ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি না হলে কমিশনকে জানাবো

  • মোঃ আবুল হাছান
  • আপডেট সময় ১১:১৫:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

মামলার স্বার্থে আদালত যদি মনে করেন সপ্তাহে দুইদিন কন্টিনিউ করা দরকার তাহলে দুই দিনেই কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এটা সম্পূর্ণ আদালতের উপর নির্ভর করে এটা আদালতের এখতিয়ার। সুপ্রিম কোর্ট ও উচ্চ আদালতের যে নির্দেশনা আছে সেই নির্দেশনা মোতাবেক আমরা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। যদি এই সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে না পারি তখন আমরা প্রয়োজনে কমিশনকে বিষয়টি অবহিত করব।

গত মঙ্গলবার (২ জুলাই) ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক সৈয়দ আরাফাত হোসেন ডেসটিনি ট্রি প্ল্যানটেশন মামলার শুনানী শেষে আগামী ৯ জুলাই পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য করেন।

ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের মামলায় ডেসটিনি গ্রুপের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী প্রধান আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী ও ব্যারিস্টার উজ্জ্বল কুমার ভৌমিক।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর ও তার সহকারী এডভোকেট মোরশেদ আলম শুভ।

মামলার শুনানী শেষে দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর দৈনিক ডেসটিনিকে বলেন বর্তমান মামলা চার্জ হওয়ার পরে বিচারিক আদালতে স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চলছিল। তখন উনাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা ছিল বিচারক একটি মামলা কে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির করেন। তিনি বলেছিলেন একটি মামলা শেষ হওয়ার পর অপর মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কাজ করা হবে। পরবর্তীতে ঐ মামলাটি শেষ হওয়ার পর নতুন বিচারক আসেন।

এই সময় উচ্চ আদালত ও সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশনা ছিল এক বছরের মধ্যে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করার। সে অনুযায়ী আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি তখন গড়ে প্রতিদিন সাতজন করে সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আমরা এই পর্যন্ত ২১৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১২ জনের সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত করেছি। এখনো আমাদের ২৭শে নভেম্বর পর্যন্ত সময় আছে।

তিনি বলেন বিজ্ঞ বিচারিক আদালতের যে বিচারক ছিলেন তিনি মৌলভীবাজার বদলি হয়েছেন। উনার দায়িত্ব বুজিয়ে দিয়েছেন। আগামীকাল (৩রা জুলাই) নতুন বিচারক জয়েন করবেন তার এখানে পদায়ন হয়েছে। এরপর ধার্য তারিখে সিদ্ধান্ত হবে মামলাটি কিভাবে পরিচালিত হবে। উনি যে ভাবে সিদ্ধান্ত দিবেন আমরা সেইভাবে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য চেষ্টা করব।

সুপ্রিম কোর্ট ও উচ্চ আদালতের যে নির্দেশনা আছে সেই নির্দেশনা মোতাবেক আমরা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। যদি এই সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে না পারি তখন আমরা প্রয়োজনে কমিশনকে বিষয়টি অবহিত করব। কমিশন উচ্চ আদালতকে অবহিত করবেন এবং সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করবেন। বিচারক নাই এই কথা বলা যাবে না যিনি ভারপ্রাপ্ত আছেন তার কাছে আমরা সময়ের আবেদন করেছি।

কাস্টরিতে যারা আছেন তারাও আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। আদালতের নতুন তারিখ নিধারন হয়েছে কিছুক্ষন এর মধ্যে আমরা সেই তারিখ জানতে পারব। তদন্তকারী কর্মকর্তা কিভাবে তদন্ত করেছেন সেই বিষয়ে তিনি আদালতে তার স্বাক্ষ্য প্রদান করবেন। আমাদের আরও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ও আলামত আছে এই সমস্ত সাক্ষীদের কে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব আর যদি এই সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করা না যায় তাহলে আবেদন জানানোর সুযোগ আছে। মামলার বর্তমান অবস্থা আমরা কমিশন কে অবহিত করব। কমিশন প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের কাছে সময়ের আবেদন  করবেন। আবেদন জানানোর সুযোগ রাষ্ট্র পক্ষ ও আসামী পক্ষ উভয়ের রয়েছে।

মামলার ন্যায় বিচারের স্বার্থে যা যা প্রয়োজন আদালতের কাছে আবেদন জানানো হবে আদালত সিদ্ধান্ত নিবেন। আমাদের সাক্ষী শেষ হওয়ার পরে তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য নেওয়া হবে। স্বাক্ষীদের শেষে মূলত তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য নেওয়া হয়। আমরা যদি কোন কারনে ফেইল করি তখন আমাদের বিকল্প সাক্ষী আছে সেই আলামত আমরা আদালতে উপস্থাপন করব।

