ঢাকা , শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
১ নভেম্বর পরবর্তী শুনানী

তদন্ত কর্মকর্তা অবসরে, পাওয়া যাচ্ছে না জব্দ তালিকার ডকুমেন্ট

  • মোঃ আবুল হাছান।
  • আপডেট সময় ০১:৫৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৩
  • ৩২৩ বার পড়া হয়েছে

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর দৈনিক ডেসটিনির কাছে  বলেছেন, আমরা আজ বুধবার (২৫ অক্টোবর) আদালতের কাছে এই মামলায় দুদকের বিষয়টি বিস্তারিত উপস্থাপন করেছি। আমরা বলেছি,  ডেসটিনি ট্রি প্ল্যানটেশন মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারি পরিচালক মো: তৌফিকুল ইসলাম ইতিমধ্যে অবসরে চলে গেছেন। এই মামলায় জব্দ তালিকার চার ট্রাঙ্ক আলামত রয়েছে। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা অবসরে চলে যাওয়ায় ট্রাঙ্ক খুলে জব্দ তালিকার সকল প্রয়োজনীয় আলামত বের  করে আনা বা খুঁজে পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই এই মামলায় জব্দ তালিকার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দুদকের পক্ষে আদালতে সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। তাই সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

দুদকের পিপি আরো বলেন, এই মামলায় দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা যেন প্রতিদিন আদালতে উপস্থিত থাকেন সেজন্য দুদক কমিশনারের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

বুধবার (২৫ অক্টোবর ) দুপুর ১১টা ৪৫মিনিটে ডেসটিনি ট্রি প্ল্যানটেশন মামলা ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক সৈয়দ আরাফাত হোসেন এর এজলাসে অনুষ্ঠিত হয় । শুনানী শেষে আদালত আগামী ১ নভেম্বর পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য করেন।

মামলার শুনানীর সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের পিপি মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর ও সহকারী এডভোকেট মোঃ মোরশেদ আলম শুভ ।

অন্যদিকে ডেসটিনির আইনজীবি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট এহসানুল হক সমাজীর সহযোগী এডভোকেট মাসুদ ও এডভোকেট মোঃ শাহীনুর ইসলাম।

চলমান এই মামলার বিষয়ে দুদকের পিপি বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অবসরে গেলে তদন্ত কাজের জন্য আসতে হয় না ? উনাকে অফিসিয়ালি আসতে হবে । দরখাস্ত করেছি মনজুর হয়েছে। আমি দুর্নীতি দমন কমিশনের রিপ্রেজেন্টেটিভ । কমিশন থেকে যে অর্ডার আসবে আমি সেই অর্ডার বাস্তবায়ন করব।

পিপির বক্তব্য শুনে বিচারক দুদকের উদ্দেশ্যে বলেন, কোন ব্যক্তি যদি অনুপস্থিত থাকেন তাহলে মামলার কার্যক্রম কি তার স্বাভাবিক গতিতে চলবে না ? অবশ্যই চলবে । আপনারা দ্রুত প্রয়োজনী পদক্ষেপ গ্রহন করুন।

কোম্পানি পক্ষের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজীর সহযোগী এডভোকেট মাসুদুর রহমান বলেন, আজ মামলার সাক্ষ্য- বিচার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুদকের পক্ষ থেকে সময়ের আবেদন করা হয়েছে। তখন আমরা আদালতকে বলেছি যে আমরা দীর্ঘ দিন যাবত কাস্টডিতে আছি।

এই মামলায় পূর্বে বলা হয়েছে, দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা যেন নিয়মিত আদালতে উপস্থিত থাকেন। মামলার প্রয়োজনীয় সকল প্রকার নথিপত্র সরবরাহ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের  পিটিশন শুনানী শেষে আদালত সেটা মনজুর করেন। এখন থেকে আমরা আশাকরি এই অর্ডার কমিশনে গেলে কমিশন হয়ত একটা ডিরেকশন দিবেন, যেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা (মোঃ তৌফিকুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক) প্রতি তারিখে আদালতে উপস্থিত থেকে  সহযোগিতা করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু আদালত থেকে একটা ফরমাল অর্ডার যাচ্ছে তাই সেই অনুযায়ী সামনে বিচারিক কার্যক্রম সঠিক ভাবে আগাবে। আমরা আদালতকে বলেছি যে, তিনটি তারিখ গিয়েছে কিন্তু কোন  সাক্ষী হচ্ছে না। আমরা আদালতকে আরো বলেছি যে, ইতিমধ্যে একটি মামলা  নিস্পত্তি হয়ে গিয়েছে।

শুনানীর সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন, ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড এর সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, পরিচালক ফারাহ দিবা।

ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি ও ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের নামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১২ সালের ৩১ জুলাই ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও ডেসটিনির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়।

রাজধানীর কলাবাগান থানায় এই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুই মামলায় মোট চার হাজার ১১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। দুই মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৫৩। ডেসটিনি-২০০০ লিঃ এর এমডি মোহাম্মদ রফিকুল আমিনসহ ১২ জনের নাম দুটি মামলাতেই রয়েছে।

আসামিদের মধ্যে আগে থেকেই কারাগারে আছেন মোহাম্মদ হোসেন ও মোহাম্মদ রফিকুল আমিন, ফারাহ দিবাহ। এই মামলায় জামিনে আছেন ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক সেনাপ্রধান লেঃ জেনারেল হারুন-অর রশিদ ।

