ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিপৎসীমার ওপরে তিস্তা নদীর পানি

লালমনিরহাট-কুড়িগ্রামের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

  • ডেসটিনি ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:২০:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৩
  • ১৩৫ বার পড়া হয়েছে

লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার  ৪৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। আজ শনিবার (২৬ আগষ্ট) তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বেলা ৩টায় বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার ওপর ও ডালিয়া পয়েন্টে ১৭ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তাপাড়ের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।

কয়েক দিনের অনবরত বৃষ্টিপাত আর উজানের পানিতে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আজ শনিবার (২৬ আগষ্ট) সকাল ৯টা থেকে তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ৮টি উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে শতাধিক চর ও নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এলাকার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।  এ তথ্য জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন  বলেন, তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কুড়িগ্রামের রাজারহাট, উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার তিস্তাপাড়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যন্য নদ-নদীর পানি বাড়ছে, তবে পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি না বাড়লে তিস্তার পানি দ্রুত নেমে যাবে।

এদিকে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার  বলেন, অনবরত বৃষ্টিপাত আর ভারতের উজানের পানি আসা অব্যাহত থাকায় তিস্তাপাড়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। লালমনিরহাটে ধরলা নদীর পানিও বাড়ছে, তবে তা এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। দীর্ঘদিন বালু ভরাট হয়ে তিস্তার মূল ভূখণ্ডের সমান হয়ে যাওয়ায় তিস্তায় একটু পানি বাড়লেই তা নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে চলে যায় এবং নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর গ্রামের কৃষক সুপেন চন্দ্র বর্মণ (৬৫) বলেন, শনিবার সকালে ঘরের ভেতর ২-৩ ফুট পানি প্রবেশ করেছে। তাও আমরা এখনো বাড়িতে রয়েছি। তিস্তায় আরেকটু পানি বাড়লে বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাব। তিস্তায় পানি বাড়লে আমাদের দুর্ভোগ বাড়ে।

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট এলাকার সুনীতি রানী (৩৫) বলেন, সন্তানদের নিয়ে খাটের ওপর বসে আছি। ঘরের ভেতর দিয়ে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আরেকটু পানি বাড়লে ঘরে থাকতে পারব না। অনেকে বাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে চলে গেছেন।

আদিতমারী উপজেলার গোবর্ধান এলাকার কৃষক ফজলার রহমান (৬৫) বলেন, খাটের ওপর দিয়ে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তারা বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের ওপর। গরু-ছাগল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তার ছয়টি মুরগি ও তিনটি হাঁস ভেসে গেছে নদীর পানিতে।

রাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন জানান, তার ইউনিয়নে ৬-৭ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। চরাঞ্চলের পানিবন্দি লোকজন চলে এসেছেন। আমন ধানের খেত তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে।

এদিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বলেন, তিস্তাপাড়ে পানিবন্দি লোকজনের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। তাদের খাদ্যসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী দিয়ে তাৎক্ষণিক সহায়তা করার প্রস্তুতি রয়েছে।

বিপৎসীমার ওপরে তিস্তা নদীর পানি

লালমনিরহাট-কুড়িগ্রামের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

আপডেট সময় ০৮:২০:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৩

লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার  ৪৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। আজ শনিবার (২৬ আগষ্ট) তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বেলা ৩টায় বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার ওপর ও ডালিয়া পয়েন্টে ১৭ সেন্টিমিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তাপাড়ের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।

কয়েক দিনের অনবরত বৃষ্টিপাত আর উজানের পানিতে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আজ শনিবার (২৬ আগষ্ট) সকাল ৯টা থেকে তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ৮টি উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে শতাধিক চর ও নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এলাকার অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।  এ তথ্য জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন  বলেন, তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কুড়িগ্রামের রাজারহাট, উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার তিস্তাপাড়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যন্য নদ-নদীর পানি বাড়ছে, তবে পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি না বাড়লে তিস্তার পানি দ্রুত নেমে যাবে।

এদিকে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার  বলেন, অনবরত বৃষ্টিপাত আর ভারতের উজানের পানি আসা অব্যাহত থাকায় তিস্তাপাড়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। লালমনিরহাটে ধরলা নদীর পানিও বাড়ছে, তবে তা এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। দীর্ঘদিন বালু ভরাট হয়ে তিস্তার মূল ভূখণ্ডের সমান হয়ে যাওয়ায় তিস্তায় একটু পানি বাড়লেই তা নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে চলে যায় এবং নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর গ্রামের কৃষক সুপেন চন্দ্র বর্মণ (৬৫) বলেন, শনিবার সকালে ঘরের ভেতর ২-৩ ফুট পানি প্রবেশ করেছে। তাও আমরা এখনো বাড়িতে রয়েছি। তিস্তায় আরেকটু পানি বাড়লে বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাব। তিস্তায় পানি বাড়লে আমাদের দুর্ভোগ বাড়ে।

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট এলাকার সুনীতি রানী (৩৫) বলেন, সন্তানদের নিয়ে খাটের ওপর বসে আছি। ঘরের ভেতর দিয়ে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আরেকটু পানি বাড়লে ঘরে থাকতে পারব না। অনেকে বাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে চলে গেছেন।

আদিতমারী উপজেলার গোবর্ধান এলাকার কৃষক ফজলার রহমান (৬৫) বলেন, খাটের ওপর দিয়ে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তারা বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের ওপর। গরু-ছাগল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তার ছয়টি মুরগি ও তিনটি হাঁস ভেসে গেছে নদীর পানিতে।

রাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন জানান, তার ইউনিয়নে ৬-৭ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। চরাঞ্চলের পানিবন্দি লোকজন চলে এসেছেন। আমন ধানের খেত তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে।

এদিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বলেন, তিস্তাপাড়ে পানিবন্দি লোকজনের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। তাদের খাদ্যসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী দিয়ে তাৎক্ষণিক সহায়তা করার প্রস্তুতি রয়েছে।