ঢাকা , সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অভিনেত্রী হুমায়রার করুণ মৃত্যু নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললো পরিবার

  • বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:০৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
  • ১৩০ বার পড়া হয়েছে

সম্প্রতি করাচির ডিএইচএ ফেজ ৬–এর একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পাকিস্তানি অভিনেত্রী ও মডেল হুমায়রা আসগর আলীর পচাগলা মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর তার পরিবার অবশেষে মুখ খুলেছে। পরিবার জানিয়েছে, হুমায়রার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্কচ্ছেদ ঘটেনি এবং তারা মৃত্যুর ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করছেন।

হুমায়রার ভাই নাভিদ আসগর লাহোর থেকে এসে বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বোনের মরদেহ গ্রহণ করেন। ডন ইমেজেস ও দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন–এর বরাতে জানা যায়, তিনি করাচিতে সাংবাদিকদের বলেন—পরিবারকে অবহেলা বা সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

নাভিদ বলেন, “আমার বোন আত্মনির্ভরশীল ছিলেন। আল্লাহ ওকে মাফ করুন ও তার পরকালের যাত্রা সহজ করুন। আমাদের সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছিল—এই কথা ভুল। গত তিন দিন ধরে আমরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মরদেহ বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।”

ব্যক্তিগত শোকের কারণে হুমায়রার কাছে পৌঁছাতে দেরি হয়েছে বলেও জানান নাভিদ। তিনি জানান, সম্প্রতি এক আত্মীয়—একজন পিতৃপক্ষের খালার—সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কারণে তারা তীব্র মানসিক আঘাতে ছিলেন এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমার বাবা আগে থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। হুমায়রার মৃত্যু সংবাদ আসার পর তার কিছু মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, পরিবার গত এক বছরে হুমায়রার সঙ্গে যোগাযোগের বহু চেষ্টা করেছিল, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে যোগাযোগ ছিল না।

তিনি বলেন, “তার ফোন ছয় মাস ধরে বন্ধ ছিল। আমার মা শেষবার যখন তার সঙ্গে কথা বলেন, তখন তিনি তার ঠিকানা জানতে চেয়েছিলেন, কিন্তু হুমায়রা তা জানাননি।”

গুজব নয়, প্রমাণ চায় পরিবার। নাভিদ মিডিয়ার উদ্দেশে বলেন, “পরিবার নিয়ে জল্পনা না করে বরং প্রশ্ন করুন—বাড়িওয়ালা কেন এতদিন খোঁজ নিলেন না? দরজাটি কীভাবে খোলা হলো? ভবনে কোনো সিসিটিভি ছিল না কেন? আমরা সত্য জানতে চাই।”

এদিকে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে হুমায়রা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তার অ্যাপার্টমেন্টের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে, একটি ফোন এখনো নিখোঁজ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এসএসপি সাউথ মাহজোার আলী জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন সনাক্ত হয়নি এবং প্রাথমিকভাবে কোনো খুনের আলামত মেলেনি।

পাকিস্তানি বিনোদন জগতে নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন হুমায়রা। তারপরেও তার এমন করুণ মৃত্যু এবং এর চারপাশের সামাজিক প্রতিক্রিয়া আবারও প্রশ্ন তুলেছে—মানসিক স্বাস্থ্য, মিডিয়ার ভূমিকা এবং স্বাধীনভাবে বসবাসকারী নারীদের সামাজিক নিঃসঙ্গতা নিয়ে। –গালফনিউজ

ইউ

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিনেত্রী হুমায়রার করুণ মৃত্যু নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললো পরিবার

আপডেট সময় ০৬:০৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

সম্প্রতি করাচির ডিএইচএ ফেজ ৬–এর একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পাকিস্তানি অভিনেত্রী ও মডেল হুমায়রা আসগর আলীর পচাগলা মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর তার পরিবার অবশেষে মুখ খুলেছে। পরিবার জানিয়েছে, হুমায়রার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্কচ্ছেদ ঘটেনি এবং তারা মৃত্যুর ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করছেন।

হুমায়রার ভাই নাভিদ আসগর লাহোর থেকে এসে বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বোনের মরদেহ গ্রহণ করেন। ডন ইমেজেস ও দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন–এর বরাতে জানা যায়, তিনি করাচিতে সাংবাদিকদের বলেন—পরিবারকে অবহেলা বা সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

নাভিদ বলেন, “আমার বোন আত্মনির্ভরশীল ছিলেন। আল্লাহ ওকে মাফ করুন ও তার পরকালের যাত্রা সহজ করুন। আমাদের সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছিল—এই কথা ভুল। গত তিন দিন ধরে আমরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মরদেহ বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।”

ব্যক্তিগত শোকের কারণে হুমায়রার কাছে পৌঁছাতে দেরি হয়েছে বলেও জানান নাভিদ। তিনি জানান, সম্প্রতি এক আত্মীয়—একজন পিতৃপক্ষের খালার—সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর কারণে তারা তীব্র মানসিক আঘাতে ছিলেন এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমার বাবা আগে থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। হুমায়রার মৃত্যু সংবাদ আসার পর তার কিছু মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, পরিবার গত এক বছরে হুমায়রার সঙ্গে যোগাযোগের বহু চেষ্টা করেছিল, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে যোগাযোগ ছিল না।

তিনি বলেন, “তার ফোন ছয় মাস ধরে বন্ধ ছিল। আমার মা শেষবার যখন তার সঙ্গে কথা বলেন, তখন তিনি তার ঠিকানা জানতে চেয়েছিলেন, কিন্তু হুমায়রা তা জানাননি।”

গুজব নয়, প্রমাণ চায় পরিবার। নাভিদ মিডিয়ার উদ্দেশে বলেন, “পরিবার নিয়ে জল্পনা না করে বরং প্রশ্ন করুন—বাড়িওয়ালা কেন এতদিন খোঁজ নিলেন না? দরজাটি কীভাবে খোলা হলো? ভবনে কোনো সিসিটিভি ছিল না কেন? আমরা সত্য জানতে চাই।”

এদিকে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে হুমায়রা কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তার অ্যাপার্টমেন্টের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে, একটি ফোন এখনো নিখোঁজ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এসএসপি সাউথ মাহজোার আলী জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন সনাক্ত হয়নি এবং প্রাথমিকভাবে কোনো খুনের আলামত মেলেনি।

পাকিস্তানি বিনোদন জগতে নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন হুমায়রা। তারপরেও তার এমন করুণ মৃত্যু এবং এর চারপাশের সামাজিক প্রতিক্রিয়া আবারও প্রশ্ন তুলেছে—মানসিক স্বাস্থ্য, মিডিয়ার ভূমিকা এবং স্বাধীনভাবে বসবাসকারী নারীদের সামাজিক নিঃসঙ্গতা নিয়ে। –গালফনিউজ

ইউ