ঢাকা , শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
আপত্তি শিক্ষার্থীদের

এইচএসসি ২৪ মাসের পরীক্ষা ১৭ মাসে

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা দুই বছর মেয়াদি। এই দুই বছর পড়াশোনা শেষে উচ্চ মাধ্যমিক পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু এবারের এইচএসসি পরীক্ষা হবে স্বাভাবিক সময়ের সাত মাস আগে, অর্থাৎ ১৭ মাস শেষে। আর এতেই আপত্তি শিক্ষার্থীদের।

আগামী ৩০ জুন থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। প্রথম দিন বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্রের পরীক্ষা হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে পরীক্ষা চলবে বেলা ১টা পর্যন্ত। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ১১ আগস্ট। এরপর ব্যাবহারিক পরীক্ষা শুরু হবে।

শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, পড়াশোনার জন্য সময় কম পাওয়ায় সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। তবে এবারের পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীরা বলছেন, সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করার ফলে আমাদের কোনো সুবিধা হচ্ছে না। তাই সিলেবাস আরও কমাতে হবে, নইলে পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে হবে।

আসিফ হোসেন নামে এক পরীক্ষার্থী জানান, সিলেবাসের যে অংশটুকু কমানো হয়েছে সেটুকু শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে বাদ দিয়ে পড়েন। ফলে সিলেবাস কমানোর ফলে কোনো সুবিধা হবে না। ফল খারাপ হবে। সারাজীবন আমাদের এর ভোগান্তি পেতে হবে।

তবে মুনতাসির নামে এক পরীক্ষার্থী বলেছেন, সিলেবাস আর কমানোর প্রয়োজন নেই। সিলেবাস কমানো হলে শিখন ঘাটতি থেকে যাবে। তাই সিলেবাস না কমিয়ে অন্তত পরীক্ষা দুই মাস পেছানো হোক। আজিজুল ইসলাম নামে অন্য এক পরীক্ষার্থীর মতে, আগস্টের শেষে এই পরীক্ষা নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের জন্য উপকার হবে। ৩০ জুন পরীক্ষা শুরু হলে এবারের ফল খারাপ হবে।

সিলেবাস আরও সংক্ষিপ্ত করা বা পরীক্ষা আরও পিছিয়ে দেওয়ার দাবিতে আগামী ২২ মে মানববন্ধন করবেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিভিন্ন গণমাধ্যম অফিসে ফোন করে তাদের এই কর্মসূচির কথা জানানো হয়।

তবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আবুল বাশার বলেন, যারা এবার এইচএসসি পরীক্ষা দেবে তাদের সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ফলে পরীক্ষা পেছানোর আর কোনো সুযোগ নেই।

দেশে ২০১০ সাল থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এসএসসি এবং এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়ে আসছিল; কিন্তু করোনায় শিক্ষাসূচি পরীক্ষা সূচিতে এলোমেলো হয়ে যায়। ২০২০ সালে এসএসসি পরীক্ষা সময়মতো নেওয়া গেলেও করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে এইচএসসি পরীক্ষা হয়নি। শিক্ষাসূচি ভেঙে পড়ায় ২০২১ ও ২০২২ সালে নেওয়া হয়েছিল সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে।

২০২২ সালে যারা এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে তারাই এবার ২০২৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন। ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ঐ বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে। আর ফল প্রকাশ পায় একই বছরের নভেম্বরে। কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে ঐ শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয় গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে।

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ  নেবেন তারিকুল ইসলাম। তিনি জানান, গত বছরের পবিত্র রমজানে ক্লাস বন্ধ ছিল। এছাড়া অনেক কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র থাকায় সেখানে পাঠদানও বন্ধ ছিল। ফলে পাঠদানের সময়গুলোতেও পাঠদান হয়নি।

২০২১ সালে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা শুধু গ্রুপভিত্তিক তিনটি বিষয়ে পরীক্ষার সময় ও পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়া হয়। সেই সিলেবাস বাড়িয়ে ২০২২ সালে নেওয়া হয় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা। সে বছর পরীক্ষার সময় কিছুটা কম ছিল। আর ২০২৩ সালের এসএসসি ও এইচএসসি সমমানের পরীক্ষা হয়েছে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে। তবে এসএসসির আইসিটি ছাড়া এ দুই পাবলিক পরীক্ষা অন্যান্য বিষয়ে পূর্ণ সময় ও নম্বরে নেওয়া হয়েছিল।