তিনি আরও বলেন পাশাপাশি কোন সাক্ষী হয় না তবে আদালত বলেছিলেন মৌখিকভাবে তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষী চলমান থাকুক যদি আরও গুরুত্বপূর্ণ কোন সাক্ষী আসে তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তার পাশাপাশি নেওয়া হবে। আগে সাক্ষী শেষ হবে তারপর তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য নেওয়া হবে।

কতজন নেওয়া হবে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন সাক্ষী আমাদের অনেক বাকি আছে  সমস্ত সাক্ষীদের বিষয়ে প্রসেস যাবে তখন জানা যাবে সাক্ষী কোথায় আছে কতজন আছে এর আগে বলা যাবে না। আমরা আমাদের সাক্ষীর তালিকা ইতিমধ্যে আদালতে জমা দিয়েছি এবং আদালত কেউ অবহিত করেছি এই সকল সাক্ষীদেরকে বাধ্যতামূলক নিতে হবে।

একসাথে আদালত সব সাক্ষী নেবে না কারণ আদালতের অন্যান্য বিচার কার্যক্রম আছে সেই বিচার কার্যক্রমের পাশাপাশি আমাদের মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ নেওয়া হবে। প্রতি সপ্তাহে সাত জনের মতো সাক্ষী নেওয়া হয়েছে। মামলার স্বার্থে আদালত যদি মনে করে সপ্তাহে দুইদিন কন্টিনিউ করা দরকার তাহলে উনি দুই দিনেই কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এটা সম্পূর্ণ আদালতের উপর নির্ভর করে এটা উনার এখতিয়ার।

মাননীয় আদালত প্রতিদিন তো আর সাক্ষী নিবে না আদালত যখন বসবেন তখন উনি যে শিডিউল দিবেন সে সিডিউল অনুযায়ী আমরা বিস্তারিত জানাতে পারবো। আমরা চেষ্টা করব এই মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য । প্রতিদিন সাত থেকে বারজন করে সাক্ষী নেওয়া হয়েছে। ডেসটিনি মাল্টিপার পাসের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

৪৫ লক্ষ বিনিয়োগকারী ও ক্রেতা-পরিবেশকগন যেন ন্যায় বিচার পায় এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ন্যায় বিচার আমি চাই রাষ্ট্র চায় আদালতও চায় ন্যায় বিচার করার জন্যই আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অনেকেই অনেক কথা বলে বলবে সাধারন মানুষের কথা আদালতের ভাষা না। আদালত সাক্ষ্য ও তথ্য প্রমানের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নিবেন এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

ডেসটিনি পক্ষের আইনজীবি এহসানুল হক সমাজী বলেন ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেড এর মামলায় বিজ্ঞ বিচারক এর বদলিজনিত কারণে আজ (২রা জুলাই) মামলার নিয়মিত বিচারকার্য অনুষ্ঠিত হয়নি। যেহেতু তিনি স্টেশন লিভ করেছেন তাই নবাগত যিনি আসবেন তিনি দায়িত্ব বুজে নিবেন । তিনি এখনো চার্জ টেকওভার করেননি। পরবর্তী মামলার তারিখ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন যতক্ষণ পর্যন্ত কজ লিস্টে না উঠবে ততক্ষণ পর্যন্ত বলা ঠিক হবে না। তবে সম্ভাব্য তারিখ হচ্ছে ৯ জুলাই ২০২৪।

নতুন বিজ্ঞ বিচারক যিনি আসবেন তিনি মূলত সিদ্ধান্ত নিবেন কতজন সাক্ষী নিবেন এবং কখন থেকে তদন্তকারী কর্মকর্তার স্বাক্ষ্য গ্রহন শুরু করবেন সব কিছু নির্ভর করে উনার উপর। মাননীয় বিজ্ঞ বিচারক আসার পরে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের যে নির্দেশনা রয়েছে বিধিবদ্ধ সময়ের মধ্যে মামলা টি নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে তিনিই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহন করবেন।

ছয় মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশঃ এই বছরের ২৭মে ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের মামলায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীনের জামিন দেয়নি সুপ্রীম কোর্ট। তাঁর জামিন আবেদনের শুনানি ছয় মাসের জন্য স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) রাখা হয়েছে। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