১ নভেম্বর পরবর্তী শুনানী

তদন্ত কর্মকর্তা অবসরে, পাওয়া যাচ্ছে না জব্দ তালিকার ডকুমেন্ট

আপডেট সময় ০১:৫৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৩

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর দৈনিক ডেসটিনির কাছে  বলেছেন, আমরা আজ বুধবার (২৫ অক্টোবর) আদালতের কাছে এই মামলায় দুদকের বিষয়টি বিস্তারিত উপস্থাপন করেছি। আমরা বলেছি,  ডেসটিনি ট্রি প্ল্যানটেশন মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারি পরিচালক মো: তৌফিকুল ইসলাম ইতিমধ্যে অবসরে চলে গেছেন। এই মামলায় জব্দ তালিকার চার ট্রাঙ্ক আলামত রয়েছে। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা অবসরে চলে যাওয়ায় ট্রাঙ্ক খুলে জব্দ তালিকার সকল প্রয়োজনীয় আলামত বের  করে আনা বা খুঁজে পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই এই মামলায় জব্দ তালিকার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দুদকের পক্ষে আদালতে সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। তাই সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

দুদকের পিপি আরো বলেন, এই মামলায় দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা যেন প্রতিদিন আদালতে উপস্থিত থাকেন সেজন্য দুদক কমিশনারের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

বুধবার (২৫ অক্টোবর ) দুপুর ১১টা ৪৫মিনিটে ডেসটিনি ট্রি প্ল্যানটেশন মামলা ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক সৈয়দ আরাফাত হোসেন এর এজলাসে অনুষ্ঠিত হয় । শুনানী শেষে আদালত আগামী ১ নভেম্বর পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য করেন।

মামলার শুনানীর সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের পিপি মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর ও সহকারী এডভোকেট মোঃ মোরশেদ আলম শুভ ।

অন্যদিকে ডেসটিনির আইনজীবি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট এহসানুল হক সমাজীর সহযোগী এডভোকেট মাসুদ ও এডভোকেট মোঃ শাহীনুর ইসলাম।

চলমান এই মামলার বিষয়ে দুদকের পিপি বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অবসরে গেলে তদন্ত কাজের জন্য আসতে হয় না ? উনাকে অফিসিয়ালি আসতে হবে । দরখাস্ত করেছি মনজুর হয়েছে। আমি দুর্নীতি দমন কমিশনের রিপ্রেজেন্টেটিভ । কমিশন থেকে যে অর্ডার আসবে আমি সেই অর্ডার বাস্তবায়ন করব।

পিপির বক্তব্য শুনে বিচারক দুদকের উদ্দেশ্যে বলেন, কোন ব্যক্তি যদি অনুপস্থিত থাকেন তাহলে মামলার কার্যক্রম কি তার স্বাভাবিক গতিতে চলবে না ? অবশ্যই চলবে । আপনারা দ্রুত প্রয়োজনী পদক্ষেপ গ্রহন করুন।

কোম্পানি পক্ষের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজীর সহযোগী এডভোকেট মাসুদুর রহমান বলেন, আজ মামলার সাক্ষ্য- বিচার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুদকের পক্ষ থেকে সময়ের আবেদন করা হয়েছে। তখন আমরা আদালতকে বলেছি যে আমরা দীর্ঘ দিন যাবত কাস্টডিতে আছি।

এই মামলায় পূর্বে বলা হয়েছে, দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা যেন নিয়মিত আদালতে উপস্থিত থাকেন। মামলার প্রয়োজনীয় সকল প্রকার নথিপত্র সরবরাহ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের  পিটিশন শুনানী শেষে আদালত সেটা মনজুর করেন। এখন থেকে আমরা আশাকরি এই অর্ডার কমিশনে গেলে কমিশন হয়ত একটা ডিরেকশন দিবেন, যেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা (মোঃ তৌফিকুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক) প্রতি তারিখে আদালতে উপস্থিত থেকে  সহযোগিতা করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু আদালত থেকে একটা ফরমাল অর্ডার যাচ্ছে তাই সেই অনুযায়ী সামনে বিচারিক কার্যক্রম সঠিক ভাবে আগাবে। আমরা আদালতকে বলেছি যে, তিনটি তারিখ গিয়েছে কিন্তু কোন  সাক্ষী হচ্ছে না। আমরা আদালতকে আরো বলেছি যে, ইতিমধ্যে একটি মামলা  নিস্পত্তি হয়ে গিয়েছে।

শুনানীর সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন, ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড এর সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, পরিচালক ফারাহ দিবা।

ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি ও ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের নামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১২ সালের ৩১ জুলাই ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও ডেসটিনির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়।

রাজধানীর কলাবাগান থানায় এই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুই মামলায় মোট চার হাজার ১১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। দুই মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৫৩। ডেসটিনি-২০০০ লিঃ এর এমডি মোহাম্মদ রফিকুল আমিনসহ ১২ জনের নাম দুটি মামলাতেই রয়েছে।

আসামিদের মধ্যে আগে থেকেই কারাগারে আছেন মোহাম্মদ হোসেন ও মোহাম্মদ রফিকুল আমিন, ফারাহ দিবাহ। এই মামলায় জামিনে আছেন ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক সেনাপ্রধান লেঃ জেনারেল হারুন-অর রশিদ ।