্রসঙ্গে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রথমে গাছের গোড়ার দিকের পাতায় ছোপ ছোপ ভেজা হালকা সবুজ গোলাকার বা বিভিন্ন আকারের দাগ দেখা যায়, যা দ্রুত কালো রং ধারণ করে এবং পাতা পচে যায়। সকাল বেলা মাঠে গেলে আক্রান্ত পাতার নিচে সাদা পাউডারের মতো জীবাণু দেখা যায়।

কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, রোগের অনুকূল আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার সাথে সাথে রোগ প্রতিরোধের জন্য ৭ দিন পর পর অনুমোদিত ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করে গাছ ভালোভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে। যদি ইতোমধ্যে ফসল রোগে আক্রান্ত হয়ে যায় তবে, জমিতে সেচ বন্ধ করা এবং ৪/৫ দিন পর পর অনুমোদিত ছত্রাকনাশক সঠিক মাত্রায় স্প্রে করতে হবে।

রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, আজ শনিবার সকাল ৯টায় রংপুরে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর আগের দিন শুক্রবারও এ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এএস/
জনপ্রিয় সংবাদ

আমির হামজার সকল ওয়াজ-মাহফিল স্থগিত ঘোষণা

শীতে আলু ক্ষেতে জেঁকে বসেছে মড়ক রোগ

আপডেট সময় ০৭:১৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

* দিশেহারা কৃষক,ব্যাপক
লোকসানের শঙ্কা

রংপুর অঞ্চলে গত কয়েকদিনের টানা শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে প্রকৃতি। এই বৈরী আবহাওয়ার সুযোগে আলু ক্ষেতে জেঁকে বসেছে ঘাতক রোগ ‘লেট ব্লাইট’ বা মড়ক। কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় চাষিদের মতে, কুয়াশাচ্ছন্ন মেঘলা আবহাওয়া আর নিম্ন তাপমাত্রার কারণে আলুর পাতা দ্রুত পচে যাচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণে ছত্রাকনাশক স্প্রে করেও হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, জেলায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন হাড়কাঁপানো শীতে তারাগঞ্জ, মিঠাপুকুর ও পীরগাছা উপজেলার বিস্তীর্ণ আলু ক্ষেতে মড়কের প্রকোপ দেখা দিয়েছে।

মিঠাপুকুর উপজেলার শঠিবাড়ি সেরুডাঙ্গা এলাকার কৃষক আবু বকর জানান, তার আলু ক্ষেতে উঠতি গাছগুলোর পাতার নিচে কালচে রং ধরেছে। ঘন কুয়াশা ও শীতের তীব্রতা থাকায় আলু ক্ষেত নিয়ে চিন্তিত তিনি। কৃষি অফিসের পরামর্শে আলুর রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কীটনাশক স্প্রে ব্যবহার করলেও আলুর উৎপাদন আশানুরূপ হবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটছে তার।

পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের বগুড়াপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, গত বছর আলুতে লোকসান হয়েছে। এ বছর অল্প পরিমাণ জমিতে আলুর চাষ করছি। কিন্তু শীতের সকালে আলু ক্ষেতে গিয়ে পোকা ধরা গাছ দেখলে মনটা ভেঙ্গে যায়। এমন আবহাওয়া থাকলে আবারও আলুতে লোকসানের আশঙ্কা আছে।

এদিকে, আলুর ব্লাইট বা মড়ক রোগ প্রতিরোধে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আগেই কৃষকদের সতর্ক করেছে। সম্প্রতি অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং থেকে প্রকাশিত সতর্কবার্তায় বলা হয় যে, শীত মৌসুমে লেট ব্লাইট রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে মহামারি রূপ নিতে পারে। এ অবস্থায় ফসল সুরক্ষায় কৃষকদের আগাম করণীয় ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সময়কালে আলুর মড়ক রোগের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশেষ করে নিম্ন তাপমাত্রা, কুয়াশাচ্ছন্ন মেঘলা আবহাওয়া ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হলে এ রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে।

এ মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে ১ লাখ ১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরে ৫৪ হাজার ৫০০ হেক্টর, গাইবান্ধায় ১২ হাজার ৫০ হেক্টর, কুড়িগ্রামে ৭ হাজার ১০০ হেক্টর, লালমনিরহাটে ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং নীলফামারীতে ২২ হাজার হেক্টর।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলুর মড়ক রোগ ছত্রাকজনিত একটি মারাত্মক রোগ। এর কারণে আলু নষ্ট হওয়া, অতিরিক্ত ছত্রাকনাশক প্রয়োগ ও অন্যান্য বিষয় মিলিয়ে প্রতি মৌসুমে সারাদেশে ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত অপচয় হচ্ছে।

তারাগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোছা. তামান্না বেগম বলেন, আলুর মড়ক রোগ প্রতিরোধে কৃষকদের পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি নিয়মিত খোঁজ রাখা হচ্ছে। রোদ কম থাকলে অর্থাৎ বর্তমান আবহাওয়ায় আলুর পাতা গজানোর পর থেকে পাঁচ দিন পর পর ৪০ দিন ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক স্প্রে ব্যবহারে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এটার সঙ্গে পচন রোধে কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ওষুধ ব্যবহার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, শীতে ও কুয়াশার তীব্রতা বাড়লে আলু ক্ষেতে ঘন ঘন স্প্রে করতে হবে। আমার লক্ষ্মীপুর ব্লকে এবার ২১০ হেক্টর জমি আলু চাষ করা হচ্ছে। গতবারের চেয়ে এবার আবাদি জমির পরিমাণ একটু কমেছে বলেও জানান তিনি।

আলুর ব্লাইট বা মড়ক রোগের লক্ষণ প্রসঙ্গে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রথমে গাছের গোড়ার দিকের পাতায় ছোপ ছোপ ভেজা হালকা সবুজ গোলাকার বা বিভিন্ন আকারের দাগ দেখা যায়, যা দ্রুত কালো রং ধারণ করে এবং পাতা পচে যায়। সকাল বেলা মাঠে গেলে আক্রান্ত পাতার নিচে সাদা পাউডারের মতো জীবাণু দেখা যায়।

কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, রোগের অনুকূল আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়ার সাথে সাথে রোগ প্রতিরোধের জন্য ৭ দিন পর পর অনুমোদিত ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে দুই গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করে গাছ ভালোভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে। যদি ইতোমধ্যে ফসল রোগে আক্রান্ত হয়ে যায় তবে, জমিতে সেচ বন্ধ করা এবং ৪/৫ দিন পর পর অনুমোদিত ছত্রাকনাশক সঠিক মাত্রায় স্প্রে করতে হবে।

রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, আজ শনিবার সকাল ৯টায় রংপুরে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর আগের দিন শুক্রবারও এ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এএস/