আপত্তি শিক্ষার্থীদের

এইচএসসি ২৪ মাসের পরীক্ষা ১৭ মাসে

আপডেট সময় ১২:৫৮:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা দুই বছর মেয়াদি। এই দুই বছর পড়াশোনা শেষে উচ্চ মাধ্যমিক পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু এবারের এইচএসসি পরীক্ষা হবে স্বাভাবিক সময়ের সাত মাস আগে, অর্থাৎ ১৭ মাস শেষে। আর এতেই আপত্তি শিক্ষার্থীদের।

আগামী ৩০ জুন থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করেছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। প্রথম দিন বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্রের পরীক্ষা হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে পরীক্ষা চলবে বেলা ১টা পর্যন্ত। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ১১ আগস্ট। এরপর ব্যাবহারিক পরীক্ষা শুরু হবে।

শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা বলছেন, পড়াশোনার জন্য সময় কম পাওয়ায় সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। তবে এবারের পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীরা বলছেন, সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করার ফলে আমাদের কোনো সুবিধা হচ্ছে না। তাই সিলেবাস আরও কমাতে হবে, নইলে পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে হবে।

আসিফ হোসেন নামে এক পরীক্ষার্থী জানান, সিলেবাসের যে অংশটুকু কমানো হয়েছে সেটুকু শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে বাদ দিয়ে পড়েন। ফলে সিলেবাস কমানোর ফলে কোনো সুবিধা হবে না। ফল খারাপ হবে। সারাজীবন আমাদের এর ভোগান্তি পেতে হবে।

তবে মুনতাসির নামে এক পরীক্ষার্থী বলেছেন, সিলেবাস আর কমানোর প্রয়োজন নেই। সিলেবাস কমানো হলে শিখন ঘাটতি থেকে যাবে। তাই সিলেবাস না কমিয়ে অন্তত পরীক্ষা দুই মাস পেছানো হোক। আজিজুল ইসলাম নামে অন্য এক পরীক্ষার্থীর মতে, আগস্টের শেষে এই পরীক্ষা নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের জন্য উপকার হবে। ৩০ জুন পরীক্ষা শুরু হলে এবারের ফল খারাপ হবে।

সিলেবাস আরও সংক্ষিপ্ত করা বা পরীক্ষা আরও পিছিয়ে দেওয়ার দাবিতে আগামী ২২ মে মানববন্ধন করবেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিভিন্ন গণমাধ্যম অফিসে ফোন করে তাদের এই কর্মসূচির কথা জানানো হয়।

তবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আবুল বাশার বলেন, যারা এবার এইচএসসি পরীক্ষা দেবে তাদের সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ফলে পরীক্ষা পেছানোর আর কোনো সুযোগ নেই।

দেশে ২০১০ সাল থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এসএসসি এবং এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়ে আসছিল; কিন্তু করোনায় শিক্ষাসূচি পরীক্ষা সূচিতে এলোমেলো হয়ে যায়। ২০২০ সালে এসএসসি পরীক্ষা সময়মতো নেওয়া গেলেও করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে এইচএসসি পরীক্ষা হয়নি। শিক্ষাসূচি ভেঙে পড়ায় ২০২১ ও ২০২২ সালে নেওয়া হয়েছিল সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে।

২০২২ সালে যারা এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে তারাই এবার ২০২৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন। ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ঐ বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে। আর ফল প্রকাশ পায় একই বছরের নভেম্বরে। কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে ঐ শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হয় গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে।

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ  নেবেন তারিকুল ইসলাম। তিনি জানান, গত বছরের পবিত্র রমজানে ক্লাস বন্ধ ছিল। এছাড়া অনেক কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র থাকায় সেখানে পাঠদানও বন্ধ ছিল। ফলে পাঠদানের সময়গুলোতেও পাঠদান হয়নি।

২০২১ সালে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা শুধু গ্রুপভিত্তিক তিনটি বিষয়ে পরীক্ষার সময় ও পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়া হয়। সেই সিলেবাস বাড়িয়ে ২০২২ সালে নেওয়া হয় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা। সে বছর পরীক্ষার সময় কিছুটা কম ছিল। আর ২০২৩ সালের এসএসসি ও এইচএসসি সমমানের পরীক্ষা হয়েছে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে। তবে এসএসসির আইসিটি ছাড়া এ দুই পাবলিক পরীক্ষা অন্যান্য বিষয়ে পূর্ণ সময় ও নম্বরে নেওয়া হয়েছিল।