ঢাকা , সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
Logo আমির হামজার সমর্থনে বক্তব্য দেয়ার সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন কুষ্টিয়া জেলা আমির Logo সংস্কারের জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে : আসিফ নজরুল Logo এনসিপিকে চট্টগ্রাম-৮ আসন ছেড়ে দেওয়ার খবরে জামায়াতের ক্ষোভ Logo নির্বাচনে ময়মনসিংহ সেক্টরে দায়িত্বে থাকবে ১২৬ প্লাটুন বিজিবি ফোর্স Logo চানখারপুলে ৬ শিক্ষার্থী হত্যা মামলার রায় মঙ্গলবার Logo বক্স অফিসে ইতিহাস গড়ল ‘অ্যাভাটার থ্রি’, এক মাসেই ১৬ হাজার কোটি আয়! Logo নাসা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়েছে: শ্রম উপদেষ্টা Logo এবার কেয়া পায়েলের ১০ বছর আগের ছবি নেট-দুনিয়ায় ভাইরাল Logo ছাত্রদল সেক্রেটারির অভিযোগকে পরিকল্পিত ও অপপ্রচার, মন্তব্য আসিফ মাহমুদের Logo ডিগ্রি নয়, শিক্ষাই দায়িত্ববোধ শেখায়: শিক্ষা উপদেষ্টা

সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষা নয়: নান্দাইলে নিজেদের ভাগ্য বদলাতে নিজেরাই খুঁড়লেন খাল

সরকারি বরাদ্দের জন্য বছরের পর বছর প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে না ঘুরে নিজেদের সমস্যা সমাধানে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজগাতী ও বিলবেদারা গ্রামের মানুষ। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট দূর করতে এক কিলোমিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্যের একটি মৃতপ্রায় খাল নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে পুনখনন করেছেন তারা। গ্রামবাসীর এই স্বনির্ভর উদ্যোগ এখন পুরো উপজেলাজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।

সমস্যার শিকড় ও গ্রামবাসীর ভোগান্তি: 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজগাতী ও বিলবেদারা গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এই গুরুত্বপূর্ণ খালটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পলি জমে ভরাট হয়ে গিয়েছিল। এর ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো এবং কৃষকদের ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যেত। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সেচ পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ত। এই দ্বিমুখী সংকটে কয়েক হাজার মানুষের জীবন ও জীবিকা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল।

অভাবনীয় ঐক্য ও কর্মযজ্ঞ: 
প্রশাসনের কাছে বারবার ধরণা দিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে গ্রামবাসী নিজেরাই উদ্যোগী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আব্দুল হাই সরকার, রেজওয়ান খান, সাইফুল ইসলাম, রাসেল মিয়া, সাজ্জাদ হোসেন ও অলিউল্লাহসহ একঝাঁক উদ্যোমী মানুষের নেতৃত্বে পুরো গ্রাম ঐক্যবদ্ধ হয়।

গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়। এরপর আধুনিক যন্ত্রপাতির বদলে কোদাল আর ঝুড়ি নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে মাঠে নামেন স্থানীয় যুব ও কৃষকরা। টানা পরিশ্রমে পুনর্জন্ম পায় এক কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই মৃতপ্রায় খাল।

উদ্যোক্তাদের বক্তব্য: 
এই উদ্যোগের প্রধান সমন্বয়কারী মো. আব্দুল হাই সরকার বলেন, “আমরা বছরের পর বছর সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি দেখে আমাদের ঘরবাড়ি আর চাষাবাদ রক্ষায় নিজেরাই অর্থ সংগ্রহ করে কাজে হাত দিয়েছি।” আরেক উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রামের মানুষের একতাই এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। তবে খালের বাকি অংশ খনন ও এটি স্থায়ীভাবে রক্ষা করতে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।

সুফল ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা: 
খালটি খননের ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে কয়েক শ একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে। পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে পানি সঞ্চয় করে রাখা সম্ভব হবে বিধায় সেচ সুবিধা বাড়বে। স্থানীয়রা এখন দাবি জানিয়েছেন, প্রশাসন যেন এই স্বনির্ভর উদ্যোগকে মূল্যায়ন করে খালের স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

 

এএস/

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আমির হামজার সমর্থনে বক্তব্য দেয়ার সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন কুষ্টিয়া জেলা আমির

সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষা নয়: নান্দাইলে নিজেদের ভাগ্য বদলাতে নিজেরাই খুঁড়লেন খাল

আপডেট সময় ০৮:০৬:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

সরকারি বরাদ্দের জন্য বছরের পর বছর প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে না ঘুরে নিজেদের সমস্যা সমাধানে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজগাতী ও বিলবেদারা গ্রামের মানুষ। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকট দূর করতে এক কিলোমিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্যের একটি মৃতপ্রায় খাল নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে পুনখনন করেছেন তারা। গ্রামবাসীর এই স্বনির্ভর উদ্যোগ এখন পুরো উপজেলাজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।

সমস্যার শিকড় ও গ্রামবাসীর ভোগান্তি: 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজগাতী ও বিলবেদারা গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত এই গুরুত্বপূর্ণ খালটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পলি জমে ভরাট হয়ে গিয়েছিল। এর ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো এবং কৃষকদের ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যেত। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সেচ পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ত। এই দ্বিমুখী সংকটে কয়েক হাজার মানুষের জীবন ও জীবিকা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল।

অভাবনীয় ঐক্য ও কর্মযজ্ঞ: 
প্রশাসনের কাছে বারবার ধরণা দিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে গ্রামবাসী নিজেরাই উদ্যোগী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আব্দুল হাই সরকার, রেজওয়ান খান, সাইফুল ইসলাম, রাসেল মিয়া, সাজ্জাদ হোসেন ও অলিউল্লাহসহ একঝাঁক উদ্যোমী মানুষের নেতৃত্বে পুরো গ্রাম ঐক্যবদ্ধ হয়।

গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়। এরপর আধুনিক যন্ত্রপাতির বদলে কোদাল আর ঝুড়ি নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে মাঠে নামেন স্থানীয় যুব ও কৃষকরা। টানা পরিশ্রমে পুনর্জন্ম পায় এক কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ এই মৃতপ্রায় খাল।

উদ্যোক্তাদের বক্তব্য: 
এই উদ্যোগের প্রধান সমন্বয়কারী মো. আব্দুল হাই সরকার বলেন, “আমরা বছরের পর বছর সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি দেখে আমাদের ঘরবাড়ি আর চাষাবাদ রক্ষায় নিজেরাই অর্থ সংগ্রহ করে কাজে হাত দিয়েছি।” আরেক উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রামের মানুষের একতাই এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। তবে খালের বাকি অংশ খনন ও এটি স্থায়ীভাবে রক্ষা করতে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।

সুফল ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা: 
খালটি খননের ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে কয়েক শ একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে। পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে পানি সঞ্চয় করে রাখা সম্ভব হবে বিধায় সেচ সুবিধা বাড়বে। স্থানীয়রা এখন দাবি জানিয়েছেন, প্রশাসন যেন এই স্বনির্ভর উদ্যোগকে মূল্যায়ন করে খালের স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

 

এএস/