এর আগে এই মামলায় জামিন চেয়ে মোহাম্মদ রফিকুল আমীন হাইকোর্টে আবেদন করেন, যা গত বছরের ২ মার্চ খারিজ হয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে জামিন চেয়ে আবেদন করেন মোহাম্মদ রফিকুল আমীন। গত বছরের ২৯ অক্টোবর আপিল বিভাগ এক আদেশে জামিন আবেদনটি নথিভুক্ত করে বিচারিক আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে থাকায় এই মামলার বিচার এক বছরের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ প্রদান করেন।

ডেসটিনি গ্রুপের দুই মামলার মধ্যে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির মামলায় ২০২২ সালের ১২ মে রায় দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক। রায়ে ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিকুল আমীন,সাবেক সেনাপ্রধান এম হারুন-অর-রশীদসহ ৪৬ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

১টি মামলায় জামিনঃ  মোহাম্মদ রফিকুল আমীনকে ১২ বছরের কারাদণ্ড ও ২০০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন রফিকুল আমীন। হাইকোর্ট গত বছরের ২২ জুন আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে রফিকুল আমীনের ২০০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড স্থগিত করেন। ডেসটিনি গ্রুপের এক মামলায় ১২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কোম্পানির এমডি রফিকুল আমিনকে ১ বছরের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে তার বিরুদ্ধে আরো মামলা বিচারাধীন থাকায় তিনি এখনই কারামুক্তি পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

গত (৬ মার্চ) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

দুদকের অভিযোগঃ ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি এবং ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের নামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১২ সালের ৩১ জুলাই মোহাম্মদ রফিকুল আমীনসহ ডেসটিনির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয় রাজধানীর কলাবাগান থানায়। দুই মামলায় মোট ৪ হাজার ১১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়।

দুই বছর তদন্তের পর ২০১৪ সালের ৪ মে একটি (ট্রি প্ল্যান্টেশন) মামলায় মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ১৯ জন এবং অপর মামলায় ৪৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মোহাম্মদ রফিকুল আমীনসহ ১২ জনের নাম দুটি মামলাতেই রয়েছে। দুই মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৫৩। আসামিদের মধ্যে ১২ বছরের এর বেশী সময় কারাগারে আছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড এর সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন ও পরিচালক ফারাহ দিবা। জামিনে আছেন সাবেক সেনাপ্রধান এম হারুন-অর-রশীদ। বাকিরা পলাতক।

গত (২ জুলাই ) শুনানীতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন, ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড এর সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, পরিচালক ফারাহ দিবা।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি না হলে কমিশনকে জানাবো

আপডেট সময় ১১:১৫:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুলাই ২০২৪

মামলার স্বার্থে আদালত যদি মনে করেন সপ্তাহে দুইদিন কন্টিনিউ করা দরকার তাহলে দুই দিনেই কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এটা সম্পূর্ণ আদালতের উপর নির্ভর করে এটা আদালতের এখতিয়ার। সুপ্রিম কোর্ট ও উচ্চ আদালতের যে নির্দেশনা আছে সেই নির্দেশনা মোতাবেক আমরা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। যদি এই সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে না পারি তখন আমরা প্রয়োজনে কমিশনকে বিষয়টি অবহিত করব।

গত মঙ্গলবার (২ জুলাই) ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক সৈয়দ আরাফাত হোসেন ডেসটিনি ট্রি প্ল্যানটেশন মামলার শুনানী শেষে আগামী ৯ জুলাই পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য করেন।

ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের মামলায় ডেসটিনি গ্রুপের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী প্রধান আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী ও ব্যারিস্টার উজ্জ্বল কুমার ভৌমিক।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর ও তার সহকারী এডভোকেট মোরশেদ আলম শুভ।

মামলার শুনানী শেষে দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর দৈনিক ডেসটিনিকে বলেন বর্তমান মামলা চার্জ হওয়ার পরে বিচারিক আদালতে স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চলছিল। তখন উনাদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা ছিল বিচারক একটি মামলা কে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির করেন। তিনি বলেছিলেন একটি মামলা শেষ হওয়ার পর অপর মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কাজ করা হবে। পরবর্তীতে ঐ মামলাটি শেষ হওয়ার পর নতুন বিচারক আসেন।

এই সময় উচ্চ আদালত ও সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশনা ছিল এক বছরের মধ্যে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করার। সে অনুযায়ী আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি তখন গড়ে প্রতিদিন সাতজন করে সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আমরা এই পর্যন্ত ২১৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১২ জনের সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত করেছি। এখনো আমাদের ২৭শে নভেম্বর পর্যন্ত সময় আছে।

তিনি বলেন বিজ্ঞ বিচারিক আদালতের যে বিচারক ছিলেন তিনি মৌলভীবাজার বদলি হয়েছেন। উনার দায়িত্ব বুজিয়ে দিয়েছেন। আগামীকাল (৩রা জুলাই) নতুন বিচারক জয়েন করবেন তার এখানে পদায়ন হয়েছে। এরপর ধার্য তারিখে সিদ্ধান্ত হবে মামলাটি কিভাবে পরিচালিত হবে। উনি যে ভাবে সিদ্ধান্ত দিবেন আমরা সেইভাবে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য চেষ্টা করব।

সুপ্রিম কোর্ট ও উচ্চ আদালতের যে নির্দেশনা আছে সেই নির্দেশনা মোতাবেক আমরা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। যদি এই সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে না পারি তখন আমরা প্রয়োজনে কমিশনকে বিষয়টি অবহিত করব। কমিশন উচ্চ আদালতকে অবহিত করবেন এবং সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করবেন। বিচারক নাই এই কথা বলা যাবে না যিনি ভারপ্রাপ্ত আছেন তার কাছে আমরা সময়ের আবেদন করেছি।

কাস্টরিতে যারা আছেন তারাও আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। আদালতের নতুন তারিখ নিধারন হয়েছে কিছুক্ষন এর মধ্যে আমরা সেই তারিখ জানতে পারব। তদন্তকারী কর্মকর্তা কিভাবে তদন্ত করেছেন সেই বিষয়ে তিনি আদালতে তার স্বাক্ষ্য প্রদান করবেন। আমাদের আরও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ও আলামত আছে এই সমস্ত সাক্ষীদের কে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব আর যদি এই সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করা না যায় তাহলে আবেদন জানানোর সুযোগ আছে। মামলার বর্তমান অবস্থা আমরা কমিশন কে অবহিত করব। কমিশন প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের কাছে সময়ের আবেদন  করবেন। আবেদন জানানোর সুযোগ রাষ্ট্র পক্ষ ও আসামী পক্ষ উভয়ের রয়েছে।

মামলার ন্যায় বিচারের স্বার্থে যা যা প্রয়োজন আদালতের কাছে আবেদন জানানো হবে আদালত সিদ্ধান্ত নিবেন। আমাদের সাক্ষী শেষ হওয়ার পরে তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য নেওয়া হবে। স্বাক্ষীদের শেষে মূলত তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য নেওয়া হয়। আমরা যদি কোন কারনে ফেইল করি তখন আমাদের বিকল্প সাক্ষী আছে সেই আলামত আমরা আদালতে উপস্থাপন করব।

তিনি আরও বলেন পাশাপাশি কোন সাক্ষী হয় না তবে আদালত বলেছিলেন মৌখিকভাবে তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষী চলমান থাকুক যদি আরও গুরুত্বপূর্ণ কোন সাক্ষী আসে তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তার পাশাপাশি নেওয়া হবে। আগে সাক্ষী শেষ হবে তারপর তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য নেওয়া হবে।

কতজন নেওয়া হবে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন সাক্ষী আমাদের অনেক বাকি আছে  সমস্ত সাক্ষীদের বিষয়ে প্রসেস যাবে তখন জানা যাবে সাক্ষী কোথায় আছে কতজন আছে এর আগে বলা যাবে না। আমরা আমাদের সাক্ষীর তালিকা ইতিমধ্যে আদালতে জমা দিয়েছি এবং আদালত কেউ অবহিত করেছি এই সকল সাক্ষীদেরকে বাধ্যতামূলক নিতে হবে।

একসাথে আদালত সব সাক্ষী নেবে না কারণ আদালতের অন্যান্য বিচার কার্যক্রম আছে সেই বিচার কার্যক্রমের পাশাপাশি আমাদের মামলার সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ নেওয়া হবে। প্রতি সপ্তাহে সাত জনের মতো সাক্ষী নেওয়া হয়েছে। মামলার স্বার্থে আদালত যদি মনে করে সপ্তাহে দুইদিন কন্টিনিউ করা দরকার তাহলে উনি দুই দিনেই কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এটা সম্পূর্ণ আদালতের উপর নির্ভর করে এটা উনার এখতিয়ার।

মাননীয় আদালত প্রতিদিন তো আর সাক্ষী নিবে না আদালত যখন বসবেন তখন উনি যে শিডিউল দিবেন সে সিডিউল অনুযায়ী আমরা বিস্তারিত জানাতে পারবো। আমরা চেষ্টা করব এই মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য । প্রতিদিন সাত থেকে বারজন করে সাক্ষী নেওয়া হয়েছে। ডেসটিনি মাল্টিপার পাসের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

৪৫ লক্ষ বিনিয়োগকারী ও ক্রেতা-পরিবেশকগন যেন ন্যায় বিচার পায় এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ন্যায় বিচার আমি চাই রাষ্ট্র চায় আদালতও চায় ন্যায় বিচার করার জন্যই আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অনেকেই অনেক কথা বলে বলবে সাধারন মানুষের কথা আদালতের ভাষা না। আদালত সাক্ষ্য ও তথ্য প্রমানের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নিবেন এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

ডেসটিনি পক্ষের আইনজীবি এহসানুল হক সমাজী বলেন ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেড এর মামলায় বিজ্ঞ বিচারক এর বদলিজনিত কারণে আজ (২রা জুলাই) মামলার নিয়মিত বিচারকার্য অনুষ্ঠিত হয়নি। যেহেতু তিনি স্টেশন লিভ করেছেন তাই নবাগত যিনি আসবেন তিনি দায়িত্ব বুজে নিবেন । তিনি এখনো চার্জ টেকওভার করেননি। পরবর্তী মামলার তারিখ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন যতক্ষণ পর্যন্ত কজ লিস্টে না উঠবে ততক্ষণ পর্যন্ত বলা ঠিক হবে না। তবে সম্ভাব্য তারিখ হচ্ছে ৯ জুলাই ২০২৪।

নতুন বিজ্ঞ বিচারক যিনি আসবেন তিনি মূলত সিদ্ধান্ত নিবেন কতজন সাক্ষী নিবেন এবং কখন থেকে তদন্তকারী কর্মকর্তার স্বাক্ষ্য গ্রহন শুরু করবেন সব কিছু নির্ভর করে উনার উপর। মাননীয় বিজ্ঞ বিচারক আসার পরে মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের যে নির্দেশনা রয়েছে বিধিবদ্ধ সময়ের মধ্যে মামলা টি নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে তিনিই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহন করবেন।

ছয় মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশঃ এই বছরের ২৭মে ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের মামলায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীনের জামিন দেয়নি সুপ্রীম কোর্ট। তাঁর জামিন আবেদনের শুনানি ছয় মাসের জন্য স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) রাখা হয়েছে। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

এর আগে এই মামলায় জামিন চেয়ে মোহাম্মদ রফিকুল আমীন হাইকোর্টে আবেদন করেন, যা গত বছরের ২ মার্চ খারিজ হয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে জামিন চেয়ে আবেদন করেন মোহাম্মদ রফিকুল আমীন। গত বছরের ২৯ অক্টোবর আপিল বিভাগ এক আদেশে জামিন আবেদনটি নথিভুক্ত করে বিচারিক আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে থাকায় এই মামলার বিচার এক বছরের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ প্রদান করেন।

ডেসটিনি গ্রুপের দুই মামলার মধ্যে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির মামলায় ২০২২ সালের ১২ মে রায় দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক। রায়ে ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিকুল আমীন,সাবেক সেনাপ্রধান এম হারুন-অর-রশীদসহ ৪৬ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

১টি মামলায় জামিনঃ  মোহাম্মদ রফিকুল আমীনকে ১২ বছরের কারাদণ্ড ও ২০০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন রফিকুল আমীন। হাইকোর্ট গত বছরের ২২ জুন আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে রফিকুল আমীনের ২০০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড স্থগিত করেন। ডেসটিনি গ্রুপের এক মামলায় ১২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কোম্পানির এমডি রফিকুল আমিনকে ১ বছরের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে তার বিরুদ্ধে আরো মামলা বিচারাধীন থাকায় তিনি এখনই কারামুক্তি পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

গত (৬ মার্চ) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

দুদকের অভিযোগঃ ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি এবং ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের নামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১২ সালের ৩১ জুলাই মোহাম্মদ রফিকুল আমীনসহ ডেসটিনির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয় রাজধানীর কলাবাগান থানায়। দুই মামলায় মোট ৪ হাজার ১১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়।

দুই বছর তদন্তের পর ২০১৪ সালের ৪ মে একটি (ট্রি প্ল্যান্টেশন) মামলায় মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ১৯ জন এবং অপর মামলায় ৪৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মোহাম্মদ রফিকুল আমীনসহ ১২ জনের নাম দুটি মামলাতেই রয়েছে। দুই মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৫৩। আসামিদের মধ্যে ১২ বছরের এর বেশী সময় কারাগারে আছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড এর সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন ও পরিচালক ফারাহ দিবা। জামিনে আছেন সাবেক সেনাপ্রধান এম হারুন-অর-রশীদ। বাকিরা পলাতক।

গত (২ জুলাই ) শুনানীতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন, ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড এর সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, পরিচালক ফারাহ দিবা।