ঢাকা , বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নদীতে নোনা জল: জেলেদের সামাজিক ও পেশাগত নিরাপত্তা সংকট

  • কান্ট্রি ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৩৭:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৪৬ বার পড়া হয়েছে

//প্রকৃতির বৈরিতার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই,নোনাজলের অভিশাপে সাতক্ষীরা ও শ্যামনগর, সংকট নিরসনের দাবি ।
//উন্নত এবং নিরাপদ মাছ ধরার প্রযুক্তি, নৌকা ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা জরুরি, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাবে।
//আধুনিক মাছ ধরার কৌশল, নিরাপত্তা ও জরুরি অবস্থার মোকাবিলা বিষয়ে জেলেদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ নদীর নোনা জলে জেলেদের সামাজিক ও পেশাগত নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। এর ফলে দুর্যোগের সময় আশ্রয়, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরী প্রয়োজন হয়ে দাড়িয়েছে। নোনা জল থেকে রক্ষা পেতে হলে জেলেদের সামাজিক ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বীমা ব্যবস্থা চালু, আর্থিক সহায়তা প্রদান, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, উন্নত মাছ ধরার প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম সরবরাহ, আইনগত অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরী।

উপকূলীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাদের ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য আর্থিক সহায়তা, অনুদান এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। এবং দুর্যোগের সময় আশ্রয়, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে, বিশেষ করে যাদের বাসস্থান হারিয়েছে তাদের জন্য।

অন্যদিকে আইনগত সহায়তায় জেলেদের আইনি অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের আইনগত সেবা প্রদানের জন্য উদ্যোগ জন্য দাবি জানিছেনে উপকূলীয় বাসিন্দারা। উপকূলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগও খুব সীমিত। জেলেপল্লীর অধিকাংশ শিশু শৈশব থেকেই তারা মাছ ধরা, বিক্রি করা, ট্রলার বা নৌকা থেকে মাছ নামানো ইত্যাদি কাজে যুক্ত হয়ে যায়।

নোনাজলের অভিশাপ, বেড়িবাঁধে ভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বঞ্চনা-সব মিলিয়ে এখানে টিকে থাকাই মানুষের নিয়তি। বিশেষত নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। শিশুদের শৈশব হারিয়ে যায় শ্রমে জড়িয়ে। লবণাক্ত পানির কারণে গর্ভপাত, জরায়ু সমস্যা, ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়সহ ছড়িয়ে পড়েছে নানা রোগ।

শ্যামনগর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এক হাজার ৯৪৯টি গভীর, ৪৯১টি অগভীর, ৫০০টি এসএসটি ও ৪৪১টি ভিএসএসটি নলকূপ রয়েছে। এর মধ্যে আটটি গভীর, ১২৯টি অগভীর, ১৬টি এসএসটি ও ৪৪টি ভিএসএসটি নলকূপ কয়েক বছর ধরে অকেজো।

গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাছুদুল আলম বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকে গাবুরায় নদীভাঙনে ২৫০ শত বিঘা জমি বিলীন হয়েছে। ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২ ও ৩নং ওয়ার্ডে সুপেয় পানি পাওয়া যায়। ১, ৪ ও ৫নং ওয়ার্ডে আংশিক পাওয়া গেলেও বাকিগুলোতে লবণপানি। গাবুরাতে চিকিৎসাসেবাও ভঙ্গুর। চারটি কমিউনিটি ক্লিনিকের একটি বন্ধ। অন্যগুলোতে তেমন সেবা মেলে না।

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জিয়াউর রহমান বলেন, এ বিষয়ে শিগগিরই কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিভাগকে জানানো হয়েছে।

এএস/

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কাইডাইভিংয়ে সর্বাধিক পতাকা উড়িয়ে গিনেস রেকর্ড বাংলাদেশের

নদীতে নোনা জল: জেলেদের সামাজিক ও পেশাগত নিরাপত্তা সংকট

আপডেট সময় ০৭:৩৭:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

//প্রকৃতির বৈরিতার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই,নোনাজলের অভিশাপে সাতক্ষীরা ও শ্যামনগর, সংকট নিরসনের দাবি ।
//উন্নত এবং নিরাপদ মাছ ধরার প্রযুক্তি, নৌকা ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা জরুরি, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাবে।
//আধুনিক মাছ ধরার কৌশল, নিরাপত্তা ও জরুরি অবস্থার মোকাবিলা বিষয়ে জেলেদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ নদীর নোনা জলে জেলেদের সামাজিক ও পেশাগত নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। এর ফলে দুর্যোগের সময় আশ্রয়, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরী প্রয়োজন হয়ে দাড়িয়েছে। নোনা জল থেকে রক্ষা পেতে হলে জেলেদের সামাজিক ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বীমা ব্যবস্থা চালু, আর্থিক সহায়তা প্রদান, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, উন্নত মাছ ধরার প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম সরবরাহ, আইনগত অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরী।

উপকূলীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাদের ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য আর্থিক সহায়তা, অনুদান এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। এবং দুর্যোগের সময় আশ্রয়, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে, বিশেষ করে যাদের বাসস্থান হারিয়েছে তাদের জন্য।

অন্যদিকে আইনগত সহায়তায় জেলেদের আইনি অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের আইনগত সেবা প্রদানের জন্য উদ্যোগ জন্য দাবি জানিছেনে উপকূলীয় বাসিন্দারা। উপকূলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগও খুব সীমিত। জেলেপল্লীর অধিকাংশ শিশু শৈশব থেকেই তারা মাছ ধরা, বিক্রি করা, ট্রলার বা নৌকা থেকে মাছ নামানো ইত্যাদি কাজে যুক্ত হয়ে যায়।

নোনাজলের অভিশাপ, বেড়িবাঁধে ভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বঞ্চনা-সব মিলিয়ে এখানে টিকে থাকাই মানুষের নিয়তি। বিশেষত নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। শিশুদের শৈশব হারিয়ে যায় শ্রমে জড়িয়ে। লবণাক্ত পানির কারণে গর্ভপাত, জরায়ু সমস্যা, ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়সহ ছড়িয়ে পড়েছে নানা রোগ।

শ্যামনগর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এক হাজার ৯৪৯টি গভীর, ৪৯১টি অগভীর, ৫০০টি এসএসটি ও ৪৪১টি ভিএসএসটি নলকূপ রয়েছে। এর মধ্যে আটটি গভীর, ১২৯টি অগভীর, ১৬টি এসএসটি ও ৪৪টি ভিএসএসটি নলকূপ কয়েক বছর ধরে অকেজো।

গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাছুদুল আলম বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকে গাবুরায় নদীভাঙনে ২৫০ শত বিঘা জমি বিলীন হয়েছে। ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২ ও ৩নং ওয়ার্ডে সুপেয় পানি পাওয়া যায়। ১, ৪ ও ৫নং ওয়ার্ডে আংশিক পাওয়া গেলেও বাকিগুলোতে লবণপানি। গাবুরাতে চিকিৎসাসেবাও ভঙ্গুর। চারটি কমিউনিটি ক্লিনিকের একটি বন্ধ। অন্যগুলোতে তেমন সেবা মেলে না।

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জিয়াউর রহমান বলেন, এ বিষয়ে শিগগিরই কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে স্বাস্থ্য বিভাগকে জানানো হয়েছে।

এএস/