* সংস্কার চললেও সামান্য বৃষ্টিতে, রাস্তাগুলো খানাখন্দে ভারা
* উন্নয়নের মহাসড়ক নাকি দুর্নীতির চোরাবালি
* রাস্তায় দুবার কার্পেটিং করে বরাদ্দ লোপাট
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার ও অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র বগুড়াকে ঘিরে গত ১৭ বছরে নেওয়া হয়েছে হাজারো প্রকল্প। সরকারি নথিপত্র বলছে, ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জেলায় উন্নয়ন খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এই বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়নি। কাগজ-কলমে উন্নয়নের মহোৎসব চললেও বাস্তবে বগুড়ার জনজীবন স্থবির হয়ে আছে অপরিকল্পিত কাজ আর দুর্নীতির কারণে।
সরকারি তথ্যমতে, উন্নয়নের সবচেয়ে বড় অংশ খরচ হয়েছে সড়ক ও যোগাযোগ খাতে (প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা)। এছাড়া পৌর অবকাঠামোতে ৩,৫০০ কোটি এবং নদীশাসনে ৩,০০০ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।
অথচ বাস্তব চিত্র ভিন্ন। শহরের বনানী থেকে মাটিডালি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বছরের পর বছর সংস্কার চললেও সামান্য বৃষ্টিতেই সেগুলো খানাখন্দে ভরে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, তিন বছরে একই রাস্তায় দুবার কার্পেটিং করে বরাদ্দ লোপাট করা হয়েছে। পৌর এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার পেছনে শত শত কোটি টাকা ঢালা হলেও জলাবদ্ধতা বগুড়াবাসীর নিত্যসঙ্গী।
সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অনেক ড্রেন নির্মাণ করা হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ‘আউটলেট’ রাখা হয়নি। ফলে প্রথম শ্রেণির কর দিয়েও নাগরিকরা বঞ্চিত হচ্ছেন ন্যূনতম সুবিধা থেকে। যমুনা ও বাঙালি নদীর তীর সংরক্ষণে ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও প্রতি বছরই নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষার আগে দায়সারাভাবে জিওব্যাগ ফেলে বিল তুলে নেওয়া হয়, যা প্রথম জোয়ারেই ভেসে যায়। জনপ্রতিনিধি আব্দুল কাদেরের মতে, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট এবং লাইসেন্স ভাড়া দিয়ে সাব-কন্ট্রাক্টরদের মাধ্যমে কাজ করানোই এই অধঃপতনের মূল কারণ। কাজের মান নিশ্চিত না করেই প্রকল্প সমাপ্ত দেখানো এখন নিয়মিত ঘটনা।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৩,৫০০ কোটি টাকা খরচ করে সুদৃশ্য ভবন নির্মিত হয়েছে। তবে শিবগঞ্জের মতো উপজেলাগুলোতে দেখা গেছে, আধুনিক স্কুল ভবন থাকলেও সেখানে বিজ্ঞান বা গণিতের শিক্ষক নেই। একইভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে দামী এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে সেগুলো ধুলো জমছে।
ফলে উন্নত চিকিৎসার জন্য মানুষকে এখনো রাজধানীমুখী হতে হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ও গবেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং রাজনৈতিক সিন্ডিকেটের কারণে বগুড়া পিছিয়ে পড়েছে। উন্নয়ন এখানে টেকসই না হয়ে কেবল ‘আইওয়াশ’ প্রকল্পে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, প্রকল্পগুলোর গুণগত মান নিশ্চিত করার প্রাথমিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর। তবে বিগত বছরগুলোতে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএস/

আমির হামজার সকল ওয়াজ-মাহফিল স্থগিত ঘোষণা
বগুড়া প্রতিনিধি